স্পোর্টস রিপোর্টার
দুই বিশ্ব চ্যাম্পিয়নের লড়াই। ইতালি ও স্পেন। ইউরোর প্রথম সেমিফাইনালে স্পেনকে ৯০ মিনিটের লড়াইয়ে ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণ হয়ে যাচ্ছিল। ১-০ গোলে এগিয়ে ছিল ইতালি। ৮০ মিনিটে স্পেন গোলটা শোধ করে ম্যাচে ফিরে আসে। ১-১ গোলের উত্তেজনায় ঠাসা ম্যাচটা অতিরিক্তি ৩০ মিনিট গড়িয়ে টাইব্রেকিংয়ে এসে থামে। টাইব্রেকিংয়ে ইতালি ৪-২ গোলে স্পেনকে হারিয়ে ইউরোর ফাইনালের টিকিট পেয়েছে। সেমিফাইনাল জয়ে ইতালি টানা ৩৩ ম্যাচ অপরাজিত থাকার গৌরব ধরে রেখেছে। ফাইনালে গিয়ে কি হবে তা এখনই বলা যাবে না, তবে টানা জয়ে আপাতত ইতালি এগিয়ে থাকছে।
ইতালি ফাইনালের মঞ্চে উঠলেও স্পেন দারুণ খেলেছিল। প্রথমার্ধে স্পেন আক্রমণের সে াতে ইতালিকে ভয় দিলেও গোলের সুযোগ কাজে লাগতে না পারা ছিল বড় ব্যর্থতা। কোচ লুইস এনরিখ আফসোসে পুড়ছিলেন। ইতালির রক্ষণের খবর সবারই জানা। তাদেরকে ভাঙতে বুলডোজার আক্রমণ না করা গেলে ফিরে আসতে হয়। দ্বিতীয়ার্ধে কোচ রাবার্তো মাননিচির ইতালি ছন্দে ফিরতে শুরু করে। ৬০ মিনিটে ইতালির ফেডরিকা কিয়েসা গোল করলেও গোলের বড় উত্স ছিলেন দলের গোলকিপার দোনারোমা। স্পেনের আক্রমণ সামাল দিয়ে এই গোলকিপার বলটা নিয়েই বক্সের বাইরে গিয়ে কাউন্টার আক্রমণে ফেলেন। সেখান থেকেই গোলের উত্স তৈরি হয়। সিমন বল ঠেলে দেন কিয়েসাকে। অসাধারণ দক্ষতায় ডিফেন্ডারদের ফাঁকি দিয়ে গোল করেন কিয়েসা।
লন্ডনে ওয়েম্বিলর মাঠে গোল করে ইতালি রক্ষণে চলে যায়। মানচিনি বারবার ওপরে ওঠার জন্য ধাক্কা দিচ্ছিলেন। স্পেন তখন মরিয়া। গতির কাছে ইতালির ফুটবলাররা অনেকটাই দিশেহারা। ৬২ মিনিটে স্পেনের কোচ লুইস এনরিক ফেরেন তোরেসকে তুলে নিয়ে স্ট্রাইকার আলভেরো মোরাতাকে নামালেন। এই স্ট্রাইকার একাদশে খেলেন তাকে ইতালির ম্যাচে বাইরে রাখলেন মাঠে নেমেই মোরাতা ৮০ মিনিটে গোল করে হার থেকে ম্যাচ বাঁচালেন। খেলা শেষ হওয়ার মিনিট দশেক বাকি। স্পেনের রক্ষণ হতে লিয়োনার্দো বুনচ্চিরা দৌড়ে এসে গোল বাঁচাতে পারেননি। মাথায় বাজ পড়ল ইতালির। দানিয়েল হতে গোল করলেন মোরাতা। স্প্যানিশদের কাছে নায়ক হয়ে গেলেন এই দুজনই। দুর্ভাগ্য হলেও সত্য টাইব্রেকিংয়ে এই দুজনই ভিলেন হয়ে গেলেন।
টাইব্রেকিংয়ে ইতালি এবং স্পেনের প্রথম দুই শট গোল হয়নি। স্পেনের শট মিস করেছেন দানিয়েল ওলমো। দুই দলের অন্যরা একে একে স্পটকিকে গোল করলেও স্পেনের চতুর্থ শটে আলভের মোরাতা মিস করেন। তার শট ঠেকিয়ে দেন গোলকিপার দোনারোমা। শেষ শটে ইতালির চেলসির ফুটবলার জর্জিনো ঠান্ডা মাথায় গোল করলে ইতালি ফাইনালে উঠে, বিদায় হয় স্পেনের।
