শাহীন হাফিজ, বরিশাল অফিস
বরিশালে চাহিদার তুলনায় টিসিবির পণ্য অপ্রতুল হওয়ায় দীর্ঘ লাইনে কয়েক ঘণ্টা দাঁড়িয়ে থাকতে হচ্ছে ক্রেতাদের। ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি) ২৪টি ট্রাকে বরিশাল বিভাগের ৬ জেলাসহ বিভিন্ন উপজেলায় গত ৫ জুন থেকে এ কার্যক্রম শুরু করেছে। প্রত্যেকটি ট্রাকে ডিলারদের মাধ্যমে কেজি প্রতি ৫৫ টাকা দরে ৫শ’ কেজি ডাল, কেজি প্রতি ৫৫ টাকা দরে ৪শ’ কেজি চিনি এবং লিটার প্রতি ১শ’ টাকা দরে এক হাজার ডিলার সয়াবিন তেল বিক্রি কার্যক্রম চালাচ্ছে। বিভাগীয় শহর বরিশালের জন্য দৈনিক ৫টি ট্রাক, অন্য জেলাগুলোতে ২টি করে এবং ৯টি ট্রাক বিভিন্ন উপজেলায় ঘুরে ঘুরে এসব পণ্য বিক্রি করছে।
এসব ট্রাকে দৈনিক ২৫০ থেকে ৩শ’ জন ক্রেতার জন্য পণ্য থাকলেও লাইনে ৭ থেকে ৮শ’ লোক ভিড় করছে। দীর্ঘক্ষণ লাইনে দাঁড়ানোর ফলে এবং অনেকেই না পাওয়ার আশংকা থেকে হুড়োহুড়ি করার ফলে স্বাস্থ্য সচেতন থাকছে না। পুরুষের পাশাপাশি নারী ও শিশুরাও ব্যাগ হাতে দাঁড়াচ্ছে লাইনে। লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে থাকতে ক্লান্ত হয়ে রাস্তায় বসে পড়েন বয়স্ক ব্যক্তিরা। ভিড় হওয়ায় করোনা সংক্রামণের ঝুঁকি বাড়লেও দ্রব্যমূল্যের উর্ধ্বমুখির বাজারে একটু কম দামে পণ্য কিনতে চান তারা। তারা ট্রাকের সংখ্যা বাড়ানোর পাশাপাশি পণ্যের পরিমাণও বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন। টিসিবির ডিলাররা বলেন, শারীরিক দূরত্ব রক্ষা করে পণ্য বিক্রির চেষ্টা করছেন তারা। বিক্রি শেষ হয়ে গেলে অতিরিক্ত মানুষকে পণ্য দেওয়ার ব্যবস্থা নেই তাদের কাছে।
গতকাল বুধবার বেলা ১১টায় নগরীর আমতলা পানির ট্যাকিং এলাকার ডিলার পয়েন্টে গিয়ে দেখা গেছে, টিসিবির পণ্যবাহী ট্রাকের পেছনে দির্ঘ লাইন। পুরুষ এবং নারীদের দুটি লাইন করা হয়েছে। ব্যাগ হাতে লাইনে দাঁড়িয়ে আছে শিশুরাও। বেলা বাড়ার সাথে সাথে বেড়ে যায় লাইনের দৈর্ঘ্য।
টিসিবি ডিলার মো. জোবায়ের জানান, স্বাস্থ্য বিধি রক্ষা করে পণ্য বিক্রির চেষ্টা করছেন তারা। হ্যান্ড মাইকে কিছুক্ষণ পরপরই গ্রাহকদের সামাজিক দূরত্ব রক্ষা এবং মাস্ক পড়ার অনুরোধ করছেন। তিনি বলেন, আগে আসলে আগে পাবেন ভিত্তিতে বিক্রি করা হচ্ছে পণ্য।
টিসিবির বরিশাল আঞ্চলিক কার্যালয় সূত্র জানায়, আসন্ন ঈদুল আজহা, বন্যা পরিস্থিতি এবং লকডাউনে স্বল্প আয়ের মানুষের জন্য গত ৫ জুলাই থেকে শুরু করা এ কার্যক্রম ২৮ জুলাই পর্যন্ত অব্যাহত থাকবে। বরিশালের ৪০ উপজেলা ও সিটি করপোরেশন এলাকার ২০২ জন ডিলারদের মাধ্যমে শুক্রবার ব্যতিত প্রতিদিন গড়ে ২৪ জন ডিলারের মাধ্যমে এ কার্যক্রম চলমান রয়েছে।
টিসিবি’র বরিশাল আঞ্চলিক কার্যালয়ের প্রধান শহিদুল ইসলাম জানান, স্বাস্থ্য সচেতনার জন্য প্রত্যেক ডিলারকে একটি করে হ্যান্ডমাইক সহ একজন ভলান্টিয়ারের ব্যবস্থা করা হয়েছে। এছাড়াও তারা সার্বক্ষণিক মনিটরিং করছেন। তবে চাহিদার তুলনায় পণ্য অপ্যতুল হওয়ায় মানুষের ভিড় বেড়েছে। মানুষের চাহিদা অনুধাবন করে ভবিষ্যতে ব্যাপক আকারে টিসিবির পণ্য বিক্রির পরিকল্পনা রয়েছে তাদের।
