চট্টগ্রাম অফিস
দেশে কার্পজাতীয় মাছের একমাত্র প্রাকৃতিক প্রজননক্ষেত্র ও সরকার ঘোষিত বঙ্গবন্ধু হ্যারিটেজ হালদা নদীর শাখা খালে একটি মৃত ডলফিন ভেসে উঠেছে। অবশ্য গবেষকরা মনে করছেন, পূর্ণ জীবন মেয়াদ শেষে হালদা নদীতে ডলফিনটির স্বাভাবিক মৃত্যু হয়েছে। জোয়ারের পানিতে ভাসতে ভাসতে সেটি শাখা খালে ঢুকে পড়ে। মঙ্গলবার দুপুরে হাটহাজারী উপজেলার মেখল ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের চানখালী খাল থেকে ডলফিনটি উদ্ধার করা হয়।
হাটহাজারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুহুল আমীন জানান, স্থানীয় লোকেরা চানখালী ব্রিজের নিচে মৃত ডলফিনটি দেখতে পেয়ে জানান। আমরা সেটি উদ্ধার করেছি। এরপর আমরা হালদা রিভার রিচার্স ল্যাবরেটরির টিমকে জানাই। তারা আমাদের বলেছেন, ডলফিনটিকে হত্যা করা হয়েছে কি না, সেটি নিশ্চিত হতে এটির ছবি তুলে নোট করে রাখতে বলা হয়েছে। এরপর সেটিকে আপাতত মাটিচাপা দিয়ে রাখতে বলেছেন তারা। একমাস পর প্রয়োজনে তারা কঙ্কাল তুলে পরীক্ষা করবেন।
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণী বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ও হালদা রিচার্স ল্যাবরেটরির কো-অর্ডিনেটর ড. মনজুরুল কিবরিয়া ইত্তেফাককে বলেন, প্রায় সাড়ে সাত ফুট দৈর্ঘ্যের ডলফিনটির ওজন প্রায় ১২০ কেজি। স্থানীয়রা এর শরীরে জখমের কোনো চিহ্ন দেখেননি। ধারণা করা হচ্ছে, বয়স পরিপূর্ণ হওয়ায় ডলফিনটির স্বাভাবিক মৃত্যু হয়েছে। এরপরও প্রয়োজনে ময়নাতদন্ত করা হবে।
বিশেষজ্ঞরা জানান, ইন্টারন্যাশনাল ইউনিয়ন ফর কনজারভেশন অব নেচার (আইইউসিএন) গাঙ্গেয় ডলফিনকে বিপন্ন হিসেবে লাল তালিকাভুক্ত করা হয়েছে। ২০১২ সালের বাংলাদেশ বন্যপ্রাণী (সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা) আইনের তপশিল-১ অনুসারে এই প্রজাতিটি সংরক্ষণযোগ্য।
স্থানীয় সূত্র মতে, ২০১৭ সালের সেপ্টেম্বর থেকে ২০১৮ সালের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ছয় মাসে হালদা নদীতে ১৮টি মৃত ডলফিন পাওয়া যায়। অপরদিকে হালদা গবেষকদের অনুসন্ধান তালিকা অনুসারে ২০১৮ সালের মার্চ থেকে ২০২০ সালের মধ্যে ১০টি মৃত ডলফিন পাওয়া গেছে। এর মধ্যে সর্বশেষ ২০২০ সালের ৮ মে একটি মৃত ডলফিন পাওয়া যায় এবং দেখা গেছে পাচারকারিরা পরিকল্পিতভাবে হত্যা করে ডলফিনটির চর্বি সংগ্রহ করেছে।
