আড়ানী পৌর মেয়রের বাড়ি থেকে অবৈধ অস্ত্র মাদক ও টাকা উদ্ধার

আপডেট : ০৭ জুলাই ২০২১, ২২:১৬

স্ত্রী ও দুই ভাতিজা আটক

স্টাফ রিপোর্টার, রাজশাহী ও বাঘা সংবাদদাতা

রাজশাহীর বাঘা উপজেলার আড়ানী পৌরসভার মেয়র মুক্তার আলীর বাড়িতে অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ অবৈধ অস্ত্র, গোলাবারুদ, মাদক ও প্রায় ১ কোটি নগদ টাকা উদ্ধার করা হয়েছে। মঙ্গলবার গভীর রাতে এ অভিযানকালে মেয়রকে বাড়িতে না পেয়ে তার স্ত্রী মোছা. জেসমিন আক্তার ও দুই ভাতিজাকে আটক করা হয়। পৌর এলাকার বাসিন্দা মনোয়ার হোসেন মজনু নামে এক ব্যক্তিকে মারপিটের অভিযোগে মেয়র মুক্তার আলীর বাড়িতে অভিযান চালায় পুলিশ। তবে ঘটনাটিকে ষড়যন্ত্র বলে দাবি করেছেন মেয়রের স্ত্রী ও তার স্বজনেরা।

থানা সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার সন্ধ্যায় আড়ানী পৌর এলাকার বাসিন্দা ও পল্লী চিকিত্সক মনোয়ার হোসেন মজনুকে তার বাড়িতে ঢুকে মারপিট করেন মেয়র মুক্তার আলী ও তার সহযোগী অংকুর আলীসহ অজ্ঞাতনামা আরো চার-পাঁচ জন। এ মামলায় রাত ৩টার দিকে সহকারী পুলিশ সুপার আবু সালে মোহা. আশরাফুল আলম, চারঘাট সার্কেলের এএসপি মো. রুবেল হোসেন ও বাঘা থানার অফিসার ইনচার্জ নজরুল ইসলাম সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে মুক্তার আলীর বাড়িতে অভিযান পরিচালনা করেন। এ সময় পুলিশ মুক্তার আলীর ঘর থেকে ৯৪ লাখ ৯৮ হাজার নগদ টাকা, একটি বিদেশি পিস্তল, একটি সাটার গান, দুটি বন্দুক, ৪৩ রাউন্ড তাজা গুলি এবং সাতপুরিয়া হেরোইন, ১০ গ্রাম গাঁজা ও ২০ পিস ইয়াবা জব্ধ করেন। একই সঙ্গে মুক্তার আলীর স্ত্রী জেসমিন আক্তার এবং ভাতিজা সোহাগ ও শান্ত ইসলামকে আটক করেন।

বাঘা থানার ওসি নজরুল ইসলাম জানান, অন্যায়ভাবে মারপিট, মাদক এবং অবৈধ অস্ত্র রাখার অভিযোগে থানায় পৃথক তিনটি মামলা হয়েছে। এর মধ্যে মুক্তার আলীর বিরুদ্ধে মারপিট, মাদক এবং অস্ত্র মামলা করা হয়েছে। একই সঙ্গে তার স্ত্রীর নামে দুটি মামলা এবং তার দুই ভাতিজার বিরুদ্ধে মারপিট মামলায় বুধবার সকালে আদালতে পাঠানো হয়।

এ বিষয়ে মেয়র মুক্তার আলীর সঙ্গে কথা বলার চেষ্টা করা হলেও তার ব্যবহূত মোবাইল ফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়। তবে পৌর কাউন্সিলর কার্তিক হালদার ও মানিক মিয়া, ছেলের শ্বশুর আলহাজ শামিম হোসেন, স্ত্রী জেসমিন আক্তার ও নিকটাত্মীয় নাজমুল হোসেন বলেন, বাড়িতে টাকা পাওয়ার ঘটনাটি সঠিক। এটি ঐ দিন বিকালে পাওয়া ব্যবসা-সংক্রান্ত টাকা। তবে অস্ত্র, গুলি এবং মাদক পাওয়ার পেছনে রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র রয়েছে। তারা বলেন, গত পৌর নির্বাচনে মুক্তার আলী দলীয় মনোনয়ন না পেয়ে সরকারদলীয় প্রার্থীর বিরুদ্ধে বিদ্রোহী প্রার্থী হয়ে নির্বাচনে জয়ী হন। এরপর থেকে একটি মহল তাকে নানাভাবে ফাঁসানোর চেষ্টা করছে। হতে পারে এটি তারই একটি অংশ।