এবার দৈনিক মৃত্যু ২০০ অতিক্রম

আপডেট : ০৭ জুলাই ২০২১, ২২:২৫

দেশে করোনায় এক দিনে সর্বোচ্চসংখ্যক মানুষের মৃত্যুর নতুন রেকর্ড হয়েছে। গতকাল বুধবার সকাল ৮টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় করোনায় সংক্রমিত ২০১ জনের মৃত্যু হয়েছে। দেশে প্রথমবারের মতো করোনায় এক দিনে মৃত্যু ২০০ ছাড়াল। দৈনিক মৃত্যুর সংখ্যা গত ২৭ জুন থেকেই শতাধিক থাকছিল প্রতিদিন। এর মধ্যে ৪ জুলাই প্রথমবারের মতো মৃত্যুর সংখ্যা দেড় শ ছাড়িয়ে যায়। তিন দিনের মাথায় তা এক লাফে ২০০ ছাড়িয়ে  গেল। মহামারির ১৬ মাসে এক দিনে এত মৃত্যু আর কখনো দেখতে হয়নি বাংলাদেশকে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, গত এক দিনে দেশে ৩৭ হাজার নমুনা পরীক্ষা করে আরো ১১ হাজার ১৬২ জনের মধ্যে করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ ধরা পড়েছে। করোনা ভাইরাসের ডেলটা ধরনের ব্যাপক বিস্তারের মধ্যে এপ্রিলের রেকর্ড ভেঙে দৈনিক শনাক্ত রোগীর সংখ্যা ৮ হাজার ছাড়ায় গত ২৮ জুন। এরপর ১ জুলাই থেকে সারা দেশে লকডাউনের কঠোর বিধিনিষেধ জারি হয়। এর মধ্যেই মঙ্গলবার রেকর্ড ১১ হাজার ৫২৫ জন রোগী শনাক্তের খবর আসে। এর পরদিন শনাক্ত রোগীর সংখ্যা কিছুটা কমলেও এখনো তা ১১ হাজারের ওপরে রয়েছে। নতুন রোগীদের নিয়ে দেশে এ পর্যন্ত মোট শনাক্ত রোগীর সংখ্যা পৌঁছেছে ৯ লাখ ৭৭ হাজার ৫৬৮তে। তাদের মধ্যে মোট ১৫ হাজার ৫৯৩ জনের প্রাণ কেড়ে নিয়েছে এ ভাইরাস।

যে ২০১ জন গত এক দিনে মারা গেছেন, তাদের ৬৬ জনই ছিলেন খুলনা বিভাগের বাসিন্দা। ঢাকা বিভাগে মৃত্যু হয়েছে ৫৮ জনের। চট্টগ্রাম বিভাগে ২১ জন, রাজশাহী বিভাগে ১৮ জন, বরিশাল বিভাগে ৭ জন, সিলেট বিভাগে ৯ জন, রংপুর বিভাগে ১৪ জন আর ময়মনসিংহ বিভাগে ৮ জন মারা গেছেন। কেবল ঢাকা বিভাগেই গত এক দিনে ৪ হাজার ৭৩২ জন নতুন রোগী শনাক্ত হয়েছে, যা দিনের মোট শনাক্তের ৪২ শতাংশের বেশি। খুলনা বিভাগে এক দিনে শনাক্ত রোগী বেড়ে হয়েছে ১ হাজার ৯০০, চট্টগ্রামেও দেড় হাজারের ওপরে। সরকারি হিসাবে গত এক দিনে আরো ৫ হাজার ৯৮৭ জন সুস্থ হয়ে উঠেছে। এ পর্যন্ত মোট সুস্থ হয়েছে ৮ লাখ ৫০ হাজার ৫০২ জন। গত ২৪ ঘণ্টায় করোনায় রোগী শনাক্তের হার ৩১ দশমিক ৩২ শতাংশ আর এখন পর্যন্ত শনাক্তের হার ১৪ দশমিক ৩১ শতাংশ। শনাক্ত বিবেচনায় সুস্থতার হার ৮৭ শতাংশ আর শনাক্ত বিবেচনায় মৃত্যুর হার ১ দশমিক ৬০ শতাংশ। গত ২৪ ঘণ্টায় মারা যাওয়া ২০১ জনের মধ্যে পুরুষ ১১৯ জন আর নারী ৮২ জন। এখন পর্যন্ত করোনায় আক্রান্ত হয়ে পুরুষ মারা গেলেন ১১ হাজার ২ জন আর নারী মারা গেছেন ৪ হাজার ৫৯১ জন। এক দিনে মৃতদের মধ্যে বয়স বিবেচনায় ষাটোর্ধ্ব রয়েছেন ১১৫ জন, ৫১ থেকে ৬০ বছরের মধ্যে আছেন ৪৭ জন, ৪১ থেকে ৫০ বছরের মধ্যে ২৫ জন, ৩১ থেকে ৪০ বছরের মধ্যে ৯ জন, ২১ থেকে ৩০ বছরের মধ্যে ৪ জন আর ১১ থেকে ২০ বছরের মধ্যে রয়েছে একজন।

এদিকে দেশের চলমান লকডাউন বা কঠোর বিধিনিষেধ অমান্য করার ঘটনা ঘটছে। এতে করে রোগীর সংখ্যা যদি অস্বাভাবিক বেড়ে যায়, তাহলে আবারও চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হবে বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। গতকাল স্বাস্থ্য অধিদপ্তর আয়োজিত ভার্চুয়াল বুলেটিনে এই শঙ্কা প্রকাশ করেন অধিদপ্তরের মুখপাত্র অধ্যাপক ডা. নাজমুল ইসলাম। জানুয়ারিতে শনাক্ত রোগীর সংখ্যা ছিল ২১ হাজার ৬২৯ জন। এপ্রিলে  সেটি লাখ ছাড়িয়েছিল। জুন মাসে ১ লাখ ১২ হাজার ৭১৮ জনে থেমে ছিল আর জুলাইয়ের মাত্র সাত দিন অতিক্রান্ত হচ্ছে। সাত দিনের মধ্যে ছয় দিনে ৫৩ হাজার ১৪৮ জনকে শনাক্ত করা হয়েছে। অধ্যাপক ডা. নাজমুল ইসলাম বলেন, ‘সংক্রমণের উচ্চমুখী এই প্রবণতা যদি অব্যাহত থাকে, জুলাইয়ে রোগীর সংখ্যা এপ্রিল ও জুন মাসকে ছাড়িয়ে যাবে।’