ক্রিস্টাল মেথ বা আইস, খাট, এলএসডির পর নতুন আরেকটি মাদকের সন্ধান পাওয়া গেছে বাংলাদেশে। নতুন এ মাদকের নাম ‘ম্যাজিক মাশরুম’। কেক ও চকোলেট মিশ্রিত খাবারের সঙ্গে সেবন করা হয় এটি। এ মাদক সেবনকারীর মধ্যে হ্যালুসিনেশন তৈরি হয়।
র্যাব মঙ্গলবার রাজধানীর হাতিরঝিল এলাকা থেকে ম্যাজিক মাশরুম ও বিদেশি মদসহ দুই যুবককে গ্রেফতার করে। গ্রেফতারকৃতদের নাম নাগিব হাসান অর্ণব ও তাইফুর রশিদ জাহিদ। তাদের কাছ থেকে উদ্ধার করা হয় ম্যাজিক মাশরুমের পাঁচটি বার। প্রত্যেক বারে রয়েছে ২৪টা করে স্লাইড। প্রতিটি বারে ম্যাজিক মাশরুমের পরিমাণ ২ হাজার ৫০০ মিলিগ্রাম। র্যাব জানিয়েছে, পাউডার, ক্যাপসুল হিসেবেও পাওয়া যায় এ মাদক। এটি ব্যবহারের পর সেবনকারীর নিজের ওপর নিয়ন্ত্রণ থাকে না। এটি সেবনের পর আত্মধ্বংসী প্রবণতা দেখা দিতে পারে। উচ্চ শিক্ষার জন্য বিদেশ যাওয়া যুবকদের কয়েকজন দেশে এ মাদক নিয়ে আসছেন।
গতকাল বুধবার কাওরান বাজার র্যাব মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে র্যাব সদর দপ্তরের লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া উইংয়ের পরিচালক কমান্ডার খন্দকার আল মঈন এসব তথ্য জানিয়ে বলেন, মঙ্গলবার দিবাগত রাত পৌনে ২টার দিকে র্যাব সদর দপ্তরের গোয়েন্দা শাখা ও র্যাব-১০-এর একটি বিশেষ দল হাতিরঝিল এলাকা থেকে দুই যুবককে গ্রেফতার করে। গ্রেফতারকৃত নাগিব হাসান অর্ণব বাংলাদেশে এসএসসি পর্যন্ত পড়ালেখা করেছে। তাইফুর রশিদ জাহিদ তার সহপাঠী ছিল। অর্ণব ২০১৪ সালে লেখাপড়া করতে কানাডায় যায়। লেখাপড়া শেষ করে সেখানেই কাজে যোগ দেয়। তাইফুর রশিদ জাহিদ গাঁজা ও মদপানে আসক্ত ছিল। ২০১৯ সালে এলএসডি, ডিএমটিসহ বিভিন্ন ধরনের সাইকেডেলিক ড্রাগ নিয়মিত সেবন ও বিক্রি শুরু করে সে। সাইকেডেলিক ড্রাগ সম্পর্কে তার আগ্রহ সৃষ্টি হলে ইন্টারনেটে এ বিষয়ে অনুসন্ধান শুরু করেন তিনি।
এরপর জাহিদ বাংলাদেশে জন্মানো বিভিন্ন মাশরুমের মধ্যে সাইকেডেলিক বা ম্যাজিক মাশরুম আছে কি না তা খুঁজে বের করার চেষ্টা করে। ডার্ক সাইটে ম্যাজিক মাশরুমের খোঁজ পায় সে। এরপর বিদেশে অবস্থানরত তার বন্ধু ও পরিচিতদের ম্যাজিক মাশরুম বাংলাদেশে নিয়ে আসতে অনুরোধ করে সে। জাহিদের প্রস্তাবে রাজি হয় কানাডায় অবস্থানরত অর্ণব। চলতি বছরের মে মাসে ম্যাজিক মাশরুমের বড় একটি চালান নিয়ে বাংলাদেশে আসে অর্ণব।
এ মাদককে বিপজ্জনক আখ্যা দিয়ে কমান্ডার মঈন জানান, এই মাদক সেবনে ১০ থেকে ১৫ মিনিটের মধ্যে প্রতিক্রিয়া শুরু হয়, থাকে আট থেকে ১০ ঘণ্টা পর্যন্ত। এটি সেবন করার পর নিজের ওপর নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে জাহিদ অত্যন্ত বীভত্সভাবে নিজের হাতের বিভিন্ন অংশ ধারালো অস্ত্র দিয়ে কেটে ফেলে।
কীভাবে এই মাদকের পেমেন্ট ও আমদানি হচ্ছে জানতে চাইলে কমান্ডার মঈন বলেন, প্রত্যেকটি বারে থাকে ২৪টি করে স্লাইড। একেকটি বার বাংলাদেশে ২৫ হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছিল। বিট কয়েন, পেপলসহ অনলাইন পেমেন্ট গেটওয়ের মাধ্যমে এই মাদক বেচাকেনা হয়। কখনো কারবারি নিজেই চকোলেটের আড়ালে এই ম্যাজিক মাশরুম দেশে আনছে, আবার কখনো যাত্রীর লাগেজের মাধ্যমেও এই মাদক দেশে আমদানি করা হচ্ছে।
নতুন এই মাদকের দাম দেশে বেশি, কিন্তু বিদেশে কম। এর আমদানি খরচও কম। লাভজনক হওয়ায় এ মাদকের ব্যবসা ও ব্যবহার বাড়ছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
