ভারতের পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জিকে ৫ লাখ রুপি জরিমানা করেছে কলকাতা হাইকোর্ট। বিধানসভা নির্বাচনে নন্দীগ্রামে তার পরাজয়কে চ্যালেঞ্জ করে ভোট পুনর্গণনার জন্য মমতা ব্যানার্জি যে মামলা দায়ের করেছিলেন, তারই সঙ্গে সম্পৃক্ত একটি আবেদনের জন্য আদালত এই জরিমানা করেছে।
বিবিসির খবরে বলা হয়েছে, মূল মামলাটি যে এজলাসে বিচারের জন্য গিয়েছিল, তার বিচারক বদলের জন্য আবেদন করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা। ঐ বিচারক, কৌশিক চন্দ বিচারপতি হওয়ার আগে বিজেপির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন, যে কারণে তিনি ন্যায়বিচার পাবেন না মনে করে আবেদন করেছিলেন মমতা। বিচারপতি কৌশিক চন্দের কাছেই সেই আবেদন করেছিলেন তিনি। গতকাল বুধবার মুখ্যমন্ত্রীর আবেদনটি খারিজ করে দিয়ে বিচারপতি চন্দ মন্তব্য করেছেন যে, তিনি মনে করেন না এই মামলায় তার দিক থেকে কোনো স্বার্থের সংঘাত ছিল। প্রত্যেক ব্যক্তিরই রাজনৈতিক ঝোঁক থাকতে পারে। কিন্তু এটা ভাবা অত্যন্ত ভুল যে একজন বিচারক তার কর্তব্য পালন করতে ব্যর্থ হবেন। এই ক্ষেত্রে নিরপেক্ষতার প্রকাশ একজন সাধারণ মানুষের দৃষ্টিভঙ্গিতে দেখলে চলবে না।
তিনি বলেন, বিচারপতিরাও গণতান্ত্রিক অধিকার প্রয়োগ করেন। তারাও বিভিন্ন রাজনৈতিক দলকে ভোট দেন। তাছাড়া বিচারপতির নিয়োগ সংক্রান্ত সিক্রেট রিপোর্ট জনসমক্ষে আনাটা কি ঠিক? একজন মুখ্যমন্ত্রী গোপনীয়তা বজায় রাখারও শপথ নেন।
তিনি বলেন যে, আবেদনকারীর মামলাটি শোনার তার কোনো ব্যক্তিগত আগ্রহ নেই, আবার মামলাটি শুনতে তার দ্বিধাও নেই। প্রধান বিচারপতি যে মামলা তার কাছে পাঠিয়েছেন, সেটি শোনা তার সাংবিধানিক দায়িত্ব ও কর্তব্যের মধ্যে পড়ে। এসব কারণ দেখিয়েই তিনি মমতা ব্যানার্জির মামলা সরিয়ে নেওয়ার আবেদনটি খারিজ করে তাকে ৫ লাখ রুপি জরিমানা জমা দিতে বলেন। বিচার ব্যবস্থাকে কলুষিত করার জন্যই জরিমানা করা হয়েছে। তবে, তিনি যে এই মামলা থেকে অব্যাহতি নিচ্ছেন, সেটাও রায়ে উল্লেখ করেছেন। কারণ হিসেবে বিচারপতি বলেন, তিনি যদি মামলাটি থেকে সরে না যান তাহলে এই বিতর্ক থামবে না।
আনন্দবাজার পত্রিকার খবরে বলা হয়েছে, ঐ জরিমানার অর্থ জমা দিতে হবে পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য বার কাউন্সিলে, যা পরবর্তীকালে কোভিড-১৯ চিকিত্সায় ব্যবহূত হবে। এবার এই মামলা কোন বেঞ্চে যাবে, ‘মাস্টার অব রোস্টার’ হিসেবে তা ঠিক করবেন হাইকোর্টের ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি রাজেশ বিন্দল।
রায়ের পরে নন্দীগ্রামে মমতা ব্যানার্জির নির্বাচনি এজেন্ট শেখ সুফিয়ান জানিয়েছেন, একজন মুখ্যমন্ত্রীকে এভাবে জরিমানা করা লজ্জাজনক ঘটনা। জরিমানার ব্যাপারটা কখনই মানা যায় না। মামলা সরানোর আবেদন করেছিলাম বলেই জরিমানা করা হয়েছে। আমরা এই জরিমানার বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টে যাব।
তৃণমূলের রাজ্যসভা এমপি তথা জাতীয় মুখপাত্র ডেরেক ও ব্রায়েন টুইট বার্তায় বলেছেন, আমরা এমন একটা পৃথিবীতে বাস করছি যেখানে সত্যি কথা বলার জন্য ৫ লাখ রুপি জরিমানা দিতে হয়।
