ভি২০ ক্লাইমেট ভালনারেবলস ফাইন্যান্স সামিট আজ বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় ভার্চুয়াল প্ল্যাটফরমে অনুষ্ঠিত হবে। জলবায়ু পরিবর্তনজনিত ঝুঁকিতে থাকা দেশগুলোর রাষ্ট্র ও সরকার প্রধানদের ফোরাম ক্লাইমেট ভালনারেবল ফোরামের (সিভিএফ) বর্তমান সভাপতি বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এই শীর্ষ সম্মেলন উদ্বোধন করবেন।
এ উপলক্ষ্যে গতকাল বুধবার আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল জানান, এ সম্মেলনে ভালনারেবল-২০ (ভি২০) দেশগুলোর বেশ কয়েক জন সরকার ও রাষ্ট্র প্রধান, জি২০ এবং শীর্ষস্থানীয় আন্তর্জাতিক আর্থিক প্রতিষ্ঠান এবং জাতিসংঘের মহাসচিব ভার্চুয়াল প্ল্যাটফরমে যোগ দেবেন। আগামী নভেম্বরে গ্লাসগোতে অনুষ্ঠিত সিওপি-২৬-এর প্রাক্কালে অনুষ্ঠেয় এই শীর্ষ সম্মেলন জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলার লক্ষ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ হিসেবে বিবেচিত হবে বলে অর্থমন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন।
তিনি বলেন, জলবায়ু পরিবর্তন সারাবিশ্বের জন্যই হুমকি। কার্বন নিঃসরণের জন্য মূলত উন্নত বিশ্বই দায়ী। এজন্য জলবায়ু পরিবর্তনজনিত ঝুঁকিতে থাকা দেশগুলোকে সহায়তা করার জন্য তাদেরই এগিয়ে আসতে হবে।
এক প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী বলেন, বৈশ্বিক উষ্ণায়নে বাংলাদেশ কোনোভাবেই দায়ী নয়, কিন্তু এরপরেও জলবায়ু পরিবর্তনজনিত ক্ষতির শিকার হচ্ছে বাংলাদেশ। তিনি উদাহরণ দিয়ে বলেন, সমুদ্রসীমার উচ্চতা বৃদ্ধি পেলে মালদ্বীপ ও জাকার্তার মতো দ্বীপাঞ্চল পানির নিচে চলে যাবে। বাংলাদেশের উপকূলীয় অঞ্চলও ডুবে যাওয়ার ঝুঁকি রয়েছে। এই ক্ষতি মোকাবিলায় সরকারি উদ্যোগ বিষয়ে জানতে চাইলে অর্থমন্ত্রী বলেন, বর্তমান আওয়ামী লীগ সরকার জনগণের সুরক্ষা ও নিরাপত্তা প্রদানে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। ২০১০ সাল থেকে প্রতি বছর সরকার ২০০ কোটি ডলার (১৭০০০ কোটি টাকা) জলবায়ু পরিবর্তনজনিত প্রভাব মোকাবিলা, অভিযোজন এবং প্রশমনে ব্যয় করে আসছে। বর্তমান বাজেটও এ লক্ষ্যে ২৯০ কোটি ডলার (২৪৬৫০ কোটি টাকা) বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, আমাদের সরকার এ বিষয়ে অনেক বেশি গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে।
উল্লেখ্য, জলবায়ু পরিবর্তনজনিত ঝুঁকিতে থাকা দেশগুলোর অর্থমন্ত্রীদের ফোরাম ভালনারেবল-২০-এর (ভি২০) সভাপতি বাংলাদেশের অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। সম্মেলনে ফোরামভুক্ত কলম্বিয়া, কোস্টারিকা, ইথিওপিয়া এবং মার্শাল দ্বীপপুঞ্জের রাষ্ট্র ও সরকার প্রধানগণ উপস্থিত থাকবেন। পাশাপাশি বাংলাদেশ, আফগানিস্তান, ভুটান, বুর্কিনাফাসো, কোস্টারিকা, ডোমিনিকান প্রজাতন্ত্র, ঘানা, হাইতি, ইথিওপিয়া, ফিজি, গ্রানাডা, হুন্ডুরাস, মালদ্বীপ, মার্শাল দ্বীপপুঞ্জ, ফিলিপাইনস, তিমুর-লেস্টে এবং শ্রীলঙ্কাসহ সদস্য দেশগুলোর অর্থমন্ত্রীগণ এ সম্মেলনে যুক্ত থাকবেন। এছাড়াও সামিটের পরবর্তী অংশে মন্ত্রী পর্যায়ের সংলাপে উল্লিখিত দেশগুলোর অর্থমন্ত্রীগণের পাশাপাশি বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী, পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী অংশগ্রহণ করবেন।
জাতিসংঘ, শীর্ষস্থানীয় আন্তর্জাতিক আর্থিক প্রতিষ্ঠান এবং গুরুত্বপূর্ণ উন্নয়ন সহযোগীদের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠেয় এই সম্মেলন বিশ্বব্যাপী সহযোগিতা সৃষ্টির মাধ্যমে জলবায়ু পরিবর্তনজনিত অভিঘাত মোকাবিলায় ক্ষতিগ্রস্ত জনগোষ্ঠীর সহনশীলতা বৃদ্ধির উদ্যোগসমূহ ত্বরান্বিত করবে বলে আশা করা হচ্ছে। কমপক্ষে ২৭টি দেশের অর্থমন্ত্রী, জাতিসংঘের সেক্রেটারি জেনারেল, জলবায়ুসংক্রান্ত বিশেষ মার্কিনদূত, বিশ্বব্যাংকের প্রেসিডেন্ট, এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিবি) প্রেসিডেন্ট, এশীয় অবকাঠামো বিনিয়োগ ব্যাংকের (এআইআইবি) প্রেসিডেন্ট, ইউরোপীয়ান ইনভেস্টমেন্ট ব্যাংকের প্রেসিডেন্ট, গ্লোবাল এনভায়রনমেন্ট ফেসিলিটির (জিইএফ) সিইও, গ্রিন ক্লাইমেট ফান্ডের (জিসিএফ) নির্বাহী পরিচালক, ইন্টারন্যাশনাল রিনিউয়েবল এনার্জি এজেন্সির নির্বাহী পরিচালক, ইউনাইটেড ন্যাশন ইউনিভার্সিটি ইনস্টিটিউট ফর এনভায়রনমেন্ট অ্যান্ড হিউমেন সিকিউরিটি, ইউনাইটেড ন্যাশন এনভায়রনমেন্ট প্রোগ্রাম (ইউএনইপি), ইনসিওরেন্স ডেভেলপমেন্ট ফোরামসহ অন্যান্য স্টেকহোল্ডারগণ এ সম্মেলনে অংশ নেবেন বলে অর্থ মন্ত্রণালয় জানিয়েছে।
গতকালের সংবাদ সম্মেলনে অন্যদের মধ্যে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রী মো. শাহাব উদ্দিন, প্রধানমন্ত্রীর সিভিএফ-বিষয়ক বিশেষদূত মো. আবুল কালাম আজাদ, অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) সচিব ফাতিমা ইয়াসমিন এবং পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. মোস্তফা কামাল উপস্থিত ছিলেন।
প্রধানমন্ত্রীর উপহারের আরো ১২০০
কেজি আমের চালান গেল ভারতে
সিলেট অফিস ও জৈন্তা সংবাদদাতা জানান, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিশেষ উপহারের আমের আরো একটি চালান বুধবার পাঠানো হলো ভারতের মেঘালয়, মিজোরাম, আসাম ও অরুণাচলের মুখ্যমন্ত্রীদের জন্য। করোনা ভাইরাস সংক্রমণ রোধে চলমান লকডাউনে স্বাস্থ্যবিধি মেনে ঐ চার রাজ্যের মুখ্য মন্ত্রীদের কাছে ল্যাংরা, হিমসাগর, হাঁড়িভাঙা ও আম্রপালিসহ বিভিন্ন জাতের ১২০০ কেজি আম পাঠানো হয়।
দুই দেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে আমের চালান হস্তান্তর হয় গতকাল বিকালে। ভারতের ডাউকি দিয়ে পাঠানো ঐ আমের চালান গ্রহণ করেন গৌহাটিতে অবস্থিত বাংলাদেশ হাইকমিশনের অতিরিক্ত হাইকমিশনার সৈয়দ তানভির মনসুর। স্থলবন্দর সূত্রে জানা যায়, রংপুর থেকে সরাসরি পিকআপ ভ্যানে করে আমগুলো তামাবিল স্থলবন্দরে আনা হয় ১২০টি কার্টনে করে।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন গোয়াইনঘাটের উপজেলা নির্বাহী অফিসার তাহমিলুর রহমান, গোয়াইনঘাট থানার পরিদর্শক (তদন্ত) দিলীপ কান্ত নাথ, তামাবিল ইমিগ্রেশন পুলিশ চেক পোস্টের মো. মিজানুর রহমান, তামাবিল স্থলবন্দরের ডিডি মাহফুজ রহমান প্রমুখ। ভারতীয় অংশেও কাস্টমস, পুলিশ বিভাগ এবং বিএসএফ সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
