দুই বন্ধু। রানা ওরফে হূদয় ও উজ্জ্বল আলী। বয়স ২০ থেকে ২৫-এর মধ্যে। পেশায় তারা টাইলস মিস্ত্রি। দুজনের বাড়ি চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গায়। রাজধানীর বসুন্ধরা ও ভাটারা এলাকায় তারা মিস্ত্রির কাজ নেন। এর আড়ালে তারা মূলত ঐ এলাকা রেকি করেন। পরে সুবিধাজনক স্থানে চুরি-ছিনতাই ও ডাকাতির ঘটনা ঘটান। গত ১২ মে সন্ধ্যায় যমুনা ফিউচার পার্কের দক্ষিণ আউটগেট থেকে বসুন্ধরার আফরোজা রোডে যাওয়ার জন্য ভাড়ায় একটি মোটরবাইকে ওঠেন তারা। ভাড়া ঠিক হয় ৭০ টাকা। মোটরবাইক চালকের নাম আব্দুর রশিদ।
বসুন্ধরা আবাসিক এলাকা থেকে তাকে নেওয়া হয় ৩০০ ফিট পূর্বাচলের রোডে। সেখানে নিয়ে রশিদের মাথা, হাঁটু, উরু এবং গোড়ালিতে এলোপাতাড়ি হাতুড়ি দিয়ে পেটানো হয়। সুইচ গিয়ার দিয়ে সজোরে আঘাত করা হয় শরীরে। পরে তাকে খালে ফেলে দিয়ে মোটরসাইকেল নিয়ে তারা (রানা-উজ্জ্বল) পালিয়ে যায়। এই ভয়ংকর অমানবিক কাজটি করার সময় সঙ্গে ছিল চক্রের আরো একজন। এ তথ্য জানিয়েছেন মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) গুলশান বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার মশিউর রহমান।
তিনি জানান, ঐ ঘটনার পরই খিলক্ষেত থানা পুলিশ ভিকটিমকে খাল থেকে উদ্ধার করে টঙ্গীর আহসানুল্লাহ মাস্টার হাসপাতালে ভর্তি করে। দীর্ঘ চিকিত্সা শেষে ভিকটিম খিলক্ষেত থানায় মামলা করেন। এ মামলায় ছায়া তদন্ত শুরু করে ডিবি পুলিশ। গত ৬ জুলাই ডিবি বসুন্ধরা এবং মিরপুর ১৪ নম্বর থেকে জড়িত রানা ও উজ্জ্বল আলীকে গ্রেফতার করে। উদ্ধার করা হয় ঐ চাপাতি এবং হাতুড়ি। যা মাটির নিচে পুঁতে রাখা হয়েছিল। উপ-কমিশনার মশিউর রহমান বলেন, ভিকটিম আব্দুর রশিদের বাড়ি পঞ্চগড় জেলার আটোয়ারী এলাকায়। তিনি নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের লিফটম্যান ও ইলেকট্রিশিয়ান হিসেবে কাজের পাশাপাশি নিজের পালসার মোটরসাইকেলে পাঠাও-এ রাইড শেয়ার করেন।
মশিউর রহমান বলেন, রানা ও উজ্জ্বল ফেনসিডিলে আসক্ত। টাইলস মিস্ত্রির কাজের আড়ালে তারা ইতিপূর্বেও বিভিন্ন এলাকা রেকি করে ও সুবিধা মতো চুরি ছিনতাই চালিয়েছে বলে স্বীকার করেছে। পাঠাও-এর একটি মোটরসাইকেল ছিনতাই করার জন্য তারা একাধিকবার বসুন্ধরা এবং পূর্বাচলগামী এক্সপ্রেসওয়েতে রেকি করেছে বলেও জানায়।
তিনি বলেন, ছিনতাই করা মোটরসাইকেলটি তারা চুয়াডাঙ্গা জেলার আলমডাঙ্গা নিয়ে নয়ন নামে দালালের কাছে ৪০ হাজার টাকায় বিক্রি করে দেন। চুয়াডাঙ্গা জেলা পুলিশের সহযোগিতায় মোটরসাইকেলটি উদ্ধার করা হয়েছে। জড়িত অপর আসামিকে গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে ।
