ইরান সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম উত্পাদনের প্রক্রিয়া শুরু করেছে বলে জানিয়েছে জাতিসংঘের আণবিক সংস্থা। মঙ্গলবার আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা (আইএইএ) এক বিবৃতিতে বিষয়টি প্রকাশ। সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম ধাতু উত্পাদনের এই পদক্ষেপ ইরানের পরমাণু অস্ত্রধর রাষ্ট্র হয়ে ওঠার ক্ষেত্রে সহায়ক হতে পারে।
২০১৫ সালে স্বাক্ষরিত ইরান পরমাণু চুক্তিতে থাকা ইউরোপের প্রভাবশালী তিনটি দেশ যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স ও জার্মানি তেহরানের এমন পদক্ষেপে হতাশা ব্যক্ত করেছে। এই পদক্ষেপ ২০১৫ সালের চুক্তি পুনর্বাস্তবায়ন নিয়ে আলোচনাকে ঝুঁকির মুখে ফেলল বলেও মন্তব্য করেছে দেশগুলো। যুক্তরাষ্ট্রও ইরানের পদক্ষেপের সমালোচনা করেছে। তেহরানের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম ধাতু উত্পাদনকে ‘পেছন দিকে যাওয়ার দুর্ভাগ্যজনক পদক্ষেপ’ হিসেবে বর্ণনা করেছে তারা। সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আমলে ইরান পরমাণু চুক্তি থেকে বেরিয়ে যাওয়ার পর চুক্তিটি পুনরুজ্জীবিত করার চেষ্টায় সম্প্রতি তেহরানের সঙ্গে পরোক্ষ আলোচনা শুরু করেছিল জো বাইডেন প্রশাসন।

ইরান বলছে, তারা একটি গবেষণা চুল্লি জ্বালানির জন্য সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম ধাতু উত্পাদন করছে। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের তিনটি দেশের কর্মকর্তারা বলছেন, তেহরানের এই পদক্ষেপ যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানকে ২০১৫ সালের চুক্তিতে ফেরাতে দুই দেশের মধ্যকার পরোক্ষ আলোচনাকে বানচাল করে দিতে পারে। ছয় বিশ্বশক্তির সঙ্গে ইরানের ঐ চুক্তিতে তেহরানের পারমাণবিক কর্মসূচিতে লাগাম টানার বিনিময়ে তাদের ওপর আরোপ করা অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল। ট্রাম্প চুক্তি থেকে বেরিয়ে যাওয়ার পর ইরানও চুক্তিতে থাকা অনেক বাধ্যবাধকতা থেকে নিজেদের সরিয়ে নেওয়া শুরু করে।
তেহরান চলতি বছর অল্প পরিমাণ ইউরেনিয়াম ধাতু উত্পাদন করেছে, তবে তার মাত্রা পরমাণু বোমা বানানোর মতো উন্নত নয়। ইরানের এই স্বল্প মাত্রার ইউরেনিয়াম ধাতু উত্পাদনও ২০১৫ সালের চুক্তির লঙ্ঘন। পারমাণবিক বোমার কেন্দ্রীয় অংশ বানাতে সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম ধাতু ব্যবহার হয়, যে কারণে ছয় বছর আগের চুক্তিতে এর উত্পাদন সংক্রান্ত সব কাজে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছিল।

আইএইএ তাদের বিবৃতিতে জানায়, ইরান জ্বালানি উত্পাদনের কাজে এসফাহানের ফুয়েল ফ্যাব্রিকেশন প্ল্যান্টে সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম ধাতু উত্পাদনের কাজ শুরু করতে যাচ্ছে বলে জানিয়েছে। দেশটি যে এর মধ্যেই সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম ধাতু উত্পাদন প্রক্রিয়া শুরুর পদক্ষেপ নিয়ে নিয়েছে, এক গোপন প্রতিবেদনে তা নিশ্চিত করেছে আইএইএ। তেহরানের এই পদক্ষেপকে ইরান পরমাণু চুক্তি নামে পরিচিত জয়েন্ট কম্প্রিহেনসিভ প্ল্যান অব অ্যাকশনের (জেসিপিওএ) লঙ্ঘন অভিহিত করে এমন সিদ্ধান্তে ‘গভীর উদ্বেগের’ কথা জানিয়েছে যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স ও জার্মানি।
ইত্তেফাক/এএইচপি
