অবশেষে স্বরূপে ফিরল ঢাকা

আপডেট : ০৪ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ২১:৫৬

সুনীল নারিন, কিয়েরন পোলার্ড, আন্দ্রে রাসেল, সাকিব আল হাসান, রুবেল হোসেন — তারকাখচিত এক দল ঢাকা ডায়নামাইটসের। তার ওপর গত আসরের রানার্সআপ এবং বিপিএলের অন্যতম সফল দল। সেই ঢাকাই চরম বিপাকে পড়ে গিয়েছিলো। প্রথম পর্বে টানা পাঁচ পরাজয়ে অনিশ্চিত হয়ে পড়েছিলো তাদের সেরা চারে খেলা। শেষ পর্যন্ত দুর্বল খুলনা টাইটান্সকে হারিয়ে সেরা চারে এসেছে।

সেরা চারে গতকাল ছিলো ঢাকার প্রথম ম্যাচ। এলিমিনেটর সেই ম্যাচেই অবশেষে দারুণভাবে ছন্দ খুঁজে পেয়েছে সাকিব আল হাসানের দল। ব্যাটে-বলে কাল স্রেফ গুঁড়িয়ে দিয়েছে চিটাগং ভাইকিংসকে। ৬ উইকেটের এই পরাজয়ে এবারের মতো বিপিএল অভিযান শেষ হয়ে গেছে চিটাগংয়ের। অন্যদিকে ঢাকা টিকে রইলো ফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে। আগামীকাল বিপিএলের দ্বিতীয় কোয়ালিফায়ারে লড়বে তারা ফাইনালে ওঠার জন্য। মিরপুরে ম্যাচটি শুরু হবে সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টায়।

আগে ব্যাট করে চিটাগং ভাইকিংস করেছিলো ৮ উইকেটে ১৩৫ রান। জবাবে ৩.২ ওভার ও ৬ উইকেট হাতে রেখে লক্ষ্যে পৌঁছে যায় ঢাকা। এটুকুতেই বোঝা যায়, কতটা আধিপত্ত বজায় রেখে জিতেছে ঢাকা।

চিটাগংয়ের ব্যাটিং কখনোই ঢাকার ওপর প্রভাব বিস্তার করতে পারেনি। এই ম্যাচে ক্যামেরন ডেলপোর্টের সাথে ইনিংস শুরু করেছিলেন ইয়াসির আলী। ইয়াসির ৯ বলে ৮ রান করে ফিরে আসেন। এরপর সাদমানকে নিয়ে ডেলপোর্ট একটা পাল্টা আক্রমণের চেষ্টা করেন। সাদমান ১৯ বলে ২৪ রান করে ফেরেন। তার আগেই ডেলপোর্ট ৩৬ রান করে ও মুশফিক ৮ রান করে ফেরেন। এরপর চিটাগংয়ের পুরো ইনিংস জুড়ে কেবল মোসাদ্দেক হোসেন সৈকতের একার লড়াইয়ের গল্প।

আগের দিনই অনুশীলনে চোট পাওয়া সৈকত এই ম্যাচ খেলতে নেমেছেন, এটা ছিলো চিটাগংয়ের জন্য স্বস্তির খবর। তিনি কেবল খেলতে নামেননি চিটাগংয়ের সম্মানও রক্ষা করেছেন।

শেষ ওভারে এসে রান আউট হওয়ার আগে সৈকত ৩৫ বলে ৩টি চার ও একটি ছক্কায় ৪০ রানের এক ইনিংস খেলে ফেরেন। অন্য প্রান্তে পরপর চার ব্যাটসম্যান এক অংকে আউট হয়েছেন। ফলে চিটাগংয়ের রানটা আর বড় হতে পারেনি।

জবাব দিতে নেমে ঢাকাকে ভালো শুরু এনে দেন দুই ওপেনার উপল থারাঙ্গা ও সুনীল নারিন। নারিন ১৬ বলে দ্রুত ৩১ রান করে ফেরেন। এরপর রনি তালুকদার ও সাকিব আল হাসান - এই দু’জন খালেদ আহমেদের পরপর দুই বলে আউট হলে এই উত্তেজনা তৈরি হয়েছিলো। কিন্তু থারাঙ্গা দারুণভাবে এই পরিস্থিতি সামাল দেন। তিনি ৪৩ বলে সাতটি চারে ৫১ রানে ইনিংস খেলেন।

শেষ পর্যন্ত থারাঙ্গা ফেরার পর বাকি পথটুকু নির্বিঘ্নে পাড়ি দেন ২০ রান করা নুরুল হাসান সোহান ও কিয়েরন পোলার্ড। পোলার্ড সাত রান করে অপরাজিত থাকেন।

সংক্ষিপ্ত
স্কোর

চিটাগং ভাইকিংস: ২০ ওভারে ১৩৫/৮ (মোসাদ্দেক ৪০, ডেলপোর্ট ৩৬, সাদমান ২৪; নারিন ৪/১৫)।

ঢাকা ডায়নামাইটস:  ১৬.৪ ওভারে ১৩৬/৪ (থারাঙ্গা ৫১, নারিন ৩১, রনি ২০, নুরুল ২০*)

ফল: ঢাকা ডায়নামাইটস ৬ উইকেটে জয়ী

ম্যাচ সেরা: সুনীল নারিন (ঢাকা ডায়নামাইটস)