শিশুশ্রম বন্ধ করা হোক

আপডেট : ০৮ জুলাই ২০২১, ২১:৩৯

আমাদের দেশে যে হাতে বই-খাতা-কলম থাকার কথা, বিভিন্ন পারিপার্শ্বিক কারণে সেই হাতেই শিশুরা উঠিয়ে নিচ্ছে হাতুড়ি। ভাঙছে ইট, কাজ করছে শ্রমিক হয়ে। দরিদ্র ঘরে জন্ম নেওয়ায় হয়তো পেটের তাগিদে অথবা শ্রমের বিনিময়ে অন্ন সংস্থানের লক্ষ্যে বাধ্য হয়ে যোগ দিচ্ছে শিশুশ্রমে। মধ্যবিত্ত বা নিম্ন-মধ্যবিত্ত পরিবারের শিশুদের মধ্যে পড়াশোনার প্রতি অনীহা দেখা দিলে পড়াশোনার খরচজনিত আর্থিক জটিলতায় বাবা-মা শিশুসন্তানদের বিভিন্ন কাজে দিয়ে দেন। শিশুশ্রমের কুফল সম্পর্কে সামাজিক ও পারিবারিক অসচেতনতার কারণে অতি অল্প বয়সে শিশুরা নেমে পড়ছে শ্রমবাজারে। বর্তমানের কোভিড-১৯ পরিস্থিতিতে পারিবারিক আয়ে বিপর্যয় নেমে আসায় আরো অনেক শিশু বাধ্য হয়ে যোগ দিচ্ছে বঞ্চনামূলক ও ঝুঁকিপূর্ণ কাজে, যা ভবিষ্যতে তাদের স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তায় মারাত্মক হুমকির কারণ হয়ে দাঁড়াবে। শিশুশ্রমের কারণে শিশুদের মননশীলতা ও দৈহিক ক্ষতি হয় এবং মানসিক চাপ বাড়তে থাকে। তারা সুন্দর ও নিরাপদ শৈশব থেকে বঞ্চিত হয়। নৈতিক শিক্ষা, উপযুক্ত প্রশিক্ষণ ও সুন্দর পরিবেশ না পেলে শিশুর যথার্থ বিকাশ ঘটে না। বর্তমান কোভিড-১৯ মহামারি পরিস্থিতিতে সবচেয়ে অসহায় হয়ে পড়েছে শিশুদের জীবন। এটা আশা-আকাঙ্ক্ষা ও ভবিষ্যত্ জীবনের ওপর বিশেষ নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। শিশুদের দুরবস্থা দূর করার লক্ষ্যে বর্তমান পরিস্থিতি অনুসারে নিম্নোক্ত পদক্ষেপগুলো গ্রহণ করা যেতে পারে—সংকটের সময় সামাজিক সুরক্ষাসেবা নিশ্চিত করা, অর্থনৈতিক সহযোগিতা প্রদান, দরিদ্র পরিবারের জন্য সহজ শর্তে ঋণ দেওয়ার ব্যবস্থা করা, পরিবারের বয়োজ্যেষ্ঠদের কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা, শিশুদের মানসম্পন্ন শিক্ষার ব্যবস্থা করা, সরকারি-বেসরকারি স্কুল-মাদ্রাসার বেতন বাতিল করা, প্রাথমিক শিক্ষার পাশাপাশি মাধ্যমিক পর্যায়ে উপবৃত্তি কার্যক্রম প্রণয়ন এবং এর যথাযধ বাস্তবায়নসহ শিশুদের পুনরায় লেখাপড়ায় ফিরিয়ে আনতে বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করা। শিশুশ্রম বন্ধে আইনের যথাযথ প্রয়োগ নিশ্চিত করা গেলে তা অনেকাংশেই কমিয়ে আনা সম্ভব। সর্বোপরি সরকারি-বেসরকারি পদক্ষেপ, গণমাধ্যম, সুশীল সমাজসহ সবার প্রচেষ্টায় জনগণের মধ্যে সচেতনতা ও গণজাগরণ সৃষ্টি করা প্রয়োজন। তাছাড়া মানুষের মধ্যে নৈতিক মূল্যবোধ জাগ্রত করতে হবে, যার মধ্য দিয়ে আজকের শিশুকে আগামীর স্বপ্নতোরণে পৌঁছে দেওয়া সম্ভব।

মো. জাহিদুল ইসলাম 

শিক্ষার্থী, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়