জলাশয় সংকটে মাটিচাপা দেওয়া হচ্ছে পাট!

আপডেট : ০৮ জুলাই ২০২১, ২১:৪৪

ডোমার উপজেলায় পাট জাগের (পচানো) সময় মাটি ও কলাগাছ চাপা দেওয়া হচ্ছে। এর ফলে পাটের রং ও গুণমান নষ্ট হওয়ার সম্ভাবনা অনেক বেশি বলে পাট বিশেষজ্ঞরা দাবি করেছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, পাট জাগের সময় বাঁশ কিংবা লম্বা গাছের দণ্ড দিয়ে চাপা দিলে পাটের গুণমান ঠিক থাকে। ডোমার পৌসভার চিকনমাটি এলাকার কৃষক রেজ্জু ইসলাম জানান, এবার দুই বিঘা জমিতে পাটের চাষ করেছি। পাট কেটে জাগও দেওয়া হয়েছে। বাবা-দাদাদের দেখেছি তারাও জাগ দেওয়ার সময় মাটি ও কলাগাছ চাপা দিয়েছেন। আমিও তাই করেছি। কিন্তু কৃষি বিভাগের লোকজন মাটি ও কলাগাছ চাপা দিতে নিষেধ করেছেন। আগামীবার সঠিক নিয়মে পাটের জাগ দেব।

মির্জাগঞ্জ এলাকার কৃষক তুষার সিদ্দিকী বলেন, ‘আমাদের এলাকায় এখন আর আগের মতো পুকুর নাই। অনেক কষ্টে একটি পুকুরে পাটের জাগ দিয়েছি। সব সময় তো মাটি আর কলা গাছ চাপা দিয়েছি পাট জাগের সময়। এবারও তাই করেছি।’ পাট ব্যবসায়ী আনিছুর রহমান আনু বলেন, ‘পাটের কয়েকটি গ্রেড হয়। সেই অনুপাতে পাটের বেচাকেনা হয়। আমাদের এলাকায় ভালোভাবে জাগ দিতে না পারায় ভালো মানের পাট পাওয়া যায় না। এজন্য পাটচাষিরা দামও ভালো পান না।’ 

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আনিছুজ্জামান জানান, এবারও শতাধিক চাষিকে পাটের চাষ ও সঠিক নিয়মে জাগ দেওয়ার নিয়ম শেখানো হয়েছে। উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তারা মাঠে গিয়ে কৃষকদের পরামর্শ দিচ্ছে নিয়মিত। অনেক চাষিই পাট জাগ দেওয়ার সময় মাটি ও কলা গাছের পরিবর্তে বাঁশ ও গাছের লম্বা দণ্ড ব্যবহার করেছে। তবে বেশ কিছু পাটচাষি এখনো নিয়মগুলো মানছেন না।

জেলা পাট উন্নয়ন কর্মকর্তা এ টি এম তৈয়বুর রহমান জানান, পাট খুব বেশি পচলে আঁশ নরম হয় আবার কম পচলে আঁশের গায়ে ছাল লেগে থাকে। জাগ দেওয়ার ৮ হতে ১০ দিন পর থেকেই জাগ পরীক্ষা করা উচিত। দুই থেকে তিনটা পাট গাছ জাগ থেকে বের করে ধুয়ে দেখতে হবে। পাটের আঁশগুলো পরস্পর পৃথক হয়ে গেলে, পচন সম্পূর্ণ হয়। তবে পাট বেশি পচানোর চেয়ে একটু কম পচানো ভালো। তিনি জানান, ছোট পুকুরে পাট পচালে ইউরিয়া সার ব্যবহার করলে পাট তাড়াতাড়ি পচে এবং আঁশের রংও ভালো হয়। প্রতি ১০০ আঁটি কাঁচা পাটের জন্য এক কেজি ইউরিয়া সার ব্যবহার করতে হবে। ইউরিয়া সার একটি বালতিতে পানির সঙ্গে মিশিয়ে অথবা পাটের জাগে ছিটিতে দিতে হবে। প্রসঙ্গত, চলতি মৌসুমে ১ হাজার ৪০৫ হেক্টর জমিতে পাটের চাষ হয়েছে।