আমতলী উপজেলায় গত দুই সপ্তাহ ধরে ব্যাপক হারে গরুর খুরারোগের প্রকোপ দেখা দিয়েছে। খুরারোগে সাত ইউনিয়নের প্রায় তিন সহস্রাধিক গরু আক্রান্ত হয়েছে। হালচাষের ভরা মৌসুমে খুরারোগের প্রকোপ দেখা দেওয়ায় কৃষকরা বিপাকে পড়েছেন। প্রাণিসম্পদ কার্যালয়ে এ রোগের প্রতিশোধক এফএমডি (ফুট অ্যান্ড মাউথ ডিজিজ) ভেকসিন না থাকায় কৃষকরা চিকিত্সাও করাতে পারছে না আক্রান্ত গরুর। আমতলী উপজেলা প্রাণিসম্পদ কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, জুন মাসের শেষ এবং জুলাই মাসের প্রথম থেকে আমতলী উপজেলার কুকুয়া, আঠারগাছিয়া, হলদিয়া, চাওড়া, গুলিশাখালী ও আমতলী সদর ইউনিয়নে ব্যাপক হারে গরুর খুরারোগের প্রকোপ দেখা দিয়েছে।
চাওড়া ইউনিয়নের কালীবাড়ি গ্রামের কৃষক মো. নাসির উদ্দিন জানান, তার ১১টি গরুর মধ্যে সবগুলোই খুরারোগে আক্রান্ত হয়েছে। তিনি আরো জানান, এই রোগে গরু আক্রান্ত হলে গরুর শরীর গরম থাকে এবং মুখে ও পায়ে ঘা দেখা দেয়। সব সময় গরুর মুখ দিয়ে লালা পড়তে থাকে। এ সময় খাওয়া বন্ধ করে দেয়। সব গরু খুরারোগে আক্রান্ত হওয়ায় তার হালচাষ সম্পূর্ণ বন্ধ রয়েছে। হলদিয়া ইউনিয়নের দক্ষিণ তক্তাবুনিয়া গ্রামের রুহুল আমি জানান, আমার ছয়টি গরুর মধ্যে পাঁচটি গরু খুরারোগে আক্রান্ত হয়েছে। এই রোগে গরু আক্রান্ত হওয়ায় আমার জমিতে হালচাষ বন্ধ রয়েছে। আঠারগাছিয়া ইউনিয়নের পশ্চিম সোনাখালী গ্রামের জব্বার ডাক্তার জানান, তার ছয়টি গরুর মধ্যে তিনটি গরু খুরারোগে আক্রান্ত হয়েছে। ভেকসিনের অভাবে তারা এখন চিকিত্সা করাতে পারছেন না বলে জানান ঐ কৃষক। হলদিয়া গ্রামের মস্তফা গাজীর ছয়টি গরু, শাহআলম খাঁর পাঁচটি, দুলাল গাজীর চারটি, চুন্নু মীরার পাঁচটি এবং উত্তর তক্তাবুনিয়া গ্রামের ঝন্টু মোল্লার চারটি এবং একই গ্রামের দেলোয়ার চৌকিদারের তিনটি গরুসহ উপজেলায় তিন সহস্রাধিক গরু খুরারোগে আক্রান্ত হয়েছে।
হলদিয়া গ্রামের ইউপি সদস্য মো. স্বপন জানান, ঘরে ঘরে কৃষকের গরুর খুরারোগ দেখা দিয়েছে। অধিকাংশ কৃষকের গরু খুরারোগে আক্রান্ত হওয়ায় তাদের হালচাষ বন্ধ হয়ে গেছে। আমতলী উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. অভিজিত কুমার মোদক জানান, আমতলী উপজেলায় গত দুই সপ্তাহে অনেক গরু খুরারোগে আক্রান্ত হয়েছে। আমাদের অফিসে ১ হাজার ভেকসিন মজুত ছিল তা প্রয়োগের পর এখন আর কোনো ভেকসিন আমাদের স্টোরে নেই। চাহিদা দেওয়া হয়েছে। ভেকসিন পাওয়া গেলে আক্রান্ত গরুর মধ্যে প্রয়োগ শুরু করা হবে। তিনি আরো বলেন, ‘এ রোগে গরু আক্রান্ত হলে প্রাথমিকভাবে পটাশিয়াম পারম্যাঙ্গানেট পানিতে মিশিয়ে প্রতিদিন দুই বার গরুর পা ধুয়ে জীবাণুমুক্ত করতে হবে। তা হলে গরু কিছুটা হলেও উপশম পাবে।’
