স্পোর্টস রিপোর্টার
এমন কিছু তারকাখচিত দল ছিল না তার হাতে। বিদেশিরা সেরকম নামকরা কেউ নন। দেশি যারা ছিলেন, তিনি নিজে ছাড়া বাকিরা একেবারেই তরুণ। ফলে মুশফিকুর রহিমের চিটাগং ভাইকিংস নিয়ে টুর্নামেন্টের শুরুতে বাজী ধরার লোক খুব একটা ছিল না। সেই চিটাগং ভাইকিংসই এবার জায়গা করে নিয়েছিল সেরা চারে।
গতকাল ঢাকার বিপক্ষে হেরে অভিযানটা শেষ হয়ে গেল। সেই হতাশা মুশফিকের আছে। কিন্তু তার চেয়ে বেশি তৃপ্ত চিটাগং অধিনায়ক সেরা চার খেলতে পেরে। মৌসুমের শুরুতে নিজেরা নিজেদের সেরা চারের একটা লক্ষ্য বেঁধে দিয়েছিলেন। সেটা পূরণ হওয়ায় তৃপ্তি নিয়েই বিদায় নিতে পারছেন এই অভিজ্ঞ অধিনায়ক।
মুশফিক বলছেন, তারা শেষ পর্যন্ত যেখানে শেষ করতে পেরেছেন, তাতে তিনি অন্তত সন্তুষ্ট, ‘টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটে দুই-তিনজন ভালো খেললেই ফল পাওয়া যায়। আমাদের লক্ষ্য ছিল সেরা চারে যাওয়ার। সেটা আমরা পেরেছি। আমাদের প্রেসার কম ছিল। কারণ, আমাদের দলে তেমন তারকা ছিল না। আমরা এই বিপিএলে একটু কিছু করে দেখাতে চেয়েছিলাম। আমার মনে হয় আমরা সেটা করতে পেরেছি। প্রথম দিকে আমরা ছয়টা ম্যাচ জিতে গিয়েছিলাম। আমাদের বিদেশি কালেকশন আরও একটু ভালো থাকলে আমাদের ফলটা আরও ভালো হতো। যেখানে আমরা শেষ করেছি, তাতে আলহামদুলিল্লাহ।’
অবশ্য শেষ পর্যন্ত যেরকম ভাবে বিদায় নিলেন, সেটা নিয়ে খুব সন্তুষ্ট নন এই চিটাগং অধিনায়ক। মুশফিক বলছিলেন, এই ম্যাচটায় আরেকটু লড়াই তিনি আশা করেছিলেন। বিশেষ করে এই ঢাকাকে গ্রুপপর্বে দুই বারই হারিয়েছিল তার দল। ফলে আরেকটা জয় তিনি আশা করছিলেন, ‘বাঁচা মরার ম্যাচ ছিল। একটা প্রতিযোগিতা হবে, সেটাই সবাই প্রত্যাশা করেছিলাম। উইকেট ভালো ছিল। আমরা ১৬০ রানের মতো করতে পারলেও ঢাকাকে চাপে রাখতে পারতাম। সেটা হয়নি। আর আমাদের উপরের সারির ব্যাটসম্যানদের সিলি কিছু ভুল হয়েছে। কিছু ব্যাটসম্যান উইকেটে সেট হয়েও আউট হয়েছে। এমন দলের বিপক্ষে এত ভুল করলে যেটা কঠিন হয়। সেদিক থেকে হতাশার। তবে সবমিলিয়ে যেই দল ছিল ভাইকিংসের, সেই দিন থেকে এতদূর আসতে পেরেছে এটা অবশ্যই গর্বের।’
দলের ফলাফল যাই হোক, মুশফিকের জন্য দারুণ একটা টুর্নামেন্ট কাটলো। বিপিএল যখন শেষ হলো, তখন টুর্নামেন্টের দ্বিতীয় সেরা স্কোরার ছিলেন মুশফিক। দলও এবার মুশফিকের অন্য যে কোনো বারের চেয়ে ভালো ফল করেছে। ফলে অন্যবারের চেয়ে তৃপ্তি নিয়েই মাঠ ছাড়লেন জাতীয় দলের সাবেক অধিনায়ক, ‘দলের ফলাফল খারাপ হলে স্বাভাবিকভাবে খারাপ লাগবেই। ব্যক্তিগত ভাবে ও দলের মালিক ও ম্যানেজমেন্টেরও খারাপ লাগবে। গত দুই বছর, এক বছর ছিলাম বরিশাল বুলসে, আরেক বছর ছিলাম রাজশাহী কিংসে, সেইবার কোয়ালিফাই করতে পারিনি। এটা ভালো অনুভূতি নয়। আমি নিজের কাছে যেই প্রত্যাশা করি সেটাও পূর্ণ করতে পারিনি। এটা ভালো অনুভূতি নয়। এই বছর থেকে আমি আরেক বছর আরও বেশি রান করেছি। আমি খুব বেশি উত্ফুল্ল না। বেশকিছু জায়গা ছিল যেখানে ম্যাচের ফলাফল দুই দিকেই যেতে পারত, সেই সময় আমি ভালো করতে পেরেছি সেটা আমার আত্মবিশ্বাসে বুস্ট আপ দিবে পরের বছরের।’
