খুলনায় ডেডিকেটেড করোনা হাসপাতালে অনিয়ম

আপডেট : ০৮ জুলাই ২০২১, ২২:০০

খুলনা ১৩০ শয্যাবিশিষ্ট ডেডিকেটেড করোনা হাসপাতালে অনিয়মের শেষ নেই। অর্থের বিনিময়ে করোনার স্যাম্পল দিতে আসা মানুষের সিরিয়াল পরিবর্তন, সময়মতো স্যাম্পল কালেকশন না করা, গল্পগুজব করে সময়ক্ষেপণ, বাথরুমের মধ্যে অক্সিজেন সিলিন্ডার লুকিয়ে রাখাসহ নানা ধরনের অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। এছাড়া হাসপাতালে শৃঙ্খলা ও স্বাস্থ্যবিধির কোনো বালাই নেই। মানা হয় না সামাজিক দূরত্ব। সবকিছু মিলিয়ে এ হাসপাতালের ভেতর-বাইরে চরম বিশৃঙ্খলা বিরাজ করছে।

বুধবার সরেজমিনে হাসপাতাল ঘুরে অনিয়মের নানা দৃশ্য চোখে পড়েছে। সকাল ৮টার সময় কাউন্টার খোলার নিয়ম থাকলেও দূরদূরান্ত থেকে আসা বহু মানুষকে নমুনা পরীক্ষার জন্য ডেডিকেটেড করোনা হাসপাতালের সামনে লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়। সেখানে করোনা আক্রান্ত রোগীও নমুনা দিতে এসেছেন। আবার জ্বর, সর্দি, কাশি নিয়ে অনেকেই প্রথমবার এসেছেন নমুনা পরীক্ষার জন্য। সেখানে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা হচ্ছে না। এখান থেকে সংক্রমণ ছড়াতে পারে—এমন আশঙ্কার কথা বলেছেন অনেকেই।

তাদের অভিযোগ এখানে অর্থের বিনিময়ে করোনার স্যাম্পল দিতে আসা লোকজনের সিরিয়াল পরিবর্তন এবং সময়মতো স্যাম্পল কালেকশন না করে কর্মচারীরা গল্পগুজব করে সময় কাটিয়ে দিচ্ছে। তবে এ অভিযোগ অস্বীকার করেছেন সংশ্লিষ্টরা।

হাসপাতালের টিকিট ও নমুনা সংগ্রহের কাউন্টারের পাশেই নাম ডাকার অপেক্ষায় গাদাগাদি করে দাঁড়িয়ে থাকছে লোকজন। এক জনের নাম ডাকা হলেই সবাই এক রকম হুমড়ি খেয়ে পড়ছেন কাউন্টারের সামনে। কিন্তু এখানে নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা দুই জন নিরাপত্তাকর্মী এ বিষয়ে কোনো ভূমিকা পালন করছেন না। তাদের চেয়ারে বসে অথবা দাঁড়িয়ে থেকে সময় পার করতে দেখা গেছে।

নগরীর সাউথ সেন্ট্রাল রোড এলাকার বাসিন্দা রুমানা আক্তার অভিযোগ করেন, নমুনা সংগ্রহের জন্য সকাল ৮টায় কাউন্টার খোলার সময় নির্ধারণ থাকলেও ৯টার পর খোলা হয়। ততক্ষণে লোকজনের ভিড় জমে যায়। অথচ সময়মতো খোলা হলে অনেকেরই দীর্ঘ সময় ধরে অপেক্ষা করতে হতো না। বাগেরহাটের মোংলা উপজেলার দ্বিগরাজ থেকে আসা আবুল খায়ের জানান, তিনি সকাল ৬টার সময় নমুনা পরীক্ষার জন্য এসেছেন, যাতে কাউন্টার খুলতে খুলতেই টিকিট কাটতে পারেন। কিন্তু সকাল ৮টার সময় খোলার নিয়ম থাকলেও ৯টার পরে কাউন্টার খোলা হয়। তারপরও হাসপাতালের দায়িত্ব পালনকারীদের কোনো তাড়া নেই।

এ বিষয়ে খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ডা. মো. রবিউল হাসান বলেন, এসব অভিযোগের ব্যাপারে বৃহস্পতিবারই ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।