প্রবাসীদের কাছে করোনার নেগেটিভ সনদ বিক্রি আটক ৩

আপডেট : ০৮ জুলাই ২০২১, ২২:০৩

রাজশাহীতে করোনার নেগেটিভ সনদের নামে অর্থ আত্মসাতে জড়িত প্রতারক চক্রের নারীসহ তিন সদস্যকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের (আরএমপি) গোয়েন্দা শাখার একটি অভিযানিক দল গত বুধবার বিকালে তাদের গ্রেফতার করে। তবে গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে তাদের গণমাধ্যমের সামনে হাজির করা হয়। এরা হলেন, রাজশাহীর সিভিল সার্জন অফিসের অফিস সহায়ক তারেক আহসান, তার সহযোগী রফিকুল ইসলাম ও তার স্ত্রী সামসুন্নাহার শিখা। নগরীর হেতেমখাঁ কলাবাগান এলাকায় তাদের সবার বাড়ি।

আরএমপির গোয়েন্দা শাখার উপ-কমিশনার আরেফিন জুয়েল জানান, তারেক আহসানের নেতৃত্বে সিভিল সার্জন অফিসকে কেন্দ্র করে এই প্রতারক চক্রটি গড়ে ওঠে। গ্রেফতার ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, তারা মূলত বিদেশগামীদের করোনা নেগেটিভ সনদ তৈরি করে দেয়।

আরেফিন জুয়েল বলেন, বিদেশগামীদের সাধারণত ৪৮ থেকে ৭২ ঘণ্টার মধ্যে করোনা টেস্টের রিপোর্টের প্রয়োজন হয়। এই চক্র এ রকম ব্যক্তিদের ফোন করে জানান যে, ‘আপনার করোনা রিপোর্ট পজিটিভ এসেছে। তারা নেগেটিভ সনদ তৈরি করে দিতে পারবে।’

উপ-কমিশনার আরো বলেন, আগ্রহীরা এই চক্রের প্রস্তাবে সাড়া দিলে ৩ থেকে ১৫ হাজার টাকা আদায় করে দেওয়া হতো করোনার নেগেটিভ সনদ। অথচ সার্টিফিকেটপ্রাপ্তরা সত্যিকার অর্থে নেগেটিভই ছিলেন। মূলত চক্রকে কোনো টাকা না দিলেও ভুক্তভোগী ব্যক্তি করোনা নেগেটিভ সার্টিফিকেটই পেতেন। বিদেশগামীসহ অন্যরা দ্রুত সময়ে করোনার রিপোর্ট পাওয়ার জন্য ঐ চক্রের হাতে টাকা তুলে দিতেন।

গোপন তথ্যের ভিত্তিতে ডিবি পুলিশ অভিযান চালিয়ে চক্রের তিন সদস্যকে গ্রেফতার করে বলে জানান পুলিশের এই কর্মকর্তা। চক্রের আরো দুই সদস্যকে খোঁজা হচ্ছে বলেও জানান তিনি। এ ঘটনায় নগরীর বোয়ালিয়া মডেল থানায় মামলার প্রস্তুতি চলছে।