ওপেক্স অ্যান্ড সিনহা টেক্সটাইল গ্রুপের শ্রমিকেরা বকেয়া বেতন-ভাতাসহ বিভিন্ন দাবিতে গতকাল বৃহস্পতিবার নারায়ণগঞ্জের কাঁচপুরে ঢাকা-সিলেট ও ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক সকাল ৯টা থেকে টানা সাত ঘণ্টা অবরোধ করে রাখে। এতে দুটি মহাসড়কের দুই পাশে ২০ কিলোমিটারের বেশি এলাকা জুড়ে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। সরেজমিনে দেখা গেছে, অবরোধের কারণে করোনায় আক্রান্তসহ বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত রোগী ও লাশবাহী শত শত অ্যাম্বুলেন্স এসময়ে সড়কে আটকা পড়ে। এছাড়াও আটকা পড়ে সহস্রাধিক পণ্যবাহী ট্রাক ও ব্যক্তিগত গাড়ি।
সোনারগাঁও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আতিকুল ইসলাম ও সোনারগাঁও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ হাফিজুর রহমান কাঁচপুর সেতুর ঢালুতে আন্দোলনরত ওপেক্স অ্যান্ড সিনহা গ্রুপের শ্রমিকদের সঙ্গে কথা বলেন। তারা শ্রমিকদের আশ্বস্ত করেন, যাবতীয় বকেয়া বেতন-ভাতা কয়েক দিনের মধ্যে পরিশোধ করার ব্যবস্থা নেওয়া হবে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে কারখানা কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। প্রশাসনের এ আশ্বাসের পর বিকাল ৪টার দিকে শ্রমিকেরা অবরোধ তুলে নেন। পরে যানবাহন চলাচল শুরু হয়।
বকেয়া বেতন-ভাতার দাবিতে শ্রমিকেরা কাঁচপুর সেতুর ঢালুতে বাঁশ, ভ্যানগাড়ি, পরিত্যক্ত ভাঙা পিলার আড়াআড়ি ফেলে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টির মাধ্যমে মহাসড়ক দুটি অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন। জরুরি প্রয়োজনে সড়কে বের হওয়া মানুষ, বিশেষ করে অ্যাম্বুলেন্সের রোগী ও পণ্যবাহী ট্রাকের চালকেরা দুর্ভোগে পড়েন। অটোরিকশা ও মোটরসাইকেলে করে কাঁচপুর ব্রিজ পার হতে কিংবা মহাসড়কে চলতে গিয়ে অনেকে শ্রমিকদের বাধার মুখে পড়েন। এসময় কয়েকটি অটোরিকশা ও এর চালককে বাঁশ দিয়ে পিটিয়েছেন শ্রমিকরা।
দুর্ভোগে পড়া রোগী ও লাশবাহী কিছু অ্যাম্বুলেন্সকে মহাসড়কের উলটোপথ দিয়ে পার করে দিতে তত্পর থাকতে দেখা যায় কাঁচপুর থানা হাইওয়ে পুলিশকে। অবরোধ প্রত্যাহারের আগে কাঁচপুর হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনিরুজ্জামান ইত্তেফাককে জানান, শ্রমিকদের বুঝিয়ে সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে।
বকেয়া বেতন-ভাতা ছাড়াও ওপেক্স অ্যান্ড সিনহা টেক্সটাইল গ্রুপের নানা অনিয়মের প্রতিবাদে কয়েক হাজার শ্রমিক রাস্তায় নেমে আসেন। তাদের দাবি, ওপেক্স অ্যান্ড সিনহা গ্রুপ কর্তৃপক্ষ গত চার মাস তাদের বেতন-ভাতা পরিশোধ করেনি। এর আগেও তারা বকেয়া বেতনের দাবিতে আন্দোলন করেন। পুলিশের পক্ষ থেকে মালিক পক্ষের সঙ্গে কথা বলে তাদের বেতন পরিশোধের আশ্বাস দেওয়া হয়। কিন্তু সমস্যার সমাধান হয়নি। তারা বলেন, এখন লকডাউন চলছে। তারা বাড়ি ভাড়া ও দোকানের বাকি পরিশোধ করতে পারছেন না। সংসার খরচ চালাতে পারছেন না। অনেক পরিবার না খেয়ে দিন পার করছেন। বিক্ষোভকালে শ্রমিকরা লাঠি হাতে তাদের দাবি আদায়ে বিভিন্ন স্লোগান দেন। খবর পেয়ে সকালেই ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন সোনারগাঁও উপজেলা নির্বাহী অফিসার আতিকুল ইসলাম, নারায়ণগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (খ-অঞ্চল) মো. বিল্লাল হোসেন, সোনারগাঁও থানার ওসি মোহাম্মদ হাফিজুর রহমান ও কাঁচপুর হাইওয়ে থানার ওসি মো. মনিরুজ্জামান।
