শিশু হত্যার আসামির মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখল আপিল বিভাগ

আপডেট : ০৯ জুলাই ২০২১, ০০:২৬

শিশু হত্যা মামলায় হত্যাকারীর সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখল সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ। আসামি জাহাঙ্গীরের আপিল খারিজ করে গতকাল বৃহস্পতিবার এ রায় দেন প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগের ছয় বিচারপতির পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চ। বেঞ্চের অপর সদস্যরা হলেন, বিচারপতি মো. ইমান আলী, বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী, বিচারপতি মো. নূরুজ্জামান, বিচারপতি আবু বকর সিদ্দিকী ও বিচারপতি ওবায়দুল হাসান। প্রধান বিচারপতি বলেন, এ ধরনের অপরাধীকে ছেড়ে দেওয়া যায় না।

জানা যায়, ২০০৭ সালের ১৩ জুলাই স্থানীয় কবরস্থানে নিয়ে দা দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করা হয় নোয়াখালীর মাইজদী হাফেজিয়া নুরানী মাদ্রাসার ছাত্র আরাফাত হোসেনকে (৯)। দুই পরিবারের মধ্যে জমিজমা সংক্রান্ত পূর্ব শত্রুতার জের ধরে এ হত্যাকাণ্ড ঘটায় কাঠমিস্ত্রী জাহাঙ্গীর (২৬)। পরে পুলিশ তাকে গ্রেফতার করে। এ ঘটনায় সুধারামপুর থানায় নিহতের পিতা বাবুলের করা মামলায় ২০০৮ সালের ২৮ জুলাই নোয়াখালীর জেলা ও দায়রা জজ আদালত আসামি জাহাঙ্গীরকে মৃত্যুদণ্ড দেয়। ২০১৩ সালে হাইকোর্ট ঐ মৃত্যুদণ্ডের রায় বহাল রাখে। এই রায়ের বিরুদ্ধে করা আপিলে আসামির পক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত কৌঁসুলি এ বি এম বায়েজীদ ও রাষ্ট্রপক্ষে অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল এস এম মুনীর শুনানি করেন।  শুনানির এক পর্যায়ে আপিল বিভাগের জ্যেষ্ঠ বিচারপতি মো. ইমান আলী বলেন, ৯ বছরের একটি শিশুর ঐ অপরাধীকে প্রতিরোধ করার ক্ষমতা ছিল না। সেই শিশুটির শরীরের এমন কোনো স্থান নেই যেখানে দা দিয়ে কোপানো হয়নি।

প্রধান বিচারপতি বলেন, এ ধরনের অপরাধীকে ছেড়ে দিলে আরো দুই-একটা খুন করতে পারে। পরে সব বিচারপতির সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে আসামির আপিল খারিজ করে নিম্ন আদালতের ফাঁসির রায় বহাল রাখার ঘোষণা দেন প্রধান বিচারপতি।

এদিকে গতকাল আপিল বিভাগে আরো দুটি ফাঁসির মামলার শুনানি হয়। এর মধ্যে নীলফামারীতে স্ত্রী হত্যার দায়ে অভিযুক্ত স্বামী স্বপন কুমারের আপিলের ওপর ১২ জুলাই রায় ঘোষণা করবে আপিল বিভাগ। এ মামলায় আসামির পক্ষে বিনা পয়সায় লড়েন প্রখ্যাত ফৌজদারি আইন বিশেষজ্ঞ খন্দকার মাহবুব হোসেন। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল শেখ মো. মোরসেদ।

এছাড়া ল্যাব এইডের চিকিত্সক ডা. নাজনীন আক্তারসহ গৃহকর্মী হত্যা মামলার আপিলের চূড়ান্ত শুনানি শুরু হয়েছে। পরের শুনানি ১২ জুলাই। ডাবল মার্ডারের এই মামলায় ডা. নাজনীনের ভাগনে আমিনুলকে মৃত্যুদণ্ড দেয় ঢাকার দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল। ঐ রায় বহাল রাখে হাইকোর্ট। এ রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করেন আসামি।