কোনো আইসিইউ বেড ফাঁকা নেই

মহামারিকালের সর্বোচ্চ শনাক্ত

আপডেট : ০৯ জুলাই ২০২১, ০০:২৬

করোনার হটস্পট হয়ে উঠেছে পুরো দেশ। প্রাণঘাতী করোনা ভাইরাস দেশের সবখানেই ভয়াল থাবা দিচ্ছে। করোনার ডেলটা ধরন প্রথমে সীমান্ত এলাকায় দেখা দিলেও এখন তাণ্ডবে সারা দেশই বিধ্বস্ত। সরকারের কঠোর বিধিনিষেধ কর্মসূচি ও ব্যাপক কড়াকড়ির মধ্যে প্রতিদিনই সংক্রমণ ও রোগী মৃত্যুর নতুন নতুন রেকর্ড হচ্ছে। গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় দেশে ৩৮ হাজার নমুনা পরীক্ষা করে আরো ১১ হাজার ৬৫১ জনের মধ্যে করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ ধরা পড়েছে। যা মহামারিকালে এক দিনে সর্বোচ্চ শনাক্ত। গত এক দিনে মৃত্যু হয়েছে ১৯৯ জনের।

করোনা সংক্রমণের ঊর্ধ্বমুখী হার অব্যাহত থাকায় এত বিশালসংখ্যক রোগীর চিকিত্সাসেবার সংকট দেখা দিয়েছে। চাপ সামলাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে রাজধানীর সরকারি হাসপাতালগুলোকে। দেখা দিয়েছে শয্যাসংকট। নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রের (আইসিইউ) শয্যা কোথাও ফাঁকা নেই। আইসিইউয়ের তীব্র সংকটের কারণে যথাসময়ে চিকিত্সা না পেয়ে অনেকের জীবন ঝুঁকির মধ্যে পড়েছে। বিশেষজ্ঞ চিকিত্সকরা বলেন, রোগী বৃদ্ধির ধারা অব্যাহত থাকলে সামনে চিকিত্সাসেবার অভাবে অনেক রোগী মারা যাবে। নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাবে চিকিত্সাসেবা। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর মনে করছে, চলতি জুলাই মাসে রোগী শনাক্তের হার যেভাবে বাড়ছে সেভাবে আগামীতে বাড়তে থাকলে চিকিত্সাসেবা দিতে স্বাস্থ্য বিভাগকে কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হবে। এমনকি অক্সিজেন সরবরাহেও চ্যালেঞ্জ তৈরি হবে। সরকারঘোষিত কঠোর বিধিনিষেধ ও স্বাস্থ্যবিধি মেনে না চললে পরিস্থিতির চরম অবনতি ঘটতে পারে বলেও সতর্ক করা হয়েছে।

ভাইরাসের বিস্তার নিয়ন্ত্রণে পহেলা জুলাই থেকে সারা দেশে জারি করা লকডাউনের মধ্যেই মঙ্গলবার প্রথম বারের মতো ১০ হাজার ছাড়িয়ে যায় শনাক্ত রোগীর সংখ্যা। সেদিন ১১ হাজার ৫২৫ জনের মধ্যে সংক্রমণ ধরা পড়ে। বৃহস্পতিবার সেই সংখ্যাও ছাড়িয়ে গেল। দৈনিক শনাক্তের সঙ্গে মৃত্যুতেও রেকর্ড হয়েছিল সোমবার, সেদিন সারা দেশে ১৬৪ জনের মৃত্যুর খবর দিয়েছিল স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। বুধবার তা এক লাফে বেড়ে ২০১ জন হয়। বৃহস্পতিবার মৃত্যুর সংখ্যা কমেছে মাত্র দুই জন। নতুন রোগীদের নিয়ে দেশে এ পর্যন্ত মোট শনাক্ত রোগীর সংখ্যা  পৌঁছেছে ৯ লাখ ৮৯ হাজার ২১৯ জনে। তাদের মধ্যে ১৫ হাজার ৭৯২ জনের প্রাণ গেছে করোনা ভাইরাসে।

গত এক দিনে শুধু ঢাকা বিভাগেই ৪ হাজার ৯৪৯ জন নতুন রোগী শনাক্ত হয়েছে, যা দিনের মোট শনাক্তের প্রায় ৪২ শতাংশের বেশি। চট্টগ্রাম বিভাগে এক দিনে শনাক্ত রোগী প্রায় ২ হাজারে পৌঁছেছে, খুলনায় ছাড়িয়েছে দেড় হাজার। ঢাকায় করোনায় প্রাণহানি বাড়ছে। গত এক দিনে  মৃত ১৯৯ জনের মধ্যে ৬৫ জনই ছিলেন ঢাকা বিভাগের বাসিন্দা। খুলনা বিভাগে মৃত্যু হয়েছে ৫৫ জনের। সরকারি হিসাবে গত এক দিনে আরো ৫ হাজার ৮৪৪ জন সুস্থ হয়ে উঠেছেন। এ পর্যন্ত মোট সুস্থ হয়েছেন ৮ লাখ ৫৬ হাজার ৩৪৬ জন। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় সারা দেশে ৬০৫টি ল্যাবে ৩৬ হাজার ৮৫০টি নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে। এ পর্যন্ত পরীক্ষা হয়েছে ৬৮ লাখ ৬৬ হাজার ৬৮২টি নমুনা। ২৪ ঘণ্টায় নমুনা পরীক্ষার বিবেচনায় শনাক্তের হার দাঁড়িয়েছে ৩১ দশমিক ৬২ শতাংশ, আগের দিন যা ৩১ দশমিক ৩২ শতাংশ ছিল। দেশে এ পর্যন্ত মোট শনাক্তের হার ১৪ দশমিক ৪১ শতাংশ। শনাক্ত বিবেচনায় সুস্থতার হার ৮৬ দশমিক ৫৭ শতাংশ এবং মৃত্যুর হার ১ দশমিক ৬০ শতাংশ। ঢাকা বিভাগের মধ্যে ঢাকা জেলায় ৩ হাজার ৪৫৬ জন রোগী শনাক্ত হয়েছে। গত এক দিনে ঢাকা বিভাগে যে ৬৫ জনের মৃত্যু হয়েছে, তাদের মধ্যে ২৮ জন ঢাকা জেলার। আর খুলনা বিভাগে মারা যাওয়া ৫৫ জনের মধ্যে ১২ জন করে খুলনা ও কুষ্টিয়া বিভাগের বাসিন্দা ছিলেন। এছাড়া চট্টগ্রাম বিভাগে ৩৭ জন, রাজশাহী বিভাগে ১৫ জন, বরিশাল বিভাগে তিন জন, রংপুর বিভাগে ৯ জন, ময়মনসিংহ বিভাগে ১০ জন এবং সিলেট বিভাগে পাঁচ জনের মৃত্যু হয়েছে গত ২৪ ঘণ্টায়। মৃত ১৯৯ জনের মধ্যে ১০৭ জনেরই বয়স ছিল ৬০ বছরের বেশি।