ওরা আড়াই কোটি টাকার জাল স্ট্যাম্প বিক্রি করেছে

আপডেট : ০৯ জুলাই ২০২১, ০০:২৭

রাজধানীর পুরান ঢাকার তাঁতীবাজারে একটি ছাপাখানায় অভিযান চালিয়ে ৬১ লাখ টাকার জাল রেভিনিউ স্ট্যাম্প ও জাল কোর্ট ফি এবং এসব ছাপার বিভিন্ন যন্ত্রাংশ উদ্ধার করেছে র্যাব। এ ঘটনায় আব্দুর রহমান হাওলাদার (২২) ও আবুল কালাম সিকদারকে (৩৩) গ্রেফতার করা হয়েছে।

গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে তাঁতীবাজারে মায়ের দোয়া নামে একটি ছাপাখানায় র্যাব অভিযান চালিয়ে তাদেরকে গ্রেফতার করে। তারা গত চার বছর ধরে নিজস্ব প্রিন্টিং প্রেসে প্রায় আড়াই কোটি টাকার জাল রেভিনিউ স্ট্যাম্প ও জাল কোর্ট ফি ছেপে বাজারে বিক্রি করে।

গতকাল বিকালে রাজধানীর কাওরানবাজারে র্যাবের মিডিয়া সেন্টারে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান র্যাব-১০ এর অধিনায়ক এডিশনাল ডিআইজি মো. মাহফুজুর রহমান। সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন র্যাব-১০ এর যাত্রাবাড়ীর কোম্পানি কমান্ডার স্কোয়াড্রন লিডার মো. শাহরিয়ার ইসলাম ও র্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার সহকারী পরিচালক এএসপি ইমরান হোসেন।

সংবাদ সম্মেলনে এডিশনাল ডিআইজি মো. মাহফুজুর রহমান বলেন, সরকারের সিকিউরিটি প্রিন্টিং প্রেসে সরকারি রেভিনিউ স্ট্যাম্প ও কোর্ট ফি তৈরির কথা থাকলেও আধুনিক যন্ত্রপাতি ও প্রযুক্তি ব্যবহার করে তৈরি হচ্ছিল এসব জাল রেভিনিউ স্ট্যাম্প ও জাল কোর্ট ফি। তারা ৪ লাখ টাকার রেভিনিউ স্ট্যাম্প জাল করে বিক্রি করত মাত্র ৩২ হাজার টাকায়।

তিনি আরো জানান, রহমান হাওলাদারের বিরুদ্ধে নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় ২ কোটি ১১ লাখ টাকা সমমূল্যের জাল রেভিনিউ স্ট্যাম্প, জাল নন জুডিশিয়াল স্ট্যাম্প ও জাল কোর্ট ফি তৈরি ও সরবরাহ করার অপরাধে একটি মামলা রয়েছে। মামলার পর থেকে সে পলাতক থেকে এই ধরনের কাজ চালিয়ে আসছিল। 

তিনি বলেন, এরা প্রিন্টিং প্রেসে এসব তৈরি করে আরেক জনের হাতে দিতে। আরেকটি চক্র কৌশলে কোর্ট এলাকায় জাল রেভিনিউ স্ট্যাম্পগুলো বিক্রি করত। কোনটা জাল আর কোনটা আসল—তা চেনা খুবই কঠিন। এটা বড় চিন্তার বিষয়। এটা সারা দেশে তারা ছড়িয়ে দিয়েছে। ঢাকা শহরে যেহেতু তৈরি হচ্ছে তার মানে আঁচ করা যাচ্ছে  এগুলো জেলা ও বিভাগীয় পর্যায়ে তারা ছড়িয়ে দিয়েছে। এটা একটা বড় চক্র। কিছুদিন আগেও কোতোয়ালি এলাকায় এমন একটি চক্র ধরা পড়েছে। এর সঙ্গে আরো যারা জড়িত তাদের আইনের আওতায় আনার চেষ্টা চলছে।