করোনা মহামারির এই দুঃসময়ে দুই বাংলাদেশি নারী আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নিজেদের কাজ দিয়ে দেশের মুখ উজ্জ্বল করলেন। সারা দেশের মানুষকে আবেগে ভাসালেন। এরা হলেন কান চলচ্চিত্র উত্সবে অফিশিয়াল সিলেকশন পাওয়া ‘রেহানা মরিয়ম নূর’ চলচ্চিত্রের অভিনেত্রী আজমেরি হক বাঁধন এবং অস্ট্রেলিয়ার ‘মাস্টার শেফ’ প্রতিযোগিতায় শেষ চারে স্থান করে নেওয়া বাঙালি রন্ধনশিল্পী কিশোয়ার চৌধুরী নূপুর।
কান চলচ্চিত্র উত্সবে প্রদর্শিত বাংলাদেশের চলচ্চিত্র ‘রেহানা মরিয়ম নূর’ ভূয়সি প্রশংসা পেয়েছে, যেখানে নাম চরিত্রে অভিনয় করে বিশ্ব চলচ্চিত্রপ্রেমীদের মন কাড়েন অভিনেত্রী আজমেরি হক বাঁধন। উত্সব মঞ্চে বাঁধনের আবেগাপ্লুত কান্না বাংলাদেশসহ বিশ্বের মানুষের মন ছুঁয়ে যায়। চলচ্চিত্রটি শেষ হওয়ার পর উত্সবের বিচারক ও দর্শকেরা দাঁড়িয়ে ছবির নির্মাতা, অভিনয়শিল্পী ও কলাকুশলীদের সম্মানিত করেন।
মর্যাদাপূর্ণ কান চলচ্চিত্র উত্সবের ৭৪তম আসরে ইতিহাস গড়েছে বাংলাদেশের নির্মাতা আবদুল্লাহ মোহাম্মদ সাদের পরিচালনায় নির্মিত ছবিটি। উত্সবের গুরুত্বপূর্ণ বিভাগ ‘আঁঁ সার্তে রিগা’য় ১৮টি দেশের সিনেমার সঙ্গে প্রতিযোগিতা করছে ছবিটি। ছবিটির গল্প প্রসঙ্গে অভিনেত্রী বাঁধন বলেন, ‘প্রাইভেট মেডিক্যাল কলেজের একজন শিক্ষক রেহানা মরিয়ম নূরের মা, মেয়ে, বোন ও শিক্ষক হিসেবে যে জটিল জীবনযাপন, তা প্রতিটি মেয়ের সংগ্রামের গল্প। ছবিতে সেটা তুলে ধরা হয়েছে।’ বিশ্ব অঙ্গনে বর্তমানে আলোচনায় থাকা অন্যজন হলেন অস্ট্রেলিয়াপ্রবাসী বাংলাদেশি মেয়ে কিশোয়ার চৌধুরী নূপুর, যিনি দেশটির একটি টিভি চ্যানেলে রান্নাবিষয়ক প্রতিযোগিতা ‘মাস্টারশেফ’-এ অংশ নিয়ে বিচারকদের কাছে বাঙালি রান্নার অভূতপূর্ব প্রশংসা পেয়ে সেরা চারে স্থান করে নেন, যা ইতিমধ্যে সামজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুক, টুইটার, ইনস্টাগ্রামসহ বিভিন্ন মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। বিদেশে বেড়ে ওঠা কিশোয়ারের বাঙালি রান্নার ওপর যে দখল, তা বিচারক ও দর্শকদের রীতিমতো অভিভূত করেছে।
অস্ট্রেলিয়ার ভিক্টোরিয়া রাজ্যের মেলবোর্নের বাসিন্দা কিশোয়ার। জন্ম ও বেড়ে ওঠা অস্ট্রেলিয়াতেই। কিশোয়ার বাংলাদেশি ব্যবসায়ী কামরুল হোসাইন চৌধুরী ও লায়লা চৌধুরীর মেয়ে। মেলবোর্নের মোনাশ ইউনিভার্সিটি থেকে কমার্সে স্নাতক করা এই নারী লন্ডনের ইউনিভার্সিটি অব আর্টস থেকে স্নাতকোত্তর করেছেন। এখন নিজেদের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে কাজ করেন।
‘মাস্টারশেফ’ প্রতিযোগিতায় কিশোয়ারের খাবার খেয়ে বিচারকেরা যেমন তৃপ্ত হয়েছেন, তেমনি ৩৭ বছর বয়সি এই নারী দেশের জন্য যে ভালোবাসার কথা জানিয়েছেন, তাতে বাংলাদেশের দর্শকেরা আবেগে ভেসেছেন। কিশোয়ার গণমাধ্যমকে বলেছেন, ‘আমার স্বপ্নটা খুব সাধারণ, বাংলাদেশি খাবার তেমন একটা উপস্থাপিত হয় না। আবার যা-ও হয়, তা ভারতীয় খাবারের সঙ্গে মিশে যায়। আমার বাবা-মা প্রায় ৭০ বছর বয়সি, কিন্তু তারা এখনো বাংলাদেশের ঐতিহ্য আঁকড়ে আছেন। আমার স্বপ্ন হলো বাংলাদেশি রান্নার ওপর একটি বই লিখে যাওয়া। কারণ আমি যদি এটা আমার সন্তানের জন্য রেখে না যাই, তবে বাবা-মায়ের কাছ থেকে পাওয়া বাংলাদেশের সেই ঐতিহ্য আমার সঙ্গেই শেষ হয়ে যাবে।’
