অবাধে চলছে গাড়ি বেড়েছে মানুষের চলাচল

আপডেট : ০৯ জুলাই ২০২১, ০০:৩০

সরকারের কঠোর বিধিনিষেধের মধ্যেও রাজধানীতে ব্যক্তিগত গাড়ি, রিকশা, মোটরসাইকেলসহ বিভিন্ন পরিবহন অনেকটা নির্বিঘ্নে চলাচল করছে। নেই শুধু গণপরিবহনের উপস্থিতি। এছাড়া মানুষের উপস্থিতিও রয়েছে চোখে পড়ার মতো। পুলিশ চেকপোস্টগুলোতে তল্লাশি কার্যক্রম চলছে ঢিলেঢালাভাবে। তবে যেসব চেকপোস্টে গাড়ি থামানো হচ্ছে, সেসব জায়গায় সৃষ্টি হচ্ছে যানজট। এসব দেখে বোঝার উপায় নেই যে দেশে কঠোর বিধিনিষেধ চলছে। গতকাল বৃহস্পতিবার রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে,     সড়কে সড়কে চেকপোস্ট বসিয়ে তল্লাশি চালাচ্ছেন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা। সেনাবাহিনী, পুলিশ, র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব) ছাড়াও সার্বক্ষণিক টহলরত রয়েছেন বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) সদস্যরা। এরপরেও কোনোভাবেই মানুষের ঘর থেকে বের হওয়া ঠেকানো যাচ্ছে না। গত কয়েক দিনের তুলনায় সড়কে মানুষের উপস্থিতি বেড়েছে। অবাধে চলছে ব্যক্তিগত গাড়ি, রিকশা, মোটরসাইকেল ও মাইক্রোবাস। মাঝেমধ্যে বিভিন্ন অফিসের বড় বাসও চলাচল করছে। অনেকে রিকশায় চড়ে নিজ গন্তব্যে ছুটছেন। কেউ কেউ চলাচল করছেন হেঁটেই। এছাড়া বিভিন্ন মোড়ে অসংখ্য মানুষকে যানবাহনের জন্য অপেক্ষা করতে দেখা গেছে।

একটি এটিএম বুথে কর্মরত আবুল কালাম জানান, গত দুই-তিন দিন ধরেই রাস্তায় প্রাইভেট কার, রিকশা, মোটরসাইকেলসহ বিভিন্ন পরিবহন চলাচল করতে দেখা গেছে। রাস্তায় মানুষের উপস্থিতিও অনেক বেশি। শুরুতে সড়কে ব্যক্তিগত গাড়ি ও রিকশা এত বেশি দেখা যায়নি।

বিমানবন্দর সড়কে খিলক্ষেতের আগে পুলিশের তল্লাশিচৌকি। সেখানে দেখা গেছে, গাড়ি ছাড়া হচ্ছে একটা একটা করে। পেছনে দীর্ঘ লাইন। দেখলে মনে হবে স্বাভাবিক দিনের যানজট। কিন্তু চৌকি ছাড়িয়ে সামনের সড়ক ফাঁকা। পুলিশ প্রাইভেট কার দেখছে কিন্তু আটকাচ্ছে না। কিন্তু বাইক পেলেই থামিয়ে চলছে জিজ্ঞাসাবাদ।

রামপুরা ডিআইটি রোড দিয়ে কাকরাইলের দিকে এগিয়ে যেতে আর কোথাও চোখে পড়েনি পুলিশের তত্পরতা। রিকশা আর ক্ষণে ক্ষণে প্রাইভেট কার ছাড়া সড়কে চোখে পড়েছে মালবাহী পিকআপ ভ্যান। মাঝেমধ্যে অ্যাম্বুলেন্স। দুই পাশে খাবারের দোকান ছাড়া বাকি সবকিছুই বন্ধ।

ফুটপাতে পথচারীর সংখ্যাও কম নয়। যাদের দেখে শ্রমজীবী বলে মনে হয়। তাদের প্রায় কারও মুখেই মাস্ক নেই। আরো এগিয়ে গুলিস্তানের দিকে এসে দেখা গেল, রিকশার ছড়াছড়ি। মোড়ে মোড়ে তিন চাকার যানটির জটলা। তবে যাত্রী কম।

কাওরান বাজার এলাকার রিকশাচালক সাব্বির বলেন, ‘গত কয়েক দিনের থেইকা আইজকা ভালোই লোকজন দ্যাখতাছি। আইজকা ভাড়াও ভালো পাইছি। সকাল থেইকা দুপুর পর্যন্ত আমি রাস্তায় আছি। মানুষের কী দোষ? হ্যারা তো কামের লাইগাই বাইরায়।’