গত বছর পাকিস্তানের বিপক্ষে রাওয়ালপিন্ডি টেস্টে নাসিম শাহর হ্যাটট্রিক পূরণ হয়েছিল মাহমুদউল্লাহ রিয়াদের আনাড়ি ব্যাটিংয়ে। হ্যাটট্রিক বল জেনেও ব্যাট চালিয়ে স্লিপে ক্যাচ দিয়েছিলেন এ অভিজ্ঞ ব্যাটসম্যান। দৃষ্টিকটু সেই দৃশ্যের পর তার ওপর বেজায় চটেছিল টিম ম্যানেজমেন্ট। ৪৯ টেস্টেই মাহমুদউল্লাহর ক্যারিয়ার থেমে যাওয়ার উপক্রম হয়েছিল। কারণ পরে টানা পাঁচ টেস্টে দলেই জায়গা হয়নি তার।
অবশেষে টেস্টের বন্ধ দুয়ার খুলেছে মাহমুদউল্লাহর জন্য। লংগার ভার্সনের ক্রিকেটে পারফরম করে নয়, তামিম ইকবাল-মুশফিকুর রহিমের ইনজুরিতে ব্যাটিংলাইনে অভিজ্ঞতার ঘাটতি কমাতে ডানহাতি এ ব্যাটসম্যানকে শেষ মুহূর্তে জিম্বাবুয়ের সফরের টেস্ট দলে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। দলে ফেরার সঙ্গে একাদশেও জায়গা পেয়ে যান তিনি। বাংলাদেশের ষষ্ঠ ক্রিকেটার হিসেবে ৫০ টেস্ট খেলার গৌরব অর্জন করেন তিনি। ১৭ মাস পর টেস্ট খেলতে নেমে মাহমুদউল্লাহ দেখালেন নিজের সামর্থ্য। লাল বলের ক্রিকেটে ফেরাটা সেঞ্চুরি দিয়ে রাঙালেন তিনি।
গতকাল হারারেতে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ক্যারিয়ারের পঞ্চম সেঞ্চুরি তুলে নিয়েছেন ৩৫ বছর বয়সি এ ব্যাটসম্যান। আট নম্বরে নেমে খেলেছেন ক্যারিয়ার সেরা ইনিংস। দলের ইনিংস শেষে ১৫০ রানে অপরাজিত ছিলেন তিনি।
টেস্টে ফেরার ম্যাচেই দলের ত্রাতা হয়ে ধরা দেন মাহমুদউল্লাহ। ম্যাচের প্রথম দিনে ১৩২ রানে ৬ উইকেট হারিয়ে কাঁপছিল বাংলাদেশ। লিটন দাসের সঙ্গে ষষ্ঠ উইকেটে ১৩৮ রানের জুটি গড়ে বিপর্যয় ঠেকান তিনি। ৯ম উইকেটে তাসকিনকে নিয়ে দলকে টেনে গেছেন। একপ্রান্ত আগলে নিজের সহজাত খেলাটা খেলেছেন বেশ আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে। তাসকিনকে নিয়ে ১৯১ রানের রেকর্ড জুটি গড়ে বাংলাদেশকে প্রথম ইনিংসে বড় স্কোর এনে দিয়েছেন। পুরো ইনিংসে ২৭৮ বল খেলেছেন মাহমুদউল্লাহ, চার মেরেছেন ১৭টি, ছক্কা ১টি।
দুই বছর পর সেঞ্চুরি পেলেন মিডল অর্ডার এ ব্যাটসম্যান। ২০১৯ সালের ফেব্রুয়ারিতে হ্যামিল্টনে নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে ১৪৬ রানের ইনিংস খেলেছিলেন। গতকালের আগে এটিই ছিল তার ক্যারিয়ারের সর্বোচ্চ ইনিংস। গতকালের ইনিংস দিয়ে মাহমুদউল্লাহর টেস্ট ক্যারিয়ারও নতুন জীবন পেল।
মাহমুদউল্লাহ
রান ১৫০*
বল ২৭৮
চার ১৭
ছয় ১
