নবীনগরে নৌকারঘাট ইট-বালু ব্যবসায়ীদের দখলে

আপডেট : ০৯ জুলাই ২০২১, ২১:৪২

ব্রাহ্মণবাড়িয়া  প্রতিনিধি

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর পৌর এলাকার ৭ নম্বর ওয়ার্ডের কুমার পল্লির পাশ দিয়ে বয়ে চলা বুড়ি নদীর মাঝিদের নৌকা রাখার স্থান হিসেবে পরিচিত কোনাঘাট এলাকাটি ইট-বালুর ব্যবসায়ীদের দখলে চলে গেছে।

স্থানীয়রা জানান, নবীনগর পৌর এলাকার ৭ নম্বর ওয়ার্ডের ভোলাচংয়ের কোনাঘাট এলাকাটির নামকরণই করা হয়েছিল নৌকার মাঝিদের থামার কারণে। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে নৌকাযোগে মাটির তৈরি প্রতীমা বানাতে, মাটির হাঁড়িপাতিল কিনতে এখানে আসতেন মানুষ। শতশত মাঝি নৌকা নিয়ে এই কোনাঘাটে পাড়ি জমাতেন। এই মাঝিদের জন্যই তিতাস ও বুড়ি নদীর পাড় ঘেঁষা নবীনগর বাজারের নাম-ডাক। কালের বিবর্তনে বিস্তীর্ণ এই বুড়ি নদীটির কোনাঘাট এলাকাটি দখলের পর দখল হয়ে আজ মৃত প্রায়।

নবীনগর পৌরসভার পাশ দিয়ে বয়ে চলা নদীগুলোর মধ্যে তিতাস ও বুড়ি নদী অন্যতম। সেই তিতাস ও বুড়ি নদীকে কেন্দ্র করেই কোনাঘাট এলাকায় মৃিশল্পীরা শতাধিক বছর আগে তাদের ব্যবসা শুরু করেন। এর পর থেকে গুরুত্বপূর্ণ ব্যাবসায়িক স্থান হিসেবে গড়ে উঠেছে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার নবীনগর উপজেলার পৌর সদরের এই জায়গাটি। এলাকাবাসী জানায়, বর্ষা মৌসুমে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে এখানে মাঝিদের নৌকা আসত। উপজেলার গ্রামগুলোর নৌকাও সারা বছর এখানে থাকত। এখন স্থানীয় প্রভাবশালী মহল নদীর পাড় দখল করে ও নদী ভরাট করে ইট-বালুর ব্যবসা শুরু করেছেন। এক কথায় এখন এই বুড়ি নদীটি দখলে চলে গেছে।

এ বিষয়ে নবীনগর উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. ইকবাল হাসান বলেন, কেউ যদি নদীর জায়গা দখল করে ইট-বালুর ব্যবসা করে এটা আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ। আমরা সরজমিনে গিয়ে নদী দখলের বিষয়টি দেখব এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করব।