হুমকিতে দেশীয় মাছ
নাগরপুর (টাঙ্গাইল) সংবাদদাতা
নাগরপুরের নিম্নাঞ্চলে ইতিমধ্যে নদ-নদীর পানি ঢুকতে শুরু করেছে। শুরু হয়েছে মাছের প্রজনন মৌসুমও। আর মাছের প্রজনন মৌসুমে নিষিদ্ধ কারেন্ট ও বাঁধাই জালের পর এবার ভয়ঙ্কর চায়না ম্যাজিক জালের ফাঁদে ধরা পড়ছে দেশীয় প্রজাতির মাছ। সহজেই সব ধরনের মাছ ধরার আশায় খাল-বিলের জলে ও নদ-নদী জুড়ে জেলেরা ব্যবহার করতে শুরু করেছে এই চায়না জাল। এই জাল দিয়ে অবাধে শিকার করা হচ্ছে মাছ। করোনার কারণে নাগরপুর উপজেলা মত্স্য অফিস থেকে চায়না ম্যাজিক জালের বিরুদ্ধে এখন পর্যন্ত অভিযান পরিচালনা না করায় অবৈধ এ জালের ব্যবহার বেড়েছে। বিলের জলে ও নদ-নদীতে থাকা মিঠা পানির সব ধরনের দেশীয় প্রজাতির মাছ সূক্ষ্ম এ জালে ধরা পড়ছে। বিশেষ করে পানি বৃদ্ধি ও মাছের প্রজনন মৌসুমে ডিমওয়ালা চিংড়ি, পুটি, টেংরা, কৈ, শিং, মাগুর, তেলাপিয়া, বড় বেলে, বোয়াল, শোল, টাকিসহ প্রাকৃতিক সব মাছ চায়না জালে নিধন করছে এক শ্রেণির মাছ শিকারি। এতে ক্রমেই দেশি মাছশূন্য হয়ে পড়ছে নদ-নদী, খাল-বিল ও ছোট নদীগুলো।
স্থানীয় পেশাদার জেলেরা জানান, চায়না জালে সব ধরনের মাছ ছেকে ওঠে, সহজেই মাছ ধরা যায় এবং দাম কম হওয়ায়, অহরহ স্থানীয় মৌসুমি মাছ শিকারিরা মাছ ধরতে নেমেছে। ফলে আমরা যারা চিরাচরিত কৌশল দিয়ে মাছ ধরতাম তাদের জীবিকা নির্বাহ করা কঠিন হয়ে পড়েছে। তাই অনেকেই বাধ্য হয়ে চায়না জাল কিনেছেন। উপজেলার কোনাবাড়িতে দেখা গেছে, ছোট ছোট ডিঙ্গি নৌকায় করে এই জাল পাতা হচ্ছে। সারা রাত পেতে রাখার পর সকালে তুলে নেওয়া হয়। এ সময় জালে ধরা পড়ে দেশীয় প্রজাতির বিলুপ্ত প্রায় সব মাছ, বিলে থাকা জলজ প্রাণী এমনকি ছেকে ওঠে মাছের ডিমও। এ বিষয়ে ঐ এলাকার অনেকেই বলেন, এ জাল দিয়ে মাছ ধরলে কিছুদিন পর হয়তো বিলে আর কোনো দেশীয় মাছ পাওয়া যাবে না। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক চায়না জাল দিয়ে মাছ শিকারি জানান, চায়না জাল দিয়ে মাছ ধরা ঠিক না তারপরও জীবিকার তাগিদে মাছ ধরি।
নাগরপুর উপজেলা মত্স্য কর্মকর্তা (অতিরিক্ত দায়িত্ব) মাছুম বিল্লাহ বলেন, চায়না জাল দিয়ে মাছ শিকার করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। করোনার কারণে এখনো অভিযান পরিচালনা করতে পারিনি। তবে প্রাথমিকভাবে সব প্রকার নিষিদ্ধ জালের বিরুদ্ধে প্রচার-প্রচারণা চলমান রয়েছে। সব প্রকার নিষিদ্ধ জালের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করছি। এ বছরও এ অভিযান অব্যাহত থাকবে।
