দুর্ভোগে হাজারো মানুষ
জামালপুর প্রতিনিধি
টানা ভারী বর্ষণ ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে জামালপুর জেলার ইসলামপুর উপজেলায় বিভিন্ন নদনদীর পানি বেড়েই চলছে। সেই সঙ্গে পাল্লা দিয়ে অবিরাম ভাঙছে ব্রহ্মপুত্র ও দশআনী নদী তীরবর্তী এলাকায় বসতভিটা ও ফসলি জমি। গত বুধবার সরেজমিনে দেখা গেছে, পুরাতন ব্রহ্মপুত্র ও দশআনী নদীর বিলীন হতে চলেছে উপজেলার গাইবান্ধা ইউনিয়নের চন্দনপুর, চর পুটিমারী ইউনিয়নের ৪ নম্বর চর এবং চর গোয়ালিনী ইউনিয়নের লক্ষ্মীপুর এলাকার শত শত বসতভিটা ও হাজার হাজার একর ফসলি জমি। নদের তীব্র ভাঙনে দুর্ভোগে পড়েছে ভাঙনকবলিত হাজারও মানুষ।
নদীভাঙনের শিকার চন্দনপুর উত্তরপাড়া গ্রামের বাসিন্দা ভুক্তভোগী মুক্তার আলী, ছফের আলী, বাবুল মিয়া জানান, গত কয়েক দিনের ভারী বর্ষণ ও নদের প্রবল ভাঙনে আমাদের বসতভিটা, ফসলি জমি নদীগর্ভে চলে গেছে। ৪ নম্বর চরের সৈয়দ জামান, আলম মিয়া, আকবর হোসেন, নাজমা বেগম জানান, ব্রহ্মপুত্রের ভাঙনে আমরা সর্বস্বান্ত হয়ে পড়ছি। আমাদের ‘বাপ দাদার কবরের স্মৃতিচিহ্ন ছিল, তাও এ বছর নদের গর্ভে চলে যাচ্ছে। আমরা এখন কোথায় গিয়ে দাঁড়াব, জানি না।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এস এম মাজহারুল ইসলাম বলেন, ‘ইতিমধ্যে নদীভাঙন এলাকা পরিদর্শন করে ভাঙনকবলিত মানুষের তালিকা প্রস্তুত করতে ইউপি চেয়ারম্যানদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। দ্রুত সময়ের মধ্যে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এ ব্যাপারে উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট এস এম জামাল আব্দুন নাছের বাবুল বলেন, ‘নদীভাঙনের বিষয়ে পানি উন্নয়ন বোর্ড কর্তৃপক্ষকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য জানানো হয়েছে। পদক্ষেপ নিতে চেষ্টা অব্যাহত রেখেছি।’
পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী আবু সাঈদ বলেন, ‘ভাঙনকবলিত এলাকা পরিদর্শন করে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। অনুমোদন পেলে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।’
