উখিয়ায় বাড়ছে বাল্যবিবাহ

আপডেট : ০৯ জুলাই ২০২১, ২১:৪৭

রফিক উদ্দিন বাবুল, উখিয়া (কক্সবাজার) সংবাদদাতা

মহামারি করোনা ভাইরাস থেকে শিক্ষার্থীদের নিরাপদ দূরত্বে রাখার উদ্যোগ নিয়ে সরকার এক বছরেরও অধিক সময় ধরে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রেখেছে। এ ফাঁকে ছাত্রীরা বাল্যবিবাহের শিকার হচ্ছে। অন্যদিকে শিক্ষার্থীরা তথ্যপ্রযুক্তির অপব্যবহারসহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ছে। শিক্ষকদের শ্রেণিকক্ষে পাঠদান না থাকায় তাদের বিষয়ভিত্তিক পূর্ব অভিজ্ঞতার ঘাটতি দেখা দিয়েছে। এ অবস্থায় অনলাইন ক্লাসে শতভাগ শিক্ষার্থীর উপস্থিতি নিশ্চিতকরণের দাবি জানিয়েছেন শিক্ষকসহ শিক্ষানুরাগী অভিভাবক মহল।

মাধ্যমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা যায়, এ উপজেলায় ২৭টি মাধ্যমিক, ১৯টি মাদ্রাসা, দুটি কলেজ ও দুটি ভোকেশনাল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে প্রায় ২২ হাজার শিক্ষার্থী রয়েছে। করোনার প্রভাবে গত বছরের ১৭ মার্চ থেকে বন্ধ রাখা হয়েছে এসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। এ অবস্থায় সপ্তম থেকে অষ্টম শ্রেণিতে উত্তীর্ণ হওয়ার পর অনেক দরিদ্র পরিবারের মেয়ে বাল্যবিবাহের শিকার হচ্ছে। আবার অভিভাবকদের সচেতনতার অভাবে সংসারের প্রয়োজনে অনেক শিক্ষার্থী শিশুশ্রমের দিকে ঝুঁকেছে। শ্রেণিকক্ষে পাঠদান না থাকায় শিক্ষার্থীরা তথ্যপ্রযুক্তির অপব্যবহার, অসত্ সঙ্গসহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত হওয়ায় পরিবারে অশান্তি নেমে এসেছে।

পালংখালী ইউনিয়নের তাজনিমারখোলা গ্রামের মাছচাষি হায়দার আলী মিয়াজী জানান, স্কুল-কলেজ বন্ধ থাকায় অলস সময় কাটাতে গিয়ে ছেলে সন্তানরা মোবাইলের প্রতি ঝুঁকেছে। তথ্যপ্রযুক্তির অপব্যবহারে পিতা-মাতার দৃষ্টি এড়াতে বিভিন্ন এলাকায় গিয়ে অশ্লীল ছবি ও জুয়ার সঙ্গে জড়িয়ে পড়ছে। এ নিয়ে গ্রামে ছেলেদের মধ্যে কথা-কাটাকাটি, পরে মারামারির ঘটনাও ঘটছে। কুতুপালং উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুল মান্নান জানান, তার স্কুলের অনেক ছাত্রী বাল্যবিবাহের শিকার হয়েছে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার কারণে ৭৫ শতাংশ অ্যাসাইনমেন্ট জমা পড়েনি। শিক্ষার্থীর সঙ্গে শিক্ষকদের যোগাযোগ নেই। এ অবস্থায় শিক্ষার্থীদের আবার স্কুলমুখী করা কঠিন হয়ে পড়বে।

উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার (ভারপ্রাপ্ত) বদরুল আলম বলেন, ‘করোনার মতো মহামারি থেকে শিক্ষার্থীদের নিরাপদ দূরত্বে রাখতে সরকার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রেখেছে। টানা ছুটিতে থাকায় শিক্ষা কার্যক্রম মুখ থুবড়ে পড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এ অবস্থায় শিক্ষার্থীদের সপ্তাহে এক দিন অন্তত স্বাস্থ্যবিধি মেনে শ্রেণিকক্ষে আনার ব্যবস্থা করলে ভালো হবে।’ এছাড়া শিক্ষকদের বিষয়ভিত্তিক অভিজ্ঞতার ঘাটতি পূরণের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা রাখা একান্ত অপরিহার্য বলে ঐ কর্মকর্তা মনে করেন।

উখিয়া থানার ওসি সঞ্জুর মোর্শেদ বলেন, বাল্যবিয়ে নিয়ে আইনশৃঙ্খরা কমিটিতে উত্থাপন করা হয়েছে। বাল্যবিয়ে ও শিশুশ্রম প্রতিরোধে স্থানীয় প্রশাসনকে আরো তত্পর হওয়ার জন্য বলা হয়েছে।