‘অর্থ আমাকে কখনো নিয়ন্ত্রণ করতে পারেনি’

আপডেট : ০৯ জুলাই ২০২১, ২১:৪৯

 

এদেশের অভিনয়শিল্প, বিজ্ঞাপন, মঞ্চ, চিত্রকলা। শিল্পের প্রায় প্রতিটি পথ সাফল্যের সঙ্গে ছুঁয়েছেন আফজাল হোসেন। দীর্ঘ বিরতির পর একেবারে ভিন্ন লুকে, ভিন্ন মেজাজে, ভিন্ন চরিত্রে এলেন মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর নতুন ওয়েব সিরিজ ‘লেডিস অ্যান্ড জেন্টলম্যান’-এ। অভিনয়ে নিজের জাত চেনালেন এখানেও। সম্প্রতি নিজের বিভিন্ন কাজের ভাবনা ও জীবন দর্শন নিয়ে কথা বললেন তিনি। লিখেছেন তানভীর তারেক

অনেকদিন পর মঞ্চে ফিরছেন। মঞ্চনাটক থেকে দূরে থাকার কারণ কী ছিল?

দীর্ঘদিন ধরেই তো মঞ্চের সঙ্গে নিজেকে জড়িয়ে রেখেছি। মাঝে নানা কাজে ব্যস্ত হয়ে পড়ায় অনেকদিন মঞ্চে কাজ করতে পারিনি। তবে মঞ্চ থেকে দূরে থাকা নিয়ে অন্তর্দহন ছিল। সেই দহন থেকে শিগগিরই মুক্তি পেতে যাচ্ছি। আমরা নতুন একটি নাটকের রিহার্সেল করছি। করোনা পরিস্থিতি ভালো হলে সেটা মঞ্চে আসবে।

দীর্ঘ বিরতীর পর দেশের বাইরে আপনার ছবির প্রদর্শনী হলো। প্রদর্শনী আয়োজনে এত দীর্ঘ সূত্রিতার কারণ কী? কেন এই অলসতা?

এটা আসলে অলসতা না। আমি মাঝে কিন্তু ছবি আঁকা প্রায় ছেড়েই দিয়েছিলাম। যদিও ঢাকায় এসেছিলাম ছবি আঁকা শিখতে। কিন্তু অভিনয়, নির্মাণ ব্যস্ততায় সেভাবে ছবি আঁকা হয়ে ওঠেনি। তবে ৭-৮ বছর আগে আমার স্ত্রীর কথায় আবার ছবি আঁকা শুরু করি।

গাঁটের পয়সা খরচ করে মঞ্চ নাটক করতে হয়। কিন্তু ক্যারিয়ারের শুরুর দিকে আপনি এই মাধ্যমটি থেকে বাণিজ্যিক মাধ্যম বিজ্ঞাপনে নিজেকে প্রতিষ্ঠা করেন। এই দুটি বিষয় কী সাংঘর্ষিক নয়?

আমি যখন আর্টের ছাত্র তখন থেকেই ভাবতাম আমাকে উপার্জন করতে হবে। সে সময় শিল্পীদের সম্পর্কে যে ধারণা পেতাম তার মাঝে ছিল শিল্পীদের লম্বা চুল থাকবে, এলোমেলো জীবন থাকবে এবং শেষ বয়সে কাশি নিয়ে মারা যাবে! আমি এই দর্শনের বিপরীত ছিলাম। তবে সেসময় প্রতিষ্ঠিত ছিলাম কি-না জানি না। বাণিজ্যকে বাণিজ্য হিসেবে ভাবিনি। আমি অর্থের প্রয়োজনে বাণিজ্যের সঙ্গে যুক্ত হয়েছি, কিন্তু অর্থ আমাকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারেনি।

সে সময় টেকনোলজি, যন্ত্রপাতি থেকে শুরু করে নানা সমস্যা ছিল। তারপরও বিজ্ঞাপনে নতুন ধারার সূচনা করেছিলেন। এই পরিবর্তন সাধনের শক্তি কী ছিল?

আমি আসলে করতে হবে বলে কাজ করি না। বাণিজ্যের জন্য বা বাস্তবিক নয়, এমন কাজ করতে চাইনি। আমি তখন দেখতাম যে, বিজ্ঞাপনে আলাদা সেট থাকে না, বিজ্ঞাপনের জন্য আলাদা ডিজাইনের ফার্নিচার থাকে না। তাছাড়া এই মাধ্যমটি বাইরের দেশের ওপর নির্ভরশীল ছিল। কিন্তু আমার চ্যালেঞ্জ ছিল সব আমার দেশেই হবে। সাফল্য যদি পেয়ে থাকি তো সেটা আমার চেষ্টার ফল।

এ প্রজন্মের কার কাজ ভালো লাগে বা কার মাঝে সম্ভাবনার আলো দেখতে পান?

এ প্রজন্মের অনেকেই ভালো কাজ করছেন এবং তাদের কাজ দেখে ভালোই লাগে। তবে একটা বিষয়ে খুব খারাপ লাগে যে, যাদের কাজ ভালো হচ্ছে তাদের অনেকের কাজকেই আমরা প্রচার করছি না বা তাদের প্রমোট করছি না। কিন্তু মাধ্যমটি তাদের অনুকূলে না থাকলেও ভালোবাসা দিয়ে কাজটি করে যাচ্ছে। এই কাজটি করা হলে মাধ্যমটি আরো এগিয়ে যেত।

কয়েক দশক ধরে শিল্পকে লালন করছেন, শাসন করছেন। কিন্তু এখনো শিল্প বা শিল্পীর মূল্য সেভাবে বাড়েনি। এই ব্যর্থতার দায় কী আপনাদের মতো শিল্পমনাদের নয়?

কখনো কখনো অনেকে বলে থাকেন আমরা চাইলেই এই কাজটি করতে পারতাম। আমাদের সেই জায়গা বা ক্ষমতা রয়েছে। কিন্তু আমরা তো জানি আমরা শক্তিহীন! সৃজনশীল মানুষের আলাদা শক্তি বা সম্মানকে কোথাও আমি গণ্য করতে দেখি না। আমরা কী কখনো ভেবেছি শিল্পী-সংস্কৃতি দিয়ে একটি দেশ বিশ্ব মানচিত্রে অনন্য জায়গা করে নিতে পারে? আমরা কোন শিল্পীকে মূল্য দিয়ে অনন্য আসন দিয়েছি? আমরা আসলে সম্মান দিতে শিখিনি। তবে জোর করে যে সম্মান আদায় করে নিতে পারে তার জন্য সম্মান আছে।