ফ্রান্সের আদালতের দ্বারস্থ হয়ে প্যারিসে থাকা ভারত সরকারের ২০টি সম্পত্তি জব্দের অধিকার পেয়েছে যুক্তরাজ্যভিত্তিক তেল ও গ্যাস অনুসন্ধান কোম্পানি কেয়ার্ন এনার্জি। নয়া দিল্লির কাছ থেকে ১৭২ কোটি ডলার আদায়ের অংশ হিসেবে তারা ঐ সম্পত্তিগুলোর দখল পেতে ফ্রান্সের আদালতে আবেদন করেছিল। কোম্পানিটি যেসব সম্পত্তি জব্দের অধিকার পেয়েছে, তার মধ্যে বেশির ভাগই ফ্ল্যাট। প্যারিসের কেন্দ্রস্থলে অবস্থিত এই ফ্ল্যাটগুলো ভারত সরকারের বিভিন্ন কাজে ব্যবহূত হতো। আদালত যে ২০টি সম্পত্তি জব্দের অধিকার কেয়ার্নকে দিয়েছে, তার বাজারমূল্য বাজারমূল্য প্রায় ২ কোটি ৪০ লাখ ডলার (২ কোটি ইউরো) বলে এ বিষয়টি সম্পর্কে অবগত তিন ব্যক্তি বার্তা সংস্থা পিটিআইকে জানিয়েছেন।
১১ জুন ফ্রান্সের একটি ট্রাইব্যুনাল প্যারিসের ঐ আবাসিক স্থাপনাগুলো জব্দে কেয়ার্নের আবেদনের পক্ষে রায় দেয়। বুধবার এ সংক্রান্ত সব আইনি প্রক্রিয়া শেষ হয় বলে বেশ কয়েকটি ভারতীয় গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। জব্দের অধিকার পেলেও কেয়ার্ন এখনই ঐ সব স্থাপনায় বসবাসকারী ভারতীয় কর্মকর্তাদের সেখান থেকে উচ্ছেদ করবে না বলেই মনে করা হচ্ছে। এনডিটিভি জানিয়েছে, স্কটল্যান্ডভিত্তিক কোম্পানি কেয়ার্ন ১৯৯৪ সালে ভারতের তেল ও গ্যাস খাতে বিনিয়োগ করে। এক দশক পর তারা রাজস্থানে ব্যাপক তেলের সন্ধান পায়। ২০১৪ সালের একটি কর আইন নিয়ে কেয়ার্নের সঙ্গে ভারত সরকারের বিরোধ দেখা দেয়। কোম্পানিটি তাদের ভারতে কার্যক্রমের ১০ শতাংশ বিক্রি করে দেওয়ার চেষ্টা করলে ভারতের আয়কর দপ্তর তা জব্দ করে। ভারতীয় আয়কর দপ্তর পরে কেয়ার্ন এনার্জিকে ১০ হাজার ২৪৭ কোটি রুপি কর, এর সুদ এবং জরিমানা দিতেও নির্দেশ দেয়। ঐ অর্থ আদায়ে কর্তৃপক্ষ কেয়ার্নের শেয়ার বিক্রি করে দেয় এবং তাদের ডিভিডেন্ড বাজেয়াপ্ত করাসহ বেশ কয়েকটি পদক্ষেপ নেয়। খবর বিবিসির।
ভারতীয় কর্তৃপক্ষের এসব পদক্ষেপের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক সালিশি আদালতে যায় কেয়ার্ন। কয়েক বছরের আইনি লড়াইয়ের পর গত বছরের ডিসেম্বরে নেদারল্যান্ডসের ঐ আদালত তেল ও গ্যাস অনুসন্ধান কোম্পানিটির পক্ষে রায় দেয়। তারা ক্ষতিপূরণসহ কেয়ার্নকে ১৭২ কোটি ৫০ লাখ ডলার দিতে বলে। ভারত এই রায় মেনে না নেওয়ায় কেয়ার্ন এখন বিভিন্ন দেশে থাকা ভারত সরকারের সম্পদ জব্দের মাধ্যমে পাওনা উদ্ধারে দেশগুলোর আদালতের দ্বারস্থ হচ্ছে। গত মাসে তারা যুক্তরাষ্ট্রের একটি আদালতে এয়ার ইন্ডিয়ার সম্পদ জব্দের অধিকার চেয়ে আবেদন করেছে। আরো কয়েকটি দেশে এ ধরনের আবেদন হবে বলে মনে করা হচ্ছে।
