বন্দর খেয়াঘাটে বাড়তি টোল

আপডেট : ০৯ জুলাই ২০২১, ২১:৫৭

দুর্ভোগ, ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী

হাবিবুর রহমান বাদল, নারায়ণগঞ্জ

বন্দর খেয়াঘাটে শুরু হয়েছে নৈরাজ্য। চরম দুর্ভোগে যাত্রী। এ বিষয়ে স্থানীয় এমপি এ কে এম সেলিম ওসমানের হস্তক্ষেপ কামনা করছেন সদর বন্দরের বাসিন্দারা। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, তাদের কাছ থেকে টোল বাবদ বাড়তি টাকা নেওয়া হচ্ছে। তারা বলন, ‘এমপি সাহেব না আমাগো লইগা ফ্রি ট্রলার দিছে, বেশি টাকা দিতে নিষেধ করেছেন। এহন দেহি করোনার মধ্যেও আমাগো থেকে ১০ টাকা করে নিতাছে? যাক, তুমরা খুশি থাহো।’ এমনভাবে ক্ষোভ প্রকাশ করেন বন্দর খেয়াঘাটে বাড়তি টোল দেওয়াকালে মাছ বিক্রেতা ইয়াকুব মিয়া। কিছু সময় পর মাছ বিক্রেতা জোহরা বানু একইভাবে ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘সেলিম ওসমান এমপি আমাগো বেশি ভাড়া দিতে না করছে। কিন্তু লকডাউন শুরুর পর থেকে বন্দর খেয়াঘাটে আমার কাছ থেকে বেশি টাকা নিতাছে, প্রতিবাদ করায় ধমক খেতে হয়েছে।’

বন্দর খেয়াঘাট ও লঞ্চ টার্মিনাল ঘাটে টোল বাবদ বাড়তি টাকা নেওয়া নিয়ে ইতিমধ্যে বন্দরবাসীদের মধ্যে চাপা ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে। এরই মধ্যে লকডাউন হওয়ায় ভ্রাম্যমাণ আদালতের উপস্থিতি থাকায় কেউ এ ব্যাপারে প্রতিবাদ করতে পারছেন না। সে জন্য এমপি সেলিম ওসমানের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন তারা। জানা যায়, বন্দর খেয়াঘাটে সদর-বন্দর আসনের এমপি সেলিম ওসমান শহর-বন্দরবাসীর সুন্দর পরিবেশে চলাচলের জন্য তার অধীনে লোকজন দিয়ে ঘাট পরিচালনা করা হয়। তিনি সংবাদমাধ্যম ও বিভিন্ন সভা-সমাবেশে বন্দর ঘাট থেকে টোল বাবদ বাড়তি টাকা নেওয়া যাবে না উল্লেখ করে বক্তব্যে রেখেছেন। এতে তার প্রতি বন্দরবাসী কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। কিন্তু গত পহেলা জুলাই থেকে বন্দর ঘাট দায়িত্বরত কর্মকর্তা ও লঞ্চ টার্মিনাল ঘাটের ইজারাদারের লোকজন বাড়তি টাকা নেওয়ায় বন্দরবাসীর মধ্যে সমালোচনা সৃষ্টি হয়েছে। তারা জানান, নৌকায় মালামালের জমা তুলছে বিল্লাল, চম্পা ও মফিজুল ইসলাম। এ টাকা জমা হচ্ছে লঞ্চ টার্মিনাল ইজারাদার জুয়েলের কাছে। এমপি সেলিম ওসমান বটতলা ঘাট ও বন্দর খেয়াঘাট দিয়ে মালামালের জমা মওকুফ করে দিয়েছেন বন্দরবাসীর জন্য।

অপরদিকে বন্দর খেয়াঘাটে ট্রলার ও নৌকা দিয়ে মালামাল নিয়ে যাত্রীদের অতিরিক্ত টাকা গুনতে হচ্ছে। মাছ বিক্রেতা ইয়াকুব ও জোহরা জানান, নিজের মাথায় করে মাছ বিক্রি করে হাঁড়ি নিয়ে বন্দরে যান কয়েক বছর ধরে। এখন লকডাউনের শুরুতে ১০ টাকা করে নেওয়া হচ্ছে। তার ভাষায়, ‘এমপি সাহেব আমাগো টাকা দিয়ে কী করবো?’ এদিকে, বন্দর খেয়াঘাটের জন্য নতুন করে নৌকা জমা নেওয়ার জন্য ইতিমধ্যে মাঝিদের সঙ্গে আলোচনা চলছে বলে জানা গেছে। বন্দর খেয়াঘাটের দায়িত্বপ্রাপ্ত সাবেক কর্মকর্তা দিদার খন্দকার এ ব্যাপারে জানান, ‘বন্দর খেয়াঘাট এমপি সেলিম ওসমানের নির্দেশে পরিচালনা করেছিলাম। ৩০ জুন রাত থেকে নতুন কর্মকর্তারা দায়িত্ব বুঝে নিয়েছেন। ১ জুলাই থেকে কোনো বিষয়ে প্রশ্ন থাকলে তাদের জিজ্ঞাসা করুন। বন্দর ঘাটের নতুন দায়িত্বপ্রাপ্তরা হলেন—রিয়েল ও শাহিন। তাদের বিরুদ্ধে ঘাটের আশপাশে ও রাস্তায় দোকান বসিয়ে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে। আর সেই টাকা তুলছেন হুমায়ুন নামে এক ব্যক্তি।