মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন জানিয়ে দিয়েছেন, আফগানিস্তানের দায়িত্ব নিতে হবে আফগান নেতাদেরই। আমেরিকা আর সাহায্য করতে পারবে না। এদিকে দেশটির ৮৫ ভাগ দখলে নেওয়ার দাবি করেছে তালেবান। প্রেসিডেন্ট আশরাফ ঘানির দাবি, তারা তালেবানকে মোকাবিলা করতে পারবেন। খবর বিবিসি ও ডয়চেভেলের
প্রেসিডেন্ট বাইডেন হোয়াইট হাউজে জানিয়েছেন, আফগানিস্তানের দায়িত্ব নিতে হবে সে দেশের নেতাদেরই। সমস্ত নেতার একসঙ্গে আলোচনা করে নতুন আফগানিস্তানের রূপরেখা তৈরি করতে হবে। বাইডেন বলেছেন, তিনি তালেবানকে বিশ্বাস করেন না। কিন্তু কাবুলের সরকার এবং প্রশাসনকেই তার মোকাবিলা করতে হবে। মার্কিন সাহায্যে তৈরি কাবুলের সরকারের হাতে এখন সে ক্ষমতা আছে বলে তিনি মনে করেন। বাইডেনের বক্তব্য, এর আগে কোনো দেশ আফগান নেতাদের এক করতে পারেনি। সবাইকে একসঙ্গে বসিয়ে ঐক্যবদ্ধ আফগানিস্তান তৈরি করতে পারেনি। বাইডেন জানিয়েছেন, তিনি চান না আর একটিও মার্কিন প্রাণ আফগানিস্তানে নষ্ট হোক।‘ বাইডেন বলেন, আফগানিস্তান থেকে মার্কিন সৈন্য প্রত্যাহারের পরেও দেশটিতে মার্কিন দূতাবাস, কাবুল বিমানবন্দর এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার নিরাপত্তার জন্য ৬৫০ থেকে ১ হাজার মার্কিন সৈন্য রাখা হবে। আমেরিকায় সাম্প্রতিক জনমত জরিপে দেখা গেছে, বেশির ভাগ মানুষ আফগানিস্তান থেকে সৈন্য প্রত্যাহারের পক্ষে। তবে রিপাবলিকান সমর্থকরা সৈন্য প্রত্যাহারের বিষয়টি নিয়ে কিছু সন্দিহান। বাইডেন বলেন, মার্কিন বাহিনীর সঙ্গে যেসব আফগান বাসিন্দা অনুবাদক এবং অন্যান্য ভূমিকায় কাজ করেছে, তাদের আমেরিকায় নিয়ে আসার চেষ্টা করা হচ্ছে। এ পর্যন্ত আড়াই হাজার বিশেষ অভিবাসী ভিসা ইস্যু করা হয়েছে উল্লেখ করে বাইডেন বলেন, এদের মধ্যে অর্ধেক সংখ্যা আসতে পেরেছে।
আফগানিস্তানের প্রেসিডেন্ট আশরাফ ঘানি মনে করেন, জঙ্গিদের মোকাবিলা করার জন্য সরকারি বাহিনীর সক্ষমতা আছে। যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসনও বৃহস্পতিবার পার্লামেন্টকে জানিয়েছেন, আফগানিস্তান থেকে অধিকাংশ সেনা দেশে ফিরে এসেছে। বাকিরাও দ্রুত ফিরে আসবে।
৮৫ ভাগ এলাকা দখলের দাবি তালেবানের
মস্কোতে তালেবানের সঙ্গে বৈঠকের পর রাশিয়া জানিয়েছে, তালেবান আশ্বস্ত করেছে, দেশের ভেতর বিদেশি দূতাবাসগুলো যাতে সুরক্ষিত থাকে, তারা তা দেখবে। আফগান রীতি এবং ইসলামিক নীতি মেনে তারা মানবাধিকার রক্ষা করবে। আলোচনায় তালেবান বলছে, আফগানিস্তানে ঘাঁটি গেড়ে অন্য কোনো গোষ্ঠীকে তারা প্রতিবেশী দেশে হামলা চালাতে দেবে না। তালেবানের পক্ষে প্রধান আলোচনাকারী কর্মকর্তা শাহাবুদ্দিন দেলাওয়ার জানিয়েছেন, আফগানিস্তানের ৮৫ শতাংশ এলাকা এখন তাদের নিয়ন্ত্রণে। তবে নিরপেক্ষ কোনো সূত্র থেকে এই দাবির সত্যতা যাচাই করা যায়নি। এদিকে ইরান-আফগান সীমান্ত দখল করেছে তালেবান। আফগানিস্তানের সঙ্গে ইরানের সীমান্ত এখন তারাই নিয়ন্ত্রণ করছে। দেশের ভেতর পঞ্চাশেরও বেশি অঞ্চল তারা দখল করেছে। ঘিরে ফেলেছে আঞ্চলিক রাজধানীগুলো।
