গেটে তালা পুড়ে কয়লা ৪৯ শ্রমিক

আপডেট : ১০ জুলাই ২০২১, ০০:৪৫

নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জের ভুলতায় সজীব গ্রুপের হাশেম ফুড অ্যান্ড বেভারেজের সেজান জুস কারখানায় বৃহস্পতিবার পৌনে ছয়টার দিকে আগুন লাগে। আগুন নিয়ন্ত্রণে যোগ দেয় ফায়ার সার্ভিসের ১৮টি ইউনিট। রাতেই তিন শ্রমিকের মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়। শুক্রবার সকাল ১০ টার দিকে কারখানার চতুর্থ তলার কলাপসিবল গেটের তালা ভেঙে ভেতর থেকে একে একে উদ্ধার হতে থাকে লাশ। একটি নয়; দুটি নয়; ৪৯ টি লাশ উদ্ধার করা হয়। আগুনে লাশগুলো পুড়ে বিকৃত হয়ে গেছে, চেনারও উপায় নেই। এর মধ্যে অধিকাংশই শিশু      শ্রমিক বলে জানা গেছে।   অভিযোগ উঠেছে, আগুন লাগার পর কারাখানায় নিয়োজিত নিরাপত্তা কর্মীরা চতুর্থ তলার কলাপসিবল গেটে তালা দিয়ে দেন। এ কারণে সেখানে কর্মরত শ্রমিকরা বের হতে পারেননি। এসময় ফ্লোর ইনচার্জ চিত্কার করে বলেন, ‘নিচে আগুন লেগেছে, উপরে আসবে না। তালা মারা থাকলেও সমস্যা হবে না।’ পরে জীবন্ত দগ্ধ হয়ে ঐ ফ্লোরেই মারা যান শ্রমিকরা। এছাড়া কারখানা নির্মাণে কোনো শর্তই মানা হয়নি। ভবনটিতে ছিল না কোনো অগ্নিনির্বাপন ব্যবস্থা। ছয়তলা ভবনটির প্রতিটি ফ্লোরই কেমিকেলের বস্তায় ঠাসা ছিল।

কঠোর বিধিনিষেধের মধ্যে ঈদুল আজহার আগে এই মর্মান্তিক ঘটনায় রূপগঞ্জে কারখানার শ্রমিকদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। বিকাল তিনটা পর্যন্ত ৪৯ জনের মৃতদেহ উদ্ধার করে পাঁচটি এ্যাম্বুলেন্স করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়। আগুনে লাশগুলো বিকৃত হয়ে যাওয়ায় স্বজনরা শনাক্ত করতে পারেননি। ফলে কারাখানার সামনে দিনভর ছিল নিখোঁজদের খুঁজে বের করার আকুতি জানিয়ে স্বজনদের আহাজারি। এর আগে সকালে অগ্নিনির্বাপনে অবহেলার অভিযোগ এনে শ্রমিকরা বিক্ষোভ মিছিল করেন। তারা সড়ক অবরোধেরও চেষ্টা করেন। এসময় পুলিশের সঙ্গে শ্রমিকদের সংঘর্ষ ও ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। পুলিশ শটগান দিয়ে গুলি করে বিক্ষোভরত শ্রমিকদের সরিয়ে দেয়। এতে অন্তত ১০ জন শ্রমিক আহত হন।

ফায়ার সার্ভিসের ঢাকা বিভাগের উপ-পরিচালক দেবাশীষ বর্ধন বলেন,  চারতলার ফ্লোরে প্রবেশমুখে মোটা জিআই তার দিয়ে তৈরি শাটার তালাবদ্ধ ছিল। ফায়ার সার্ভিস কর্মীরা শাটার কেটে ভিতরে প্রবেশ করে লাশগুলো উদ্ধার করেছে। শুক্রবার রাত ৮ টার দিকে এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত কারখানার ৫ম ও ষষ্ঠ তলার আগুন নিভিয়ে ফেলতে সক্ষম হয় ফায়ার সার্ভিস। রূপগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাহ্ নুসরাত জাহান বলেন, আগুন মোটামুটি নিয়ন্ত্রণে আনার পর ফায়ার সার্ভিস ৫ম ও ষষ্ঠ তলায় প্রাথমিকভাবে তল্লাশি চালিয়ে কোনো লাশ পায়নি।

এদিকে কারখানায় আগুনের ঘটনায় নারায়ণগঞ্জের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) শামীম ব্যাপারীকে প্রধান করে সাত সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। জানতে চাইলে তদন্ত কমিটির প্রধান বলেন, লাশ শনাক্ত করার জন্য ডিএনএ নমুনা পরীক্ষার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ঢাকা মেডিকেল কলেজের মর্গ থেকে লাশের ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করে রাখা হবে। এরপর স্বজনদের ডিএনএ নমুনা পরীক্ষা করে নিশ্চিত হওয়া যাবে যে কার লাশ কোনটি।

জেলা প্রশাসনের তহবিল থেকে নিহতদের পরিবারকে ২৫ হাজার টাকা ও আহতদের চিকিত্সার জন্য ১০ হাজার টাকা করে অনুদানের ঘোষণা দিয়েছেন নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসক মোস্তাইন বিল্লাহ। এছাড়া কারখানার মালিকপক্ষ থেকে বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী গোলাম দস্তগীর গাজী হতাহতদের ক্ষতিপূরণের ব্যবস্থা করবেন বলে আশ্বাস দিয়েছেন।

তৃতীয়তলা থেকে আগুনের সূত্রপাত:ভবনের তৃতীয়তলায় কার্টন সেকশন থেকে আগুনের সূত্রপাত। তবে ঠিক কীভাবে আগুন লেগেছে সে ব্যাপারে কেউ কিছু স্পষ্ট করে বলতে পারছেন না। আগুনের খবর ছড়িয়ে পড়লে চতুর্থ তলার ফ্লোরের নিরাপত্তা কর্মীরা কলাপসিবল গেটের শাটার নামিয়ে তালা ঝুলিয়ে দেন। প্রথম দফায় ফায়ার সার্ভিসের ৪ টি ইউনিট গিয়ে আগুন নেভানোর কাজ শুরু করে। ঐ সময় কিছু সংখ্যক শ্রমিক ভবন থেকে লাফিয়ে আত্মরক্ষা করেন। লাফিয়ে পড়া শ্রমিকদের মধ্যে ৩ জনের মৃত্যু হয়। রাত যত গভীর হতে থাকে আগুনের লেলিহান শিখা ততই বাড়তে থাকে। একে একে ফায়ার সার্ভিসের ১৮ টি ইউনিট আগুন নেভানোর কাজে যোগ দেয়। শুক্রবার সকাল ৯ টার দিকে ভবনের নিচতলা থেকে চার তলা পর্যন্ত আগুন নিভিয়ে ফেলে ফায়ার সার্ভিস। আগুনে ভবনের ফাটল দেখা দেয়। ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা প্রায় ২৬ ঘন্টা একটানা চেষ্টা চালিয়ে শুক্রবার রাত ৮ টার দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হন।

শ্রমিকদের বিক্ষোভ :সকাল সাড়ে ১০ টার দিকে বিভিন্ন অভিযোগে শ্রমিকদের স্বজনরা ক্ষিপ্ত হয়ে কারখানার অফিসকক্ষ ও নিরাপত্তাকর্মীদের লক্ষ্য করে  ইট পাটকেল নিক্ষেপ করেন। একপর্যায়ে পাশে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের কর্ণগোপ এলাকায় অবরোধ করে গাড়ি ভাঙচুর করেন। নিরাপত্তাকর্মীদের পিটিয়ে তাদের তিন জনের অস্ত্র ছিনিয়ে নিয়ে পাশের জলাশয়ে ফেলে দেয়। পরে দু’টি অস্ত্র উদ্ধার করা হয়।  এসময় পুলিশ ধাওয়া করে উত্তেজিত শ্রমিক ও তাদের স্বজনদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়। পুলিশ শটগান দিয়ে গুলি করলে হাসিবুল আলমসহ ১০ শ্রমিক আহত হন।

প্রত্যক্ষদর্শী ও কর্তৃপক্ষের বক্তব্য : কারখানার পাশে চায়ের দোকানদার আব্দুর রহমান বলেন, আগুন লাগার কিছুক্ষণের মধ্যেই ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি চলে আসে। তার কিছুক্ষণ পরেই ভবনের বিভিন্ন তলা থেকে লাফিয়ে শ্রমিকরা মাটিতে পড়তে থাকে। উত্সুক মানুষের ছিল অনেক ভিড়।

কারখানার ব্যবস্থাপক (প্রশাসন) কাজী রফিকুল ইসলাম বলেন, করোনার কারণে কারখানার অধিকাংশ ইউনিট বন্ধ ছিলো। চালু ছিলো অল্প কিছু বিভাগ। ভবনের একাধিক ফ্লোর গোডাউন হিসেবে ব্যবহার করা হতো। কলাপসিবল গেটে কে কেনই বা তালা লাগিয়েছেন তিনি তা বলতে পারেননি।

সেজান গ্রুপের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা শাহান শাহ আজাদ বলেন, এতে শুধু শ্রমিক পরিবারের নয়; পুরো সেজান গ্রুপের অপূরণীয় ক্ষতি হল। 

ফায়ার সার্ভিসের পরিচালক লেফটেন্যান্ট কর্নেল জিল্লুর রহমান বলেন, ভবনের কলাপসিবল গেট তালাবদ্ধ থাকায় উদ্ধার কাজ ব্যাহত হয়েছে। তালাবদ্ধ না থাকলে এত প্রাণহানির ঘটনা ঘটতো না।

ঘটনাস্থল পরিদর্শক করে র্যাব মহাপরিচালক চৌধুরী আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, এই অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় কারো কোনো গাফিলতি থাকলে র্যাব তা তদন্ত করে জড়িতদের আইনের আওতায় আনবে।

নিখোঁজ ৫১ জন : স্বজনদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী নিখোঁজ রয়েছেন ৫১ জন। তাদের ৩৩ জনের পরিচয় মিলেছে। তারা হলেন: ভোলা জেলার মহিউদ্দিন, শামীম, রাকিব হোসেন, মো. হাসাইন, হাফেজ, রাকিব, নোমন মিয়া, নারায়ণগঞ্জের ফিরোজা বেগম, আমেনা, ফিরোজা খাতুন, রিমা, নাজমা বেগম, পাবনার মোহাম্মদ আলী, কিশোরগঞ্জের নাঈম, ফারজানা আক্তার, নাজমুল হাসান, তাসলিমা, সাহিদা, খাদিজা, সেলিনা, আকলিমা, শাহানা, মিনা খাতুন, ফাতেমা আক্তার, জামালপুরের জিহাদ রানা, চাঁদপুরের পারভেজ, রাজশাহীর মাহবুব, গাজীপুরের রিপন মিয়া, নেত্রকোনার শান্তা মনি, নবীগঞ্জের উর্মিতা বেগম, খালিয়াঝুড়ির হিমা, রংপুরের স্বপন ও মৌলভীবাজারের কম্পা বর্মন।

রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী শোক :সেজান জুস কারখানায় অগ্নিকাণ্ডে ৫২ জন শ্রমিক নিহত হওয়ায় গভীর শোক প্রকাশ করেছেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। পৃথক শোক বার্তায় তারা নিহতদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।

নেতৃবৃন্দের শোক: জাতীয় পার্টি-জেপির চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন মঞ্জু এমপি ও দলের সাধারণ সম্পাদক সাবেক শিক্ষামন্ত্রী শেখ শহীদুল ইসলাম এক বিবৃতিতে এ ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। বিবৃতিতে নেতৃদ্বয় বলেন, অগ্নিকাণ্ডে নিহত হওয়ার কারণ ও সংশ্লিষ্ট কারখানায় অগ্নিনির্বাপন ব্যবস্থা কেমন ছিল তা সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে বের করা প্রয়োজন; যাতে পরবর্তীতে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধ করা যায়।

এছাড়া শোক জানিয়ে বিবৃতি দিয়েছেন আইনমন্ত্রী আনিসুল হক, আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য ও ১৪ দলের মুখপাত্র আমির হোসেন আমু এমপি। এক টুইট বার্তায় গভীর শোক ও স্বজন হারানো পরিবারগুলোর প্রতি সমবেদনা  জানিয়েছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত আর্ল মিলার।

প্রসঙ্গত, ২০১২ সালের ২৪ নভেম্বর আশুলিয়ায় তাজরীন ফ্যাশনে ভয়াবহ আগুনে ১১৭ জন শ্রমিক মারা যান।  সেজান জুস কারখানার মতো ঐ কারখানাও তালাবদ্ধ থাকায় এত প্রাণহানি ঘটেছিল।

 

যারা নিহত হয়েছেন

ভোলার চরফ্যাশনের গোলাম মিয়ার ছেলে মহিউদ্দিন, একই এলাকার ফকরুল মিয়ার ছেলে শামীম, ভোলার ইসমাঈল হোসেনের মেয়ে হাফেজা আক্তার, নারায়ণগঞ্জের হাকিম আলীর মেয়ে ফিরোজা বেগম, করিমগঞ্জের কিশোরগঞ্জ এলাকার তাহেরউদ্দিনের ছেলে নাইম, একই এলাকার স্বপন মিয়ার মেয়ে শাহিদা আক্তার, সিলেটের মৌলভীবাজার এলাকার পর্বা বর্মণের মেয়ে কম্পা বর্মণ, একই এলাকার তাইজদ্দিনের ছেলে রাকিব, কিশোরগঞ্জের শেওরা এলাকার কাইয়ুম মিয়ার মেয়ে খাদিজা, নেত্রকোনার জাকির হোসেনের মেয়ে শান্তামনি, নবীগঞ্জের সেলিম মিয়ার স্ত্রী অমৃতা বেগম, কিশোরগঞ্জের কাইয়ুম মিয়ার মেয়ে আকলিমা, নেত্রকোনার খালিয়াঝুড়ি এলাকার কবির হোসেনের মেয়ে হিমা, রংপুরের মনকার মিয়ার ছেলে স্বপন, কিশোরগঞ্জের জালিয়াপাড়া এলাকার মাহাতাব উদ্দিনের স্ত্রী শাহানা আক্তার, গোলাকান্দাইল খালপাড়া এলাকার রাজীব মিয়ার স্ত্রী আমেনা বেগম, কিশোরগঞ্জের আব্দুর রশিদের মেয়ে মিনা খাতুন,  কিশোরগঞ্জের সুজন মিয়ার মেয়ে ফাতেমা আক্তার, চাঁদপুরের হাইমচর এলাকার আহসান উল্লাহ মিজীর ছেলে পারভেজ, কারখানার সেকশন ম্যানেজার ও রাজশাহী বাঘা তেতুলিয়ার গকুল মিয়ার ছেলে মাহবুব, গাজীপুরের সেলিম মিয়ার ছেলে রিপন মিয়া, ভোলার চরফ্যাশন এলাকার মান্নান মিয়ার ছেলে নোমান মিয়া, রূপগঞ্জের আফজাল মিয়ার স্ত্রী নাজমা বেগম, হাটখালী এলাকার শাহাদাত খানের ছেলে মোহাম্মদ আলী, ভোলার চরফ্যাশনের ফজলু মিয়ার ছেলে হুসাইন, জামালপুরের শওকত আলীর ছেলে জিহাদ, কিশোরগঞ্জের মিঠামইন এলাকার সেলিম মিয়ার ছেলে সেলিনা, রূপগঞ্জের ভুলতা এলাকার ফিরোজা বেগমের মেয়ে সুমাইয়া, রূপগঞ্জের জসিমউদ্দিনের মেয়ে রিমা বেগম, ভোলার চরফ্যাশন এলাকার কবির হোসেনের ছেলে রাকিব, একই এলাকার সুরুজ আলীর মেয়ে ফারজানা, কিশোরগঞ্জের চাঁনমিয়ার ছেলে নাজমুল, কিশোরগঞ্জের বাচ্চু মিয়ার মেয়ে তাছলিমা, ভোলার চরফ্যাশন এলাকার রাকিব, নোয়াখালীর বাহার মিয়ার ছেলে আকাশ, নোয়াখালীর আবুল কাশেমের ছেলে রাশেদ, ফরিদপুরের এনায়েত মিয়ার ছেলে বাদশা, একই এলাকার ইউসুফ, সাকিল, জাহানারা, রাহিমা, নুসরাত জাহান টুকটুকি, রাবেয়া, মাহমুদা, তাকিয়া আক্তার, ইসরাত জাহান, শাহানা, সাজ্জাদ হোসেন সজীব ও লাবণ্য আক্তার। বাকি দুই জনের নাম পাওয়া যায়নি। এরা সবাই উপজেলার গোলাকান্দাইল এলাকা ও নতুন বাজার এলাকায় বিভিন্ন বাড়িতে ভাড়া থেকে ঐ কারখানায় কাজ করতো।