দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় করোনায় আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন ২১২ জন। মহামারিকালে এক দিনে এটি সর্বাধিক মৃত্যু। এর মাধ্যমে দেশে মৃতের সংখ্যা দাঁড়াল ১৬ হাজারে; একই দিনে দেশে শনাক্ত কোভিড রোগীর সংখ্যা ১০ লাখ ছাড়িয়ে গেল। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, গতকাল শুক্রবার সকাল ৮টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় দেশে আরো ১১ হাজার ৩২৪ জনের মধ্যে করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ ধরা পড়েছে; তাতে মোট শনাক্ত রোগীর সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ১০ লাখ ৫৪৩ জন। এরমধ্যে এ পর্যন্ত ১৬ হাজার ৪ জনের মৃত্যু হলো।
বাংলাদেশে করোনা ভাইরাসের প্রথম সংক্রমণ ধরা পড়েছিল গত বছর ৮ মার্চ; তা ৯ লাখ পেরিয়ে যায় গত ২৯ জুন। সেই সংখ্যা ১০ লাখে পৌঁছাতে লাগল মাত্র ১০ দিন। মহামারির ১৬ মাসে এত কম সময় আর কখনো এত রোগী শনাক্ত হয়নি বাংলাদেশে। মোট শনাক্ত ১০ লাখে পৌঁছানোর পথে বৃহস্পতিবার রেকর্ড ১১ হাজার ৬৫১ জনের মধ্যে করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ ধরা পড়ে। প্রথম রোগী শনাক্তের ১০ দিন পর গত বছরের ১৮ মার্চ দেশে প্রথম মৃত্যুর তথ্য নিশ্চিত করে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। এ বছর ৪ জুলাই তা ১৫ হাজার ছাড়ায়। সেই তালিকায় আরো ১ হাজার নাম যুক্ত হলো মাত্র পাঁচ দিনে। এত কম সময়ে কোভিডে এত মৃত্যু বাংলাদেশকে আর দেখতে হয়নি।
বিশ্বে শনাক্ত রোগীর সংখ্যা এরই মধ্যে ১৮ কোটি ৫৬ লাখ ছাড়িয়েছে। আর ৪০ লাখের বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে এ মহামারিতে। সংক্রমণের দ্বিতীয় ঢেউয়ের ধাক্কা সামলে বাংলাদেশে দৈনিক শনাক্ত ও মৃত্যু সংখ্যা কিছুটা কমে এসেছিল মে মাসের মাঝামাঝি সময়ে। কিন্তু করোনা ভাইরাসের নতুন ভ্যারিয়েন্ট ডেল্টার সামাজিক বিস্তার বা কমিউনিটি ট্রান্সমিশন ঘটায় জুনের শুরু থেকে দেশের বিভিন্ন এলাকায় সংক্রমণ ও মৃত্যু আবার বাড়তে শুরু করে। ভাইরাসের বিস্তার নিয়ন্ত্রণে গত ৩০ জুন থেকে সারা দেশে জারি করা লকডাউনের বিধিনিষেধের মধ্যেই গত ৬ জুন প্রথমবারের মতো ১০ হাজার ছাড়িয়ে যায় শনাক্ত রোগীর সংখ্যা। সেদিন ১১ হাজার ৫২৫ জনের মধ্যে সংক্রমণ ধরা পড়ে। এরপর টানা চার দিন ধরেই দৈনিক শনাক্ত ১১ হাজারের ওপরে রয়েছে। আর টানা ১২ দিন ধরে ১০০র বেশি মানুষের মৃত্যৃ হচ্ছে করোনা ভাইরাসে। এর আগে গত ৭ জুলাই সর্বোচ্চ ২০১ জনের মৃত্যুর খবর দিয়েছিল স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। বৃহস্পতিবার ১৯৯ জনের মৃত্যুর পরদিন তা বেড়ে ২১২ জনে দাঁড়াল।
গত এক দিনে কেবল ঢাকা বিভাগেই ৪ হাজার ৩১৩ জন নতুন রোগী শনাক্ত হয়েছে, যা দিনের মোট শনাক্তের ৩৮ শতাংশের বেশি। চট্টগ্রাম বিভাগে এক দিনে শনাক্ত রোগী প্রায় ২ হাজারের কাছাকাছি, খুলনায় ছাড়িয়েছে দেড় হাজার। আর যে ২১২ জন গত এক দিনে মারা গেছেন, তাদের ৭৯ জনই ছিলেন খুলনা বিভাগের বাসিন্দা। ঢাকা বিভাগে মৃত্যু হয়েছে ৫৩ জনের। সরকারি হিসাবে, আক্রান্তদের মধ্যে এক দিনে আরো ৬ হাজার ৩৮ জন সুস্থ হয়ে উঠেছেন। তাদের নিয়ে মোট সুস্থ হয়েছেন ৮ লাখ ৬২ হাজার ৩৮৪ জন। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় সারা দেশে ৬০৫টি ল্যাবে ৩৬ হাজার ৫৮৬টি নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে। এ পর্যন্ত পরীক্ষা হয়েছে ৬৯ লাখ ৩ হাজার ২৬৮টি নমুনা। ২৪ ঘণ্টায় নমুনা পরীক্ষার বিবেচনায় শনাক্তের হার দাঁড়িয়েছে ৩০ দশমিক ৯৫ শতাংশ, আগের দিন যা ৩১ দশমিক ৬২ শতাংশ ছিল। দেশে এ পর্যন্ত মোট শনাক্তের হার ১৪ দশমিক ৪৯ শতাংশ। শনাক্ত বিবেচনায় সুস্থতার হার ৮৬ দশমিক ১৯ শতাংশ এবং মৃত্যুর হার ১ দশমিক ৬০ শতাংশ। ঢাকা বিভাগের মধ্যে ঢাকা জেলায় ২ হাজার ৭৬৩ জন রোগী শনাক্ত হয়েছে।
