মন্ত্রিপরিষদের ১২ নির্দেশনা বাস্তবায়িত হয়নি পাঁচ বছরেও

আপডেট : ১০ জুলাই ২০২১, ০০:২৬

২০১৬ সালের ১০ সেপ্টেম্বরে গাজীপুরের টঙ্গীতে টাম্পাকো ফয়েল কারখানায় অগ্নিকাণ্ডে ৩৯ জন শ্রমিক মারা যান। ঈদুল আজহার তিন দিন আগে ঘটেছিল সেই অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা। গত বৃহস্পতিবার আরেক ঈদুল আজহার ১২ দিন আগে নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে সেজান জুস কারখানায় অগ্নিকাণ্ডে প্রাণ গেল অর্ধশতাধিক মানুষের। এই দুই অগ্নিকাণ্ডের মধ্যে পাঁচ বছর কেটে গেলেও শিল্পকারখানায় দুর্ঘটনা রোধে মন্ত্রিপরিষদের ১২ সুপারিশ বাস্তবায়িত হয়নি। এর ফলে নীতি ও বিধি মেনে ভবন নির্মাণ ও কারখানা পরিচালনা না করায় দুর্ঘটনা ও আগুনে পুড়ে শ্রমিকের মৃত্যু থামছে না।

টাম্পাকো দুর্ঘটনার পর অন্তত সাতটি তদন্ত কমিটি রিপোর্ট জমা দেয়। ঐ কমিটিগুলোর অভিজ্ঞতা এবং  তাদের রিপোর্টগুলোতে উল্লেখিত পর্যবেক্ষণ ও সুপারিশ একত্রিত করে দেশের শিল্পকারখানাগুলোতে অগ্নিকাণ্ডসহ অন্যান্য দুর্ঘটনা রোধে ১২ দফা সুপারিশ বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্ট বিভাগ-দপ্তরগুলোকে নির্দেশনা দিয়েছিল মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ। গত বৃহস্পতিবার রূপগঞ্জে জুস কারখানায় আগুনের পর দেখা যায় কারখানাটি নির্মাণে ও পরিচালনায় অনেক বিধি-নিয়মই পালিত হয়নি। অগ্নিকাণ্ডের উত্স হিসেবে প্রাথমিকভাবে তিনটি ধারণা করা হচ্ছে। এগুলো হলো বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট, গ্যাস লিকেজ কিংবা রাসায়নিক বিস্ফোরণ। ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের উপপরিচালক (অপারেশন ও মেইনটেন্যান্স) দেবাশীষ বর্ধন জানান, ভবন নির্মাণ বিধিমালা মেনে কারখানাটি নির্মিত হয়নি। কেমিক্যালও বিশৃঙ্খলভাবে ব্যবহূত হচ্ছিল। এদিকে কারখানার ব্যবস্থাপক (প্রশাসন) কাজী রফিকুল ইসলাম বলেন, বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত।

শিল্পে দুর্ঘটনা রোধে মন্ত্রিপরিষদের দেওয়া নির্দেশনাগুলোর মধ্যে রয়েছে কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তর, ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স, তিতাস গ্যাস, বিস্ফোরক অধিদপ্তর ও বয়লার পরিদর্শন অধিদপ্তর এবং শিল্প পূর্তকাজে বিশেষজ্ঞ প্রকৌশলীদের সমন্বয়ে অতি জরুরিভিত্তিতে একটি টাস্কফোর্স গঠন করতে হবে। এ টাস্কফোর্স টাম্পাকো কারখানার মতো ঝুঁকিপূর্ণ কারখানা পরিদর্শন করে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। কারখানার জন্য প্রযোজ্য সব ধরনের অগ্নি সরঞ্জাম ব্যবহার করে শ্রমিক-কর্মচারীদের ফায়ার ড্রিল নিয়মিতভাবে করতে হবে। পর্যাপ্ত পরিমাণে অগ্নিনির্বাপক যন্ত্র স্থাপন করতে হবে যাতে সেগুলো সবাই ব্যবহার করতে পারে। কারখানায় ২৪ ঘণ্টার জন্য শিফটিং ভিত্তিতে প্রতি ফ্লোরের জন্য আলাদা অগ্নিনির্বাপণ ইউনিট গঠন করতে হবে। দুর্ঘটনার পর যাতে সরঞ্জামসহ সিভিল ডিফেন্স সহজে দুর্ঘটনাকবলিত কারখানায় প্রবেশ করতে পারে সেভাবে কারখানার অবকাঠামো ডিজাইন তৈরি ও বাস্তবায়ন করতে হবে। অপরিকল্পিত ও অবৈজ্ঞানিকভাবে নির্মিত প্রতিষ্ঠানের মালিকদের চিহ্নিত করে বিচারের আওতায় আনা যেতে পারে।

এ প্রসঙ্গে বিদ্যুত্ বিভাগের এক কর্মকর্তা বলেন, মন্ত্রিপরিষদের নির্দেশনার পর কয়েকবার বৈঠক হলেও সিদ্ধান্তগুলো বাস্তবায়নে জড়িত সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয় হয়নি। ফলে সেগুলো আর বাস্তবায়িত হয়নি। যেমন—একটি সুপারিশ ছিল, একটি টাস্কফোর্স টাম্পাকো কারখানার মতো ঝুঁকিপূর্ণ কারখানা পরিদর্শন করে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। কিন্তু তা আর বাস্তবায়িত হয়নি। এটি বাস্তবায়িত হলে অনেক ছোট-বড় দুর্ঘটনা এড়ানো যেত।