প্রধানমন্ত্রীর উপহারের ঘর নির্মাণে অনিয়ম

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের তদন্তদলের মুন্সীগঞ্জের প্রকল্প এলাকা পরিদর্শন

আপডেট : ১০ জুলাই ২০২১, ০০:২৭

প্রধানমন্ত্রীর উপহারের ঘর নির্মাণে অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে সরেজমিনে তদন্তে নেমেছে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের একটি তদন্ত দল। শুক্রবার দুপুরে আশ্রয়ণ প্রকল্প-২-এর প্রকল্প পরিচালক মো. মাহবুব হোসেনের নেতৃত্বে সদর উপজেলার ভাসানচরে আশ্রয়ণ প্রকল্পে ঘর নির্মাণকাজ পরিদর্শন করে এই দল। এ সময় প্রকল্প পরিচালক সাংবাদিকদের বলেন, মুজিববর্ষ উপলক্ষ্যে ঘর নির্মাণকাজে প্রধানমন্ত্রী জিরো টলারেন্সে রয়েছেন। এই করোনাকালীন সময়ে ১ লাখ ১৮ হাজার ৩৮০টি ঘর নির্মাণ কম কথা নয়। সব জেলা প্রশাসন, উপজেলা প্রশাসনকে বলা হয়েছে যাতে কোনো জায়গায় কোনো ত্রুটি-বিচ্যুতি না থাকে। কোথাও তা পাওয়া গেলে যেন তা সংশোধন করা হয়। এটি প্রধানমন্ত্রীর স্বপ্নের প্রকল্প। একটি গরিব লোক যিনি ঘর পাচ্ছেন তারতো স্বপ্নের শুরু মাত্র। তাই এই কাজে কোনো অবহেলা সহ্য করা হবে না।

প্রকল্প পরিচালক আরো বলেন, আমাদের প্রকল্প অফিস থেকে সুস্পষ্ট নির্দেশনা ছিল এই মুহূর্তে ঘর নির্মাণ করা যাবে এমন খাস জমি পেলে ঘর নির্মাণ করতে হবে। আমরা কাউকে বলিনি তোমরা নদীর পাড়ে, খালের পাড়ে, মাটি ভরাট করে এখনই করো। এসব অনিয়মের সঙ্গে যারা জড়িত তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। আমাদের পর্যবেক্ষণের বাইরে কেউ নেই।

সাংবাদিকদের ধন্যবাদ জানিয়ে মো. মাহবুব হোসেন বলেন, তথ্য দেওয়ার জন্য আপনাদের ধন্যবাদ। কারণ আপনাদের থেকে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে আমরা তদন্তে পাঠাই। তাই তথ্য দেওয়ার বেলায় যেন তথ্যটি সঠিক দেওয়া হয়। পরিদর্শনকালে আরো উপস্থিত ছিলেন আশ্রয়ণ প্রকল্পের-২-এর  উপ-পরিচালক মো. জাহেদুর রহমান, জেলা প্রশাসক কাজী নাহিদ রসুল, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) দীপক কুমার রায়, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হামিদুর রহমান প্রমুখ।

উল্লেখ্য, এর আগে ভাসানচরে প্রধানমন্ত্রী উপহারের এই ঘর উদ্বোধন হলেও ঘরে উঠতে পারেনি উপকারভোগীরা। ঘরে উঠার আগেই ভেঙে পড়ছে ঘর। অনেক জায়গায় ভাঙাচোরা ঘর পড়ে আছে। কোনোটি মেরামত করে নতুন করা হচ্ছে।  নির্মাণাধীন ঘরগুলো দেখেই বোঝা যায় ব্যবস্থাপনায়  গড়মিল রয়েছে। চার একর জমির ওপর ৩ কোটি ৮০ লাখ টাকা ব্যয়ে প্রকল্পটি গ্রহণ কর হয়। ২০০ ঘর উদ্বোধন হলেও এখানে নির্মাণাধীন ঘর আছে ১৫০টি। তবে বাকি ৫০টি ঘরের নির্মাণ এখনো শুরুই হয়নি। নিম্নমানের কাজের কারণেই নির্মাণাধীন অবস্থায়ই স্থাপনাগুলো ভেঙে পড়ছে বলে জানান স্থানীয়রা। ভাসানচরে প্রধানমন্ত্রীর উপহারের ২০০টি ঘরের নির্মাণকাজে অনিয়মের অভিযোগে এরই মধ্যে সদরের সাবেক উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, এসিল্যান্ডসহ কয়েক জন কর্মকর্তাকে ওএসডি করা হয়।