‘স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে ঘাপটি মেরে থাকা অসাধু চক্র নিরন্তর অপতত্পরতায় লিপ্ত’

আপডেট : ১০ জুলাই ২০২১, ০০:৩০

সম্প্রতি বাংলাদেশের বিভিন্ন মেডিক্যাল কলেজ থেকে প্রায় ১ হাজার ৩০০ চিকিত্সকের গণবদলির আদেশে বাংলাদেশ মেডিক্যাল অ্যাসোসিয়েশন (বিএমএ) উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। সংগঠনটি বলেছে, যখন সারা দেশে করোনা প্রকোপ বৃদ্ধি পেয়েছে, হাসপাতালে রোগীর সংখ্যা অনবরত বেড়েই চলেছে এবং চিকিত্সক-স্বাস্থ্যকর্মীগণ দিনরাত কাজ করে যাচ্ছেন তখন একটি হাস্যকর ও অসাড় আদেশের মাধ্যমে চিকিত্সকদের মধ্যে অস্থিরতা সৃষ্টি করা হয়েছে।

বিবৃতিতে সংগঠনটির সভাপতি ডা. মোস্তফা জালাল মহীউদ্দীন ও মহাসচিব ডা. মো. ইহতেশামুল হক চৌধুরী বলেন, সরকারকে বিভ্রান্ত করার জন্য স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে ঘাপটি মেরে থাকা একটি অসাধু চক্র নিরন্তর অপতত্পরতায় লিপ্ত রয়েছে বলে মনে করে সংগঠনটি।

বিবৃতিতে বলা হয়, এই আদেশের মাধ্যমে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় চিকিত্সকদের সুকৌশলে জনগণের মুখোমুখি দাঁড় করিয়ে নিজেদের ব্যর্থতার দায়ভার অন্যের ঘাড়ে চাপাতে চায়।  

বিবৃতিরে নেতারা বলেন, আমলাতন্ত্র এতটা বেপরোয়া হয়ে পড়েছে যে, তারা যা ইচ্ছা তাই করে যাচ্ছে। রাষ্ট্রীয় কাঠামোর অভ্যন্তরে যে উপনিবেশিক আমলাতন্ত্র বিরাজ করছে তারই প্রতিফলন ভিন্ন ক্যাডার দিয়ে দিকভ্রান্তের মতো স্বাস্থ্যব্যবস্থা নিয়ন্ত্রণ ও পরিচালনা করা।

বিবৃতিতে সংগঠনের নেতারা বলেন, প্রধানমন্ত্রীর সুস্পষ্ট নির্দেশনার পরেও আক্রান্ত কিংবা মৃত্যুবরণকারী চিকিত্সকদের  প্রণোদনা/সম্মানী যথাযথভাবে প্রদান করা হয়নি। কয়েক জন সরকারি চিকিত্সককে প্রণোদনা প্রদান করা হলেও বেসরকারি চিকিত্সকদের কিছুই দেওয়া হয়নি। অথচ করোনা রোগের চিকিত্সা দিতে গিয়ে বেসরকারি চিকিত্সকদের অনেকেই মৃত্যুবরণ করেছেন। এমনকি চিকিত্সক ও সহযোগী স্বাস্থ্যকর্মীদের সংগনিরোধ ব্যবস্থা বাতিল করে দেওয়া হয়। ফলে চিকিত্সক কিংবা তাদের পরিবারের সদস্যদের রোগ আক্রান্তের হার অনেকাংশে বেড়ে যায়। কোনো কোনো চিকিত্সক দ্বিতীয় বার করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। দীর্ঘদিনের বিরতিহীন সেবা ও তাদের কারণে পরিবারের সদস্যদের আক্রান্ত হওয়া ইত্যাদি নিয়ে দেশের সব চিকিত্সক চূড়ান্ত মানসিক যন্ত্রণায় সময় পার করছেন।

অনতিবিলম্বে এই বিতর্কিত আদেশ বাতিল করা না হলে বিএমএ এই আদেশ বাতিলের প্রয়োজনে যে কোনো কর্মসূচি দিতে বাধ্য হবে বলে বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়।