ক্যান্সার শুরুতে শনাক্ত হলে নিরাময় সম্ভব

আপডেট : ০৪ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ২২:১৪

ক্যান্সার শুরুতে শনাক্ত হলে তা নিরাময় সম্ভব বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা। তারা বলেছেন, আমাদের দেশে ক্যান্সার আক্রান্ত রোগীর তুলনায় চিকিত্সা ব্যবস্থা অত্যন্ত অপ্রতুল। ফলে সময়মত চিকিত্সা পাচ্ছে না ক্যান্সার রোগীরা। বিপুল সংখ্যক রোগী চিকিত্সা নিতে দেশের বাইরে চলে যাচ্ছে। আবার কিছু রোগী চিকিত্সা না পেয়েই মৃত্যুবরণ করছে। সরকার ক্যান্সার চিকিত্সায় নানা পদক্ষেপ নিচ্ছে। তবে সরকারের পাশাপাশি বেসরকারি হাসপাতালগুলোকেও ক্যান্সার চিকিত্সায় এগিয়ে আসা জরুরি বলে জানান তারা। গতকাল সোমবার বিশ্ব ক্যান্সার দিবস উপলক্ষে আয়েজিত বিভিন্ন আলোচনা সভা ও সেমিনারে বক্তারা এসব কথা বলেন। এবছর দিবসের প্রতিপাদ্য নির্ধারিত হয়েছে—‘আমি আছি এবং আমি থাকব’।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএসএমএমইউ) : দিবসটি উপলক্ষে সকালেই বিএসএমএমইউ’এর বি-ব্লকে সচেতনতামূলক শোভাযাত্রা অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রধান অতিথির বক্তব্যে ‘বিএসএমএমইউ’ এর উপাচার্য অধ্যাপক ডা. কনক কান্তি বড়ুয়া বলেছেন, ‘ক্যান্সার শরীরের সবত্রই হতে পারে। তবে এ রোগ ছোঁয়াচে নয়। এ রোগের বিষয়ে গণমানুষের মধ্যে আরও সচেতনতা বাড়ানো জরুরি। শুরুতে ক্যান্সার নির্ণয় বা চিহ্নিত হলে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই তা নিরাময় সম্ভব।

জাতীয় ক্যান্সার গবেষণা ইন্সটিটিউট ও হাসপাতাল : এদিকে দিবস উপলক্ষে বিকালে মহাখালীতে জাতীয় ক্যান্সার গবেষণা ইন্সটিটিউট ও হাসপাতালে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী জাহিদ মালেক বলেছেন, নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে দেশের সব বিভাগে একটি করে ১০০ শয্যার ক্যান্সার হাসপাতাল নির্মাণের কাজ শেষ করবে। তিনি বলেন, অবকাঠামো নির্মাণের পাশাপাশি প্রতি বিভাগে ক্যান্সার চিকিত্সার পূর্ণাঙ্গ ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি স্থাপনসহ প্রশিক্ষিত জনবল নিয়োগ দেওয়া হবে।

তিনি হাসপাতালের লিকুইড অক্সিজেন প্ল্যান্ট, এম আর আই, সিটি স্ক্যান মেশিন এবং ডে কেয়ার কেমোথেরাপির কিউ ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম এর উদ্বোধন করেন এবং বিভাগগুলোর কার্যক্রম পরিদর্শন করেন। এসময় ক্যান্সার ইন্সটিটিউটের পরিচালক অধ্যাপক ডা. মোশাররফ হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে বাংলাদেশ মেডিক্যাল অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ডা. মোস্তফা জালাল মহিউদ্দিন, আওয়ামী লীগের স্বাস্থ্য ও জনসংখ্যা বিষয়ক সম্পাদক ডা. রোকেয়া সুলতানা, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক অধ্যাপিকা ডা. নাসিমা সুলতানা, স্বাধীনতা চিকিত্সক পরিষদের সভাপতি অধ্যাপক ডা. এম ইকবাল আর্সলান, মহাসচিব অধ্যাপক ডা. এম এ আজিজ বক্তব্য রাখেন।

ল্যাবএইড হাসপাতাল : বিশ্ব ক্যান্সার দিবস উপলক্ষে ল্যাবএইড হাসপাতাল আয়োজিত হাসপাতালের লেকচার গ্যালারিতে অনুষ্ঠিত সেমিনারে বক্তারা বলেছেন, ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে প্রতিবছর দেশে ১ লাখেরও বেশি মানুষ মৃত্যুবরণ করে। তাই ক্যান্সার বিষয়ে জনসচেতনতা বাড়ানো প্রয়োজন। সচেতনতাই পারে কেবল ক্যান্সারে আক্রান্তের হার কমাতে। রোগের ধরন ও প্রকৃতি, রোগের ঝুঁকি, প্রতিরোধ ও প্রতিকার নিয়ে আলোচনা করা হয়। বক্তারা বলেন, সরকারের পাশাপাশি বেসরকারি হাসপাতালগুলোকে ক্যান্সার চিকিত্সায় ব্যাপক ভূমিকা রাখতে হবে। যাতে করে ক্যান্সার রোগীরা দেশের বাইরে চলে না যায়।

সেমিনারে প্রধান অতিথি ছিলেন অধ্যাপক খাদেমুল ইসলাম, মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ডা. এ এফ এম কামাল উদ্দিন, আরো বক্তব্য রাখেন অধ্যাপক ডা. কাজী মুস্তাক হোসেন, অধ্যাপক মো. সিরাজুল ইসলাম, সভাপতিত্ব করেন ল্যাবএইড গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ডা. এ এম শামীম প্রমুখ।

বাংলাদেশ ওরাল ক্যান্সার সোসাইটি : বাংলাদেশে ক্যান্সার রোগীদের মধ্যে ফুসফুস ক্যান্সারের পরই সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত হন ওরাল (মুখের) ক্যান্সারে। বিশেষজ্ঞ চিকিত্সকরা বলছেন, নানা কারণেই হতে পারে ওরাল ক্যান্সার। তবে শুধু সিগারেট, তামাকযুক্ত পানসহ তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার করা বন্ধ করলে ওরাল ক্যান্সার ৫০ শতাংশ কমে যাবে। বিশ্ব ক্যান্সার দিবস উপলক্ষে জাতীয় প্রেসক্লাবের তোফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া হলে আয়োজিত ‘ওরাল ক্যান্সার : প্রেক্ষিত বাংলাদেশ’ শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠকে বিশেষজ্ঞরা এসব কথা জানান। বাংলাদেশ ওরাল ক্যান্সার সোসাইটি’র সভাপতি অধ্যাপক ডা. মতিউর রহমান মোল্লা সভাপতির বক্তব্যে বলেন, মুখে সাদা ও লাল ঘা ক্রমান্বয়ে বাড়ছে। এসব ক্ষেত্রে লক্ষণ দেখা দেওয়া মাত্রই বিলম্ব না করে পরীক্ষা করুন, ডাক্তারের পরামর্শ নিন।