‘গানের প্রতি শ্রদ্ধা-ভালোবাসা থাকতে হবে’

আপডেট : ১০ জুলাই ২০২১, ১৯:৫৮

  চলচ্চিত্রের গান গাইতে নিজের মেধাকে প্রয়োগ করতে হয়। কোনটা নিতে হবে আর কোনটা বাদ দিতে হবে, তা জানা দরকার।

বিনোদন রিপোর্ট


‘আগের গানগুলো নতুন প্রজন্মের শিল্পীরা গাইছে, সেটা কোনো সমস্যা না। তবে গানের প্রতি শ্রদ্ধা-ভালোবাসা থাকতে হবে। নতুন করে গাইতে হলে অবশ্যই মূল শিল্পীর কাছে অনুমতি নিতে হবে। কারণ সেই গানটা মূল শিল্পীই পরিচিত করিয়েছে।’—নিজের ৮১তম জন্মদিনে এ প্রজন্মের শিল্পীদের প্রতি এভাবেই আহব্বান জানালেন কণ্ঠশিল্পী সৈয়দ আব্দুল হাদী। এদিকে করোনাকালীন সারাবিশ্বেই শোবিজ অঙ্গনসহ সকল কার্যক্রম থমকে গেছে। বন্ধ হয়ে গেছে কনসার্ট। তবে বিচ্ছিন্নভাবে শিল্পীরা ঘরে বসে নিজেদের মতো করে গানের সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকার চেষ্টা করছেন। সৈয়দ আব্দুল হাদীও বেশকিছু নতুন গানে সুর ও কণ্ঠ দিয়েছেন। নিজের কাজ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে গুণী এই শিল্পী বলেন, ‘গানের সঙ্গে না থাকতে পারলে নিজেকে মৃত মনে হয়! তাই করোনা মহামারির এই সময়ে স্বাস্থ্যবিধি মেনে বেশকিছু গানে কণ্ঠ দিয়েছি। সম্প্রতি কোথায় বাহির কোথায় অন্দর শিরোনামের একটি নতুন গান প্রকাশ করলাম। পাশাপাশি নতুন গানে সুর করছি নিয়মিতই।’

সংগীতের সোনালি যুগ থেকে গানের সঙ্গে নিবিড় থাকা কণ্ঠশিল্পী সৈয়দ আব্দুল হাদীর অসংখ্য গান এখনো মানুষের মুখে মুখে ফেরে। সে সময়ে সৃষ্টি হতো অসংখ্য কালজয়ী গান। কিন্তু বর্তমান সময়ে কাজের পরিধি বাড়লেও আগের গানগুলোর মতো এ সময়ের গানগুলো মানুষের হূদয়ে দোলা দিতে পারছে না। আবার কিছু গান হটাত্ জনপ্রিয়তা পেলেও সেটার স্থায়িত্ব নিয়ে সংশয় থেকেই যাচ্ছে। এই অবস্থা তৈরির জন্য সৈয়দ আব্দুল হাদী গানটিকে সঠিক জায়গায় ব্যবহার না হওয়াকে অনেকটা দায়ী বলে মনে করেন। তিনি বলেন, ‘জনপ্রিতা বিষয়টি বিশ্লেষণ করা খুব মুশকিল। কোন গানটি কখন মানুষের কাছে ভালো লাগবে, পছন্দ করবে, তা নিয়ে কোনো বিশ্লেষণ নেই। তবে চলচ্চিত্রের গানের একটা ব্যাপার আছে। চলচ্চিত্রটি যদি মানুষের ভালো না লাগে তাহলে তা জনপ্রিয় না হয়। যে গানটি ব্যবহার করা হয় সেটি যদি সঠিক জায়গায় ব্যবহার না করা হয়, যদি সঠিক চিত্রায়ন না হয় তাহলেও গানটি জনপ্রিয় হয় না।’

দীর্ঘ ক্যারিয়ারে জনপ্রিয় গানে কণ্ঠ দেওয়ার পাশাপাশি অসংখ্য চলচ্চিত্রে প্লেব্যাক করেছে আব্দুল হাদী। স্বীকৃতিস্বরূপ সফলতার ঝুড়িতে জমা করেছেন ৫টি জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার, একুশে পদক’সহ দেশি-বিদেশি বিভিন্ন পুরস্কার ও সম্মাননা। চলচ্চিত্রের গানের নিজের এমন সাফল্য গাঁথার নেপথ্য নিয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘চলচ্চিত্রের গান গাইতে নিজের মেধাকে প্রয়োগ করতে হয়। কোনটা নিতে হবে আর কোনটা বাদ দিতে হবে, তা জানা দরকার। যার কণ্ঠে গান, চলচ্চিত্রে তার যে চরিত্র বা অবস্থান সেটাও শিল্পীকে বুঝতে হয়। সবসময় এই বিষয়গুলো মাথায় রেখে কাজ করার চেষ্টা করেছি। এটা শুধু আমার জন্য না, সবার ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য।’ উল্লেখ্য, কয়েক দশকের ক্যারিয়ারে তার গাওয়া শ্রোতাপ্রিয় গানের ভেতর রয়েছে—‘যে মাটির বুকে ঘুমিয়ে আছে’, ‘চোক্ষের নজর এমনি কইরা’, ‘এমনও তো প্রেম হয়’, ‘কেউ কোনোদিন আমারে তো কথা দিল না’, ‘একবার যদি কেউ ভালোবাসতো’, ‘যেও না সাথী’, ‘চলে যায় যদি কেউ’, ‘জন্ম থেকে জ্বলছি’, ‘আছেন আমার মোক্তার’, ‘মনে প্রেমের বাত্তি জ্বলে’ ইত্যাদি।