শাহজাদপুরে সড়ক ধসে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন

আপডেট : ১০ জুলাই ২০২১, ২১:১৯

যমুনায় পানি বাড়ছে

সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি ও শাহজাদপুর সংবাদদাতা

সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর উপজেলার জালালপুর ইউনিয়নের রূপসী-ঘাটাবাড়ি সড়কের ঘাটাবাড়ি ব্রিজের পশ্চিম সড়কের ছয়/সাত ফুট এলাকা বুধবার রাতে বন্যার পানির চাপে ভেঙে গেছে। ফলে ঐ এলাকার পাঁচ গ্রামের ৪ হাজার মানুষের সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। এ সড়ক দিয়ে পণ্যবাহী যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে। এতে ঐ এলাকার মানুষকে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। তারা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে নৌকায় পারাপার হচ্ছে। গ্রামগুলো হলো—রূপসী, ঘাটাবাড়ি, জালালপুর, পাকুরতলা ও কুঠিরপাড়া।

এ বিষয়ে এলাকাবাসী জানায়, দুই বছর আগে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয় ৩৬ লাখ টাকা ব্যয়ে ৩৮ ফুট দৈর্ঘ্যের কংক্রিট ব্রিজটি নির্মাণ করে। বর্ষার শুরুতেই সামান্য বন্যার পানির চাপে ব্রিজের পশ্চিম অংশের সড়ক ভেঙে গেছে। সেই সঙ্গে ব্রিজটির পাশ্চিম-দক্ষিণ কোনা তিন সেন্টিমিটার দেবে গেছে। এছাড়া পশ্চিম-উত্তর কোনার গাইড ওয়াল ভেঙে বেশকিছু অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এ বিষয়ে জালালপুর ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ড সদস্য মহির উদ্দিন বলেন, বন্যার পানির চাপে সড়কটি ভেঙে যাওয়ায় এলাকাবাসী যাতায়াতে চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন। ভাঙনের পরিধি আরো বৃদ্ধি পেলে এলাকার বাড়িঘর বন্যার পানিতে ডুবে যাবে। জালালপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান সুলতান মাহমুদ বলেন, সকালেই ভাঙন রোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে শাহজাদপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার শাহ মো. শামসুজ্জোহা ও পিআইও আবুল কালাম আজাদকে জানানো হয়েছে। তারা অতি দ্রুত সময়ের মধ্যে ভাঙন রোধে ব্যবস্থা নেবেন বলে জানিয়েছেন। শাহজাদপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার শাহ মো. শামসুজ্জোহা বলেন, সিরাজগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডকে বলে ঐ স্থানের ভাঙন রোধে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

এদিকে যমুনা নদীর অব্যাহত ভাঙনের ফলে গত ২৪ ঘণ্টায় ঐ পাঁচ গ্রামের অন্তত ২০টি বাড়িঘর বিলীন হয়ে গেছে। ইতিমধ্যেই সিরাজগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ড জালালপুর গ্রামে বস্তা ডাম্পিং শুরু করায় ঐ গ্রামের ভাঙনের তীব্রতা কমে এলেও দক্ষিণ পাশের ঘাটাবাড়ি ও পাকুরতলা গ্রামে ব্যাপক ভাঙন শুরু হয়েছে। এছাড়া যমুনা নদীর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকায় শাহজাদপুর উপজেলার ১৩টি ইউনিয়নের নিচু এলাকা বন্যাকবলিত হয়ে পড়েছে। তিল, ভুট্টা, কাউন, গামাঘাস ও নেপিয়ার ঘাসের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।