ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন
ইত্তেফাক রিপোর্ট
ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের পরিবহন বিভাগে জ্বালানি খরচের নামে চলছে হরিলুট। এক ট্রিপের স্থলে তিন ট্রিপ দেখিয়ে বিল তোলা, যানবাহন বসে থাকলেও জ্বালানি ইস্যু করা, একই দূরত্বে বিভিন্ন পরিমাণের জ্বালানি ইস্যু করা, কেপিএল (কিলোমিটার পার লিটার) নির্ধারণ না করেই ইচ্ছামাফিক বরাদ্দ দেওয়া, একই স্টেশন থেকে জ্বালানি নেওয়ার মতো ঘটনা ঘটছে। এভাবে সিটি কর্পোরেশন থেকে অর্থ হাতিয়ে নেওয়া হচ্ছে। যা বিভিন্ন সময় সংস্থাটির অডিট আপত্তিতে বেরিয়ে এসেছে। পরিবহন চালক ইউনিয়নের কয়েকজন নেতার সঙ্গে পরিবহন বিভাগের ব্যবস্থাপক গোলাম মোর্শেদ সিন্ডিকেট করে এ কারচুপি চালিয়ে যাচ্ছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
ডিএসসিসি সূত্রে জানা যায়, সংস্থাটি প্রতি মাসে ৪১০টি যানবাহনে প্রায় তিন কোটি টাকা জ্বালানি খরচ দেখানো হচ্ছে। এর মধ্যে ১১০টা বৈর্জ্য পরিবহনের ট্রাক রয়েছে। সিটি কর্পোরেশনের এসব যানবাহনের জন্য সংস্থাটির মালিকানাধীন পৌর ফিলিং স্টেশন থেকে জ্বালানি নেওয়া হয়।
সংশ্লিষ্টরা দাবি করেন, পরিবহন বিভাগে লুটপাট না হলে পরিবহন বিভাগে এ খরচ অর্ধেকে নেমে আসবে। ২০০৭ সালে নগর ভবনে সেনাবাহিনী কর্তৃক টাস্কফোর্স বসার পরই খরচ অর্ধেকে নেমে এসেছিল, যা দুই বছর একই রকম ছিল। তবে পরিবহন ব্যবস্থাপক গোলাম মোর্শেদ এসব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় জ্বালানি বাড়ে, কখনো কমে না। আগের চেয়ে এখন ট্রিপ বেড়েছে। প্রতিদিন আটশ ট্রিপ হয়। তিনি দাবি করেন, পরিবহন বিভাগে চালক সংকট রয়েছে। মোট গাড়ির সংখ্যা ৩৫০। এর মধ্যে চালক আছে ২১২ জন। বাকিগুলো সিটি কর্পোরেশনের এমএলএসএস দিয়ে চালানো হয়।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ডিএসসিসি’র একাধিক কর্মকর্তা বলছেন, চালক সংকটের কারণে অনেক যানবাহন বসে থাকলেও যানবাহনগুলো ট্রিপে দেখিয়ে জ্বালানি খরচ বাবদ ভুয়া বিল করা হয়। এভাবে জ্বালানি খরচ বাবদ সিটি কর্পোরেশন থেকে বছরের পর বছর মোটা অঙ্কের অর্থ হাতিয়ে নেওয়া হচ্ছে।
জানা যায়, পরিবহন ব্যবস্থাপকের দায়িত্বে থাকা গোলাম মোর্শেদ বাস্তবে একজন সহকারী পরিবহন তত্ত্বাবধায়ক। ২০১৪ সাল থেকে ওই পদে থাকা মিল্লাতুল ইসলামকে সরিয়ে এক পদ ডিঙ্গিয়ে গোলাম মোর্শেদকে বসানো হয়।
