ফরিদগঞ্জে সেচ সংকট দেখা দিয়েছে। সঠিক সময়ে খালে পানি না আসায় বোরো চাষাবাদে বিপর্যয়ের আশঙ্কা করছেন বিভিন্ন এলাকার কৃষকরা। এতে করে ধান উত্পাদনের নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হবে কিনা এনিয়ে সংশয় দেখা দিয়েছে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, উপজেলার আদশা, হামছাপুর, হুগলী, ত্রিদোনা, বৃহত্তর ষোলদানা, রাজাপুর, সাইসাঙ্গা, দত্রা, খাজুরিয়া, গুপ্টি, সেনা হাটখোলাসহ বিভিন্ন এলাকার কৃষক পানির অভাবে ধানের চারা রোপণ করতে পারছেন না। কেউ কেউ পুকুর, ডোবা কিংবা নালা থেকে নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় পানি সেচ দিয়ে ধানের চারা রোপণ করলেও পানির অভাবে তা এখন নষ্ট হওয়ার পথে। এ ছাড়া অনেক স্থানে অবৈধ ভরাটের কারণে খাল দিয়ে পানি প্রবাহিত হচ্ছে না।
ওইসব এলাকার কৃষক ইউপি সদস্য মোঃ শরীফ গাজী, জাকির হোসেন, সারোয়ার হোসেন, বাবুল দেওয়ান, সাবেক ইউপি সদস্য আব্দুল মান্নান, ডা. শফিকুর রহমান, জসিম উদ্দিন, খোরশেদ আলম সুমন, সিদাম দাস, জীবন দাস, সুমন ও মমিন হোসেন বলেন, উল্লিখিত এলাকায় চাষাবাদ উপযুক্ত এক থেকে দেড় হাজার একর জমি রয়েছে। স্লুইস গেট দিয়ে সিআইপি ভেড়িবাঁধের ভিতরের খালগুলোতে নদী থেকে পানি সরবরাহ করা হয়। কিন্তু এবার সঠিক সময়ে পানি না আসায় আমরা ধানের চারা রোপণ করতে পারছি না। ধানের চারার বয়স দিন দিন বাড়ছে। ধানের চারার বয়স ২১ থেকে ৪০ দিনের মধ্যে জমিতে রোপণ করতে হয়। তা না হলে উত্পাদন লক্ষ্যমাত্রা অর্জন হবে না। এতে কৃষকরা ক্ষতিগ্রস্ত হবে। সঠিক সময়ে পানি না পাওয়ায় বোরো উত্পাদনে বিপর্যয়ের আশঙ্কা করছেন কৃষক।
খাজুরিয়া মাঠের স্কিমের ম্যানেজার মামুন আখন্দ, হুগলী মাঠের স্কিম ম্যানেজার সুমন ও হাটখোলা মাঠের স্কিম ম্যানেজার আবুল কাসেম বলেন, খালে পানি না থাকায় সেচ দিতে পারছি না। পানির অভাবে কিছু এলাকায় রোপণ করা ধানের চারা নষ্ট হওয়ার পথে। পানি না থাকায় বোরো চাষাবাদ বিপর্যয়ের মুখে রয়েছে। উপজেলা (ভারপ্রাপ্ত) কৃষি কর্মকর্তা মোঃ কবির হোসেন বলেন, মূলত খাল ভরাটের কারণে বিভিন্ন এলাকায় পানি সংকট সৃষ্টি হয়েছে। আমরা পানি উন্নয়ন বোর্ডকে তাগিদ দিয়েছি, যাতে তারা মেশিনের মাধ্যমে দ্রুত পানি সরবরাহ করে। আশা করছি ১৫ ফেব্রুয়ারির মধ্যে আমরা বোরো আবাদের লক্ষ্যমাত্রায় পৌঁছতে পারবো।
ফরিদগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সেচ ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি মোঃ আলী আফরোজ বলেন, বিভিন্ন এলাকায় কৃষি জমিতে পানি সংকট দূর করতে ব্যবস্থা নেয়ার জন্য পানি উন্নয়ন বোর্ডসহ সংশ্লিষ্টদের জানানো হয়েছে।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী (যান্ত্রিক) রুহুল আমিন বলেন, ১ জানুয়ারি পানি ছাড়া হয়েছে। কিন্তু কিছু অসচেতন লোক খালে অপরিকল্পিতভাবে স্থাপনা নির্মাণ করে পানি প্রবাহে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করেছে। যার কারণে যথাসময়ে খালগুলোতে পর্যাপ্ত পানি যাচ্ছে না। এ ব্যাপারে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার জন্য।
