ইন্দোনেশিয়ায় সিনোভ্যাক বিজ্ঞানীর মৃত্যুতে প্রশ্নের মুখে চীনা টিকা

আপডেট : ১০ জুলাই ২০২১, ২১:৩৭

রয়টার্স

ইন্দোনেশিয়ায় চীনের সিনোভ্যাক টিকার ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালের প্রধান বিজ্ঞানী নোফিলিয়া সফরি বাহতিয়ারের মৃত্যুতে নতুন করে প্রশ্নের মুখে পড়েছে চীনা কোভিড টিকার কার্যকারিতা। ইন্দোনেশিয়ায় ভাইরাস সংক্রমণ রেকর্ড পর্যায়ে থাকার সময়টিতেই গত বুধবার নোফিলিয়ার মারা যাওয়ার খবর জানায় দেশটির গণমাধ্যম। তিনি কোভিড আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন বলে স্থানীয় গণমাধ্যমগুলো সে কথাই জানিয়েছে। ইন্দোনেশিয়ায় মানুষকে ব্যাপক হারে দেওয়া হয়েছে চীনের সিনোভ্যাক টিকা। আর তাই সে দেশে এই টিকার ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালের অগ্রভাগে থাকা একজন বিজ্ঞানীর মৃত্যু টিকাটি আসলেই কতটা সুরক্ষা দেয়, সে প্রশ্নে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। ইন্দোনেশিয়ার বায়োফার্মা কোম্পানির কয়েক ডজন ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল এবং সিনোভ্যাকের কোভিড-১৯ টিকার ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালেরও প্রধান বিজ্ঞানী ছিলেন নোফিলিয়া। পশ্চিম জাভায় হাসপাতালে চিকিত্সাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান।

বায়োফার্মার একজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, নোফিলিয়াকে কোভিড-১৯ প্রোটোকল মেনে দাফন করা হয়েছে। তার মৃত্যুতে বায়োফার্মার ‘বিশাল ক্ষতি’ হলো বলে ইনস্টাগ্রামে এক পোস্টে শোক প্রকাশ করেছেন ইন্দোনেশিয়ার রাষ্ট্র-মালিকানাধীন এন্টারপ্রাইজবিষয়ক মন্ত্রী। সিনোভ্যাকের টিকা নেওয়ার পরও ইন্দোনেশিয়ায় অনেক চিকিত্সক এবং স্বাস্থ্যকর্মী করোনা ভাইরাস আক্রান্ত হয়েছেন এবং অনেকে মারাও গেছেন। সেদিক থেকে স্থানীয় গণমাধ্যমে প্রচার পাওয়া কোভিডে নোফিলিয়ার মৃত্যুর খবর কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়।

ইন্দোনেশিয়ার স্বাধীন ল্যাপর কোভিড-১৯ ডাটা গ্রুপের হিসাব মতে, গত জুন থেকে মূলত সিনোভ্যাকের টিকা নেওয়া প্রায় ১৩১ স্বাস্থ্যকর্মীর মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে জুলাইয়ে মারা গেছে ৫০ জন। এছাড়া, লাখো মানুষকে টিকাকরণের পরও গত বুধবার ইন্দোনেশিয়ায় প্রথমবারের মতো করোনা ভাইরাসে দৈনিক মৃত্যু এবং শনাক্ত দুই ক্ষেত্রেই রেকর্ড হয়েছে। একদিনে মারা গেছে ১ হাজারের বেশি মানুষ এবং শনাক্ত হয়েছে ৩৪, ৩৭৯ জন। করোনা ভাইরাসের ডেলটা ধরনের বিস্তারেই  সংক্রমণের এই নতুন ঢেউ শুরু হয়েছে দেশটিতে। গত মাসে চীনের এক গবেষক জানিয়েছিলেন, সারা বিশ্বে আধিপত্য বিস্তার করা করোনা ভাইরাসের ‘ডেলটা ধরনের’ বিরুদ্ধে চীনে তৈরি দুটি টিকা ‘কম কার্যকর’।