কাবুল বিমানবন্দরের নিরাপত্তা নিয়ে তুরস্ক-যুক্তরাষ্ট্র ঐকমত্য

আপডেট : ১০ জুলাই ২০২১, ২১:৩৭

এএফপি ও রয়টার্স

আফগানিস্তান থেকে মার্কিন সৈন্য প্রত্যাহারের পর তুর্কি বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে কাবুল বিমানবন্দর কীভাবে সুরক্ষিত রাখা যায় তার ‘সুযোগ’ নিয়ে ওয়াশিংটন ও আঙ্কারা ঐকমত্য পৌঁছেছে। তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তায়িপ এরদোগান শুক্রবার এ কথা জানান। তিনি আরো বলেন, আফগানিস্তান থেকে সব বিদেশি সেনা প্রত্যাহারের কারণে সেখানে নিরাপত্তা হুমকি বাড়ছে। তুর্কি সেনারা কীভাবে বিমানবন্দরের নিরাপত্তা রক্ষা করবে সে বিষয়গুলো নিয়েও বিস্তারিত সমঝোতা হয়েছে দুই দেশের মধ্যে।

আগামী ৩১ আগস্টের মধ্যে আফগানিস্তান থেকে নিজেদের সব সেনা প্রত্যাহারের ঘোষণা দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন। তার আগেই কাবুলে হামিদ কারজাই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের দায়িত্ব নিতে চলছে তুরস্ক। এরদোগান বলেন, বৃহস্পতিবার বিষয়টি নিয়ে তুরস্ক ও মার্কিন প্রতিরক্ষা মন্ত্রী কথা বলেছেন। তিনি বলেন, ‘আমেরিকা ও ন্যাটোর সঙ্গে আলোচনাকালে মিশনের সুযোগ এবং আমরা কি গ্রহণ করব কি করব না তা নিয়ে সিদ্ধান্ত নিয়েছি।’

ব্রাসেলসে জুন মাসে অনুষ্ঠিত ন্যাটো সম্মেলনের ফাঁকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের সঙ্গে এরদোগানের বৈঠকের পরিপ্রেক্ষিতে তুরস্ক এ উদ্যোগ নিয়ে এগিয়ে এসেছে। ঐ সাক্ষাতে কাবুল বিমানবন্দরের নিরাপত্তা রক্ষার দায়িত্ব গ্রহণ করতে নীতিগতভাবে সম্মত হয় তুরস্ক। এজন্য এরদোয়ানকে ধন্যবাদও জানিয়েছিলেন বাইডেন। এদিকে হামিদ কারজাই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নিরাপত্তায় নেতৃস্থানীয় ভূমিকা পালনে তুরস্কের স্পষ্ট অঙ্গীকারের প্রশংসা করেছে যুক্তরাষ্ট্র।

উল্লেখ্য, পশ্চিমা কুটনীতিক ও ত্রাণ কর্মীরা মূলত কাবুল বিমানবন্দর ব্যবহার করে থাকেন। কিন্তু মার্কিন সৈন্য প্রত্যাহারের পর এটি তালেবানের দখলে যায় কি-না, তা নিয়ে মূল উদ্বেগের প্রেক্ষাপটে ন্যাটো চাচ্ছিল দ্রুতই এর সমাধান হোক। এদিকে আফগানিস্তানে ২০০১ সাল থেকে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালনকারী তুরস্ক দেশটিতে তার শত শত সামরিক সদস্য মোতায়েন করেছে।

সম্প্রতি আফগানিস্তান-তাজিকিস্তান সীমান্তের দুই-তৃতীয়াংশের বেশি এলাকা দখলে নিয়েছে তালেবান। এছাড়া তালেবানের দাবি, তাদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে পুরো আফগানিস্তানের ৮৫ শতাংশ এলাকা। যদিও এরই মধ্যে তারা ঘোষণা দিয়েছে নতুন করে কোনো প্রশাসনিক শহরে হামলা করবে না তালেবান।