‘ফাইজার ও মডার্নার টিকার সঙ্গে হূদ্যন্ত্রের প্রদাহের সম্পর্ক আছে’

আপডেট : ১০ জুলাই ২০২১, ২১:৩৮

বিবিসি

ফাইজার ও মডার্নার কোভিড-১৯ টিকায় ‘অতি বিরল’ ক্ষেত্রে পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হিসেবে হূদযন্ত্রে প্রদাহ হয় বলে জানিয়েছে ইউরোপের ওষুধ নিয়ন্ত্রক সংস্থা। তরুণদের মধ্যে এই পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া তুলনামূলক বেশি দেখা যাচ্ছে, বলেছে ইউরোপিয়ান মেডিসিন এজেন্সি (ইএমএ)। তবে পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া থাকলেও টিকার উপকার এখনো এর ঝুঁকির তুলনায় অনেক বেশি বলে তারা আশ্বস্ত করেছে।

হূদযন্ত্রে প্রদাহের উপসর্গ সম্বন্ধে সচেতন হতে ইএমএ চিকিত্সক ও রোগীদের পরামর্শ দিয়েছে। এসব উপসর্গের মধ্যে আছে বুকে ব্যথা, শ্বাসকষ্টের অনুভূতি, বুক ধড়ফড় করা এবং এলোপাথাড়ি হূত্স্পন্দন। টিকা নেওয়ার পর এই ধরনের উপসর্গ দেখা দিলে চিকিত্সকের কাছে যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছে ইউরোপের নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি। ইএমএ জানাচ্ছে, তারা ১৭ কোটি ৭০ লাখ ডোজ ফাইজার বায়োএনটেক টিকায় ১৪৫ জনের ‘মায়োকার্ডিটিস’ বা হূদযন্ত্রের পেশির প্রদাহ এবং ১৩৮ জনের ক্ষেত্রে ‘পেরিকার্ডিটিস’ বা হূদপিণ্ডে থাকা তরল পদার্থেও থলিতে প্রদাহের কথা জানতে পেরেছে। আর মডার্নার ২ কোটি ডোজে ‘মায়োকার্ডিটিস’ পেয়েছে ১৯ জনের, ‘পেরিকার্ডিটিস’ ১৯ জনের। এসব ক্ষেত্রে মোট পাঁচ জনের মৃত্যু হয়েছে। তবে তারা হয় বেশি বয়সি নয়তো তাদের অন্য শারীরিক সমস্যা ছিল, বলছে ইএমএ।

ফাইজার ও মডার্নার টিকার সঙ্গে হূদযন্ত্রে প্রদাহের যোগ নিয়ে তদন্ত করছে যুক্তরাজ্যের ওষুধ ও স্বাস্থ্যসেবা উপকরণ নিয়ন্ত্রক সংস্থা এমএইচআরএ। তাদের প্রতিবেদনে টিকার দ্বিতীয় ডোজ নেওয়ার পর ধারণার চেয়েও বেশি তরুণের হূদযন্ত্রে প্রদাহ দেখা গেছে বলে জানানো হয়েছে। তারা বলেছে, ‘খুবই বিরল ক্ষেত্রে এই পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার কথা জানা যায়; প্রায় সব ঘটনাতেই সামান্য প্রদাহ হয়েছে এবং সাধারণ চিকিত্সা ও বিশ্রামে স্বল্প সময়ের মধ্যে সবাই সুস্থ হয়ে উঠেছে।’