ইংল্যান্ড না ইতালি, কে লিখবে রূপকথা

আপডেট : ১০ জুলাই ২০২১, ২১:৩৯

ইউরোর ফাইনাল আজ

মুখোমুখি ইতালি ও ইংল্যান্ড

 সোহেল সারোয়ার চঞ্চল

বাংলাদেশের ফুটবল দর্শক এতক্ষণে কোপার ফাইনালে বসে গেছেন। মারাকানার ম্যাচে যাই হোক রাতে দর্শকের জন্য আরেকটি ফাইনাল অপেক্ষা করছে। এবার ইউরোর ফাইনালে চোখ। আজ রাতে ১টায় লন্ডনের ওয়েম্বলি স্টেডিয়ামে দুই জায়ান্ট ইতালি এবং ইংল্যান্ড মুখোমুখি হবে। রূপকথা লেখার রাত আজ।

লন্ডন এবং ইতালিতে ফুটবলের মহোত্সব চলছে। বিশেষ করে যারা স্টেডিয়ামের বাইরে আছেন তারা বড় পর্দায় ভিড় করবেন, প্রস্তুতি নিচ্ছেন।

ইংল্যান্ডে আজকের রবিবার অন্যরকম এক উত্সব এনে দিচ্ছে। কারণ এই লন্ডনে এখন শুধুই ফুটবল না, আজ উইম্বল্ডন টেনিস ফাইনাল, ক্রিকেট সিরিজে খেলছে ইংল্যান্ড-পাকিস্তান, আরো বেশি কিছু খেলা চলছে। সবকিছু ছাপিয়ে সবার আগে এগিয়ে ইউরোর ফুটবল ফাইনাল। কারণ এই ফাইনাল ইংলিশদের ৫৫ বছরের অপেক্ষা। ইংলিশদের আবেগের জায়গাটা পুরো দখল করে নিয়েছে ইউরো ফাইনাল। যে কোনোভাবেই হোক তারা ট্রফি চায়।

 ১৯৬৬ বিশ্বকাপে চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল ইংল্যান্ড। তার পর আর ফাইনালে মঞ্চে উঠার টিকিট পায়নি ইংলিশরা। কয়েক প্রজন্ম এসেছে সবাই শুনে গেছে আরেকটি ট্রফি না পাওয়ার আক্ষেপের কথা। বড় বড় টুর্নামেন্টের সেমিফাইনালে উঠেও ইংলিশরা ফাইনালের টিকিট পায়নি। ২০১৮ বিশ্বকাপের ফাইনালে খেলার স্বপ্ন দেখলেও সেটি হয়নি। সেই ইংলিশদের সামনে আজ ট্রফি জয়ের হাতছানি।

এবারের ইউরোতে ইংল্যান্ড তার সব ম্যাচই ঘরের মাঠে খেলেছে। একটা ম্যাচের জন্য ইতালি যেতে হয়েছিল। সেটি ছিল প্রিকোয়ার্টার ফাইনাল খেলতে, ইউক্রেনের বিপক্ষে। তার আগেই ইংল্যান্ডের জন্য সবচেয়ে বড় বাধা জার্মানিকে সরিয়ে দিয়েছিল এই ওয়েম্বলিতেই। সেই মাঠেই আজ ইতালিকে হারিয়ে ট্রফি উঁচিয়ে ধরতে চান ইংলিশ ফুটবলের বরপুত্র হ্যারি কেইন। 

দেশের মাটিতে খেলা। ওয়েম্বলির মাঠে আগের সেমিফাইনালে ৬০ হাজার দর্শক খেলা দেখেছেন। আজ ফাইনালেও স্টেডিয়াম ভরবে অন্তত ৬০ হাজার দর্শকে। যদি প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন বাড়তি ৩০ হাজার দর্শক অনুমতি না পান, তারপরও ইংলিশরা গলা ফাটিয়ে প্রতিপক্ষ ইতালিকে বাধা দেবেন।

ইংল্যান্ডের আছে আক্রমণে শক্তিশালী সব অস্ত্র। হ্যারি কেইন ছাড়াও রাহিম স্টারলিং, সাকা, অ্যান্ডারসন, ফিলফোডেন ইতালির রক্ষণকে ভাঙন ধরাতে কোচ গ্যারেথ সাউথগেট মন্ত্র পড়িয়েছেন। ইংল্যান্ড রক্ষণও খুব শক্তিশালী।

হ্যারি কেইনদের ঠেকাতে ইতালির ঘরে আছে লিওনার্দো বুনোচ্চি, কিয়েসা, বারেল্লা, লরেঞ্জো, জর্জিও চিলিনি, এমারসন, জর্জিওদের মতো পরীক্ষিত ফুটবলাররা। কোচ রবার্টো মার্টিনেজ একটা মালা গেঁথেছেন এদের নিয়ে। 

ইউরোর ট্রফি নেই ইংল্যান্ডের ঘরে। যেটা আছে ইতালির ঘরে, ১৯৬৮। চারবারের বিশ্বকাপ জয়ী ইতালি তাদের নতুন প্রজন্মের হাতে ইউরোর ট্রফি তুলে দিতে চায়।

২০০৬ জার্মানি বিশ্বকাপে চ্যাম্পিয়ন ইতালি ২০১৮ রাশিয়া বিশ্বকাপ ফুটবলের চূড়ান্ত পর্বে উঠতে পারেনি। পথ হারিয়ে ছিল, ইতালির ফুটবল ছিল ইউরোপেও, ইতালির ফুটবল সেই মর্যাদায় ছিল না। খাদের কিনারা হতে নতুন করে রূপকথার ফুটবল লিখতে আবার উঠে আসছে ইতালি। রাবার্টো মানচিনি ইতালিকে নতুন করে পথ দেখাচ্ছেন। তার হাতে পড়ে টানা ৩৩ ম্যাচ হারেনি। আজ সেই মাহেন্দ্রক্ষণ, ইতালি অপরাজিত থাকার রেকর্ড রাখতে পারবে, না কি ইংল্যান্ডকে হারিয়ে ট্রফি উঁচিতে চৌত্রিশে পা দেবে।    

ইতালির

জয়

১১

ইংল্যান্ডের

জয়

৮

ড্র

৮