স্পোর্টস রিপোর্টার
আনুষ্ঠানিক ঘোষণা এখনো আসেনি। অপেক্ষা শুধু প্রকাশ্যে মাহমুদউল্লাহ রিয়াদের সরাসরি ভাষ্যের। অবশ্য তার আগেই ক্রিকেট দুনিয়ায় চাউর হয়ে গেছে টেস্ট ক্রিকেটকে বিদায় বলতে যাচ্ছেন মাহমুদউল্লাহ। হারারে টেস্টের দ্বিতীয় দিনে ক্যারিয়ারের পঞ্চম সেঞ্চুরির পরই বিকালে টিম মিটিংয়ে অবসর নেওয়ার ইচ্ছার কথা জানিয়েছিলেন তিনি। দলের অন্দরমহলে চাপা থাকেনি খবরটা।
ম্যাচের তৃতীয় দিন শেষে বাংলাদেশের দাপট ছাপিয়ে আলোচনার ঝড় তুলেছিল হঠাত্ মাহমুদউল্লাহর টেস্টকে বিদায় বলার ইচ্ছা। গতকাল বিসিবির বিশ্বস্ত সূত্র জানিয়েছে, আর টেস্ট খেলতে চান না, টিম মিটিংয়ে জানিয়েছেন অভিজ্ঞ এ ক্রিকেটার। হারারে টেস্টের পরই সাদা পোশাকের ক্যারিয়ারে ইতি টানতে চান। সেখানেও চূড়ান্ত কিছু বলেননি, শুধু জানিয়েছেন নিজের ইচ্ছার কথা। তবে হুট করেই তার মুখে এমন কথা শুনে বিস্মিত হয়েছিলেন ক্রিকেটার, কর্মকর্তারা।
মাহমুদউল্লাহর অবসর নেওয়ার বিষয়টি বিব্রত করেছে বিসিবিকেও। কারণ যাওয়ার আগে তিন ফরম্যাটে খেলবেন বলে চুক্তিপত্রে স্বাক্ষর করে গেছেন তিনি। এমনকি শেষ মুহূর্তে টেস্ট দলে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছিল তাকে। বিসিবির ঊর্ধ্বতনদের চেষ্টায় কোনো পারফরম্যান্স ছাড়াই ১৬ মাস পর টেস্ট দলে ফেরানো হয় মাহমুদউল্লাহকে। এটা সবারই জানা যে, টিম ম্যানেজমেন্ট তাকে আর লাল বলের ক্রিকেটে চায় না।
ক্যারিয়ারের ৫০তম টেস্টে সেঞ্চুরি, অপরাজিত ১৫০ রান করে রাজকীয় প্রত্যাবর্তন হয়েছে মাহমুদউল্লাহর। এমন ইনিংসের পরই অবসর ভাবনা প্রকাশ করলেন তিনি। হয়তো ব্যর্থতা নয়, মধুর স্মৃতি নিয়েই বিদায় বলতে চেয়েছেন এবং এটিই তার কাছে সঠিক সময় মনে হয়েছে।
কিন্তু টেস্ট দলে তাকে ফেরাতে চেষ্টা করা বিসিবির কর্তাদের জন্য এটি রীতিমতো আকাশ থেকে পড়ার মতোই খবর। সূত্র জানায়, টি-২০ অধিনায়কের এমন আচরণে হতাশ বিসিবি সভাপতি নাজমুল হাসান পাপন।
বিসিবির এক কর্মকর্তা গতকাল বলেছেন, ‘অবশ্যই এটা আশা করিনি। আমাদের লজ্জায় ফেলেছে। আমরা তাকে টেস্ট দলে ফেরাতে অনেক কিছু করেছি। কারণ সবাই জানে কোচ তাকে লাল বলের ক্রিকেটে দলে নিতে রাজি ছিল না।’
মাহমুদউল্লাহর কাজে অপেশাদার আচরণও দেখছে বিসিবি। কারণ একটা ম্যাচ চলার মাঝপথে অবসরের কথা বলেছেন তিনি। যা দলের ফোকাস নাড়িয়ে দিতে যথেষ্ট। বিসিবির ঐ কর্মকর্তা বলেন, ‘সে সিনিয়র ক্রিকেটার এবং আমরা আশা করি সে দায়িত্বশীল কাজ করবে।’
অভিমানে-আবেগে এমন সিদ্ধান্ত কি না, তা বোঝার চেষ্টা করছে বিসিবি। অবসরের ঘোষণা না দেওয়ার জন্যও তাকে অনুরোধ করেছে বিসিবি। যদিও মাহমুদউল্লাহর ঘনিষ্ঠ সূত্র জানিয়েছে, অবসরের সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসতে চান না তিনি। জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে সেঞ্চুরি করে টেস্ট ক্রিকেটে নিজেকে প্রমাণ করেছেন। এখন তৃপ্ত তিনি। ম্যাচ শেষেই বিদায় বলতে চান মাহমুদউল্লাহ।
