থানার পুলিশপ্রধান আর কত দিন ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা থাকবেন?

আপডেট : ১০ জুলাই ২০২১, ২১:৫১

থানার পুলিশ প্রধানকে আর কত কাল ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বলা হবে? তারা তো ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা নন, তারা তো পূর্ণ প্রথম শ্রেণির সরকারি কর্মকর্তা। পূর্বে প্রতিটি থানায় বেশ কয়েক জন সিপাহি, কয়েক জন অ্যাসিস্টেন্ট সাব ইন্সপেক্টর বা এএসআই এবং কয়েক জন সাব-ইন্সপেক্টর বা এসআইয়ের পদ ছিল। থানা এলাকার লোকসংখ্যা, উন্নয়ন ও অঞ্চল ভেদে থানার কনস্টেবল, এএসআই ও এসআইয়ের সংখ্যা কম বা বেশি থাকত—যা এখনো রয়েছে। সাব-ইন্সপেক্টর বা এসআই পদটি আগে ছিল তৃতীয় শ্রেণির সরকারি কর্মচারীর পদ। তৃতীয় শ্রেণির কর্মচারীকে থানার প্রধান করা যায় না। সেজন্য সাব-ইন্সপেক্টর বা এসআইদের মধ্য হতে সিনিয়র ও দক্ষ কোনো একজনকে থানার অফিসারের দায়িত্ব দিয়ে থানা পরিচালনা করা হতো এবং তাকেই বলা হতো অফিসার-ইন-চার্জ বা ওসি। কিন্তু বর্তমানে থানাপ্রধান কোনো দায়িত্বপ্রাপ্ত বা ভারপ্রাপ্ত অফিসার নন, তিনি একজন ইন্সপেক্টর পদের পূর্ণ প্রথম শ্রেণির সরকারি কর্মকর্তা। একজন প্রথম শ্রেণির সরকারি কর্মকর্তাকে ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বলাটা কি চরম অশোভনীয় এবং অসম্মানজনক বিষয় নয়?

ভাবতেও আশ্চর্য লাগছে এজন্য যে, দেশের মাঠপর্যায়ের এত বড় গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টি পুলিশ প্রশাসন, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, আইন মন্ত্রণালয় ও সরকারের দৃষ্টিতে এ যাবত্ এলো না কেন, সেটি ভেবে! যখন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার (সাব-ইন্সপেক্টর) পদটিকে আপগ্রেড করে ইন্সপেক্টর পদে অর্থাত্ প্রথম শ্রেণির পদে উন্নীত করা হয়েছিল তখনই পুলিশ কোড, ক্রিমিনাল প্রসিডিউর কোড এবং পেনাল কোডে থানার ভারপ্রাপ্ত শব্দটির সংশোধন করা জরুরি ছিল। অথচ তখনো সংশোধন করেনি, এমনকি আজ পর্যন্তও সংশোধন করা হয়নি। এই সংশোধনীর জন্য জাতিসংঘের সংখ্যাগরিষ্ট ভোট বা অনুমোদনের প্রয়োজন তো ছিল না বা এখনো নেই। তাহলে বিষয়টি এত দিনেও সংশোধন না করার কারণটা কী?

লায়ন অ্যাডভোকেট এম এ মজিদ

চেয়ারম্যান, জাতীয় সাংবাদিক সোসাইটি ও ওয়ার্ল্ড পিস অ্যান্ড হিউম্যান রাইটস সোসাইটি, ঢাকা।