ডব্লিউটিওতে সুবিধা পেতে রাজনৈতিক প্রচেষ্টা লাগবে :দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য

আপডেট : ১০ জুলাই ২০২১, ২২:০৮

ইত্তেফাক রিপোর্ট

সম্প্রতি বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থা (ডব্লিউটিও) বাণিজ্যসংক্রান্ত মেধাস্বত্ব চুক্তির (অ্যাগ্রিমেন্ট অন ট্রেড রিলেটেড অ্যাসপেক্টস অব ইন্টালেকচুয়াল প্রোপার্টি রাইটস বা ট্রিপস) অধীনে স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) জন্য অন্তর্বতীকালীন সময় বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এই সিদ্ধান্ত এলডিসি তালিকা থেকে বের হওয়ার ক্ষেত্রে বাংলাদেশের উত্তরণকালীন কৌশল নির্ধারণের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তবে এলডিসি থেকে উত্তরণের পর বাণিজ্য সুবিধা পাওয়ার দিকেই বেশি মনোযোগ দিচ্ছে বাংলাদেশের নীতিনির্ধারকরা। বিশেষ করে তৈরি পোশাকের বাণিজ্যসুবিধার বিষয়ে বেশি প্রাধান্য দেওয়া হচ্ছে। কিন্তু এলডিসি থেকে উত্তরণের পর বাংলাদেশ বাণিজ্যসুবিধা হারালে কীভাবে পরিস্থিতি মোকাবিলা করবে, তা নিয়ে আলোচনা কম হচ্ছে। ডব্লিউটিওতে সুবিধা পেতে স্বাভাবিক প্রক্রিয়ার সঙ্গে সঙ্গে রাজনৈতিক প্রচেষ্টা লাগবে বলে মনে করেন বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য। গতকাল শনিবার সাংবাদিকদের সঙ্গে ভার্চুয়াল আলাপচারিতায় তিনি এ মন্তব্য করেন।

‘ডব্লিউটিও কর্তৃক ট্রিপস চুক্তির এলডিসি সংক্রান্ত ধারা সংশোধন:গ্র্যাজুয়েটিং বাংলাদেশের জন্য তাত্পর্য শীর্ষক ওই আলাপচারিতায় বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) সম্মাননীয় ফেলো ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য আরো বলেন, সম্প্রতি ওষুধ শিল্প ছাড়া মেধাস্বত্ব চুক্তির সাধারণ ধারায় স্বল্পোন্নত দেশগুলোকে আরো ১৩ বছরের জন্য ছাড় দেওয়া হয়েছে। ফলে পেটেন্ট, কপিরাইট, ভৌগোলিক নির্দেশক, শিল্পের নকশা, বিনিয়োগকারীর তথ্য উপাত্ত সুরক্ষাসহ বিভিন্ন বিষয়ে বাধ্যবাধকতার শর্ত শিথিল থাকবে। কিন্তু ২০২৬ সালে বাংলাদেশ এলডিসি থেকে বের হয়ে গেলে এই সব শর্ত মানতে হবে। সেই পরিস্থিতি মোকাবিলায় বাংলাদেশে আলোচনা নেই বললেই চলে। এ ছাড়া কোভিড পরিস্থিতিতে স্বাস্থ্য খাতে বিশেষ করে করোনার টিকা বানানোয় মেধাস্বত্বের শর্তসমূহে ছাড় দেওয়ার জন্য ভারত ও দক্ষিণ আফ্রিকার একটি প্রস্তাব ডব্লিউটিওতে আছে। ইতিমধ্যে যুক্তরাষ্ট্র এই প্রস্তাবের পক্ষে সমর্থন দিয়েছে। বাংলাদেশ ওষুধ শিল্পের এলডিসির অন্য দেশের তুলনায় ভালো করেছে। কিন্তু ওই প্রস্তাবটি নিয়েও বাংলাদেশে তেমন আলোচনা নেই।

আগামী ২৬ ও ২৭ জুলাই সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় ডব্লিউটিওর সাধারণ কাউন্সিলের সভায় ট্রিপস নিয়ে আলোচনা হবে। সেখানে এলডিসি তালিকা থেকে বের হলেও একটি দেশ মেধাস্বত্ব চুক্তির আওতায় বাণিজ্যসুবিধা পেতে পারে কি না, এই আলোচনা হবে। ঐ সভায় মেধাস্বত্ব চুক্তির আওতায় ওষুধ শিল্পের সুবিধা নিয়ে বেশি আলোচনা হতে পারে। বাংলাদেশের এই সুবিধা পেতে ডব্লিউটিওতে স্বাভাবিক দর-কষাকষির পাশাপাশি রাজনৈতিক প্রচেষ্টাও লাগবে। এ জন্য বিভিন্ন দেশে অবস্থিত বাংলাদেশের দূতাবাসগুলোকে কাজে লাগাতে হবে। এজন্য আগামী দুই সপ্তাহ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

তিনি আরো বলেন, ডব্লিউটিওর সাধারণ কাউন্সিলের বৈঠকে ঐকমত্যে পৌঁছাতে না পারলে আগামী ৩০ নভেম্বর থেকে ৩ ডিসেম্বর মন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠকেও বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করার সুযোগ আছে। কিন্তু বাংলাদেশের নীতিনির্ধারণী মহলের মধ্যে পুরো বিষয়টি নিয়ে অনীহা আছে। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এ ধরনের ফোরামে সরকারিভাবে যে ধরনের উদ্যোগ নেওয়া হয় তার চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠে রাজনৈতিক সদিচ্ছা কতটা আছে তার ওপর। তাছাড়া এলডিসিভুক্ত সব দেশের জন্য সুবিধা যেমন চাওয়ার সুযোগ রয়েছে তেমনি পৃথক দেশ হিসেবে বাংলাদেশের জন্য আলাদা সুবিধা চাইবারও সুযোগ থাকে। এলডিসি থেকে বেরিয়ে যাওয়ার পর বাণিজ্যসুবিধা পেতে সরকারিভাবে বিভিন্ন দেশের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বা মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। কিন্তু সব বাণিজ্য চুক্তিতে মেধাস্বত্বের বিষয়গুলো অবধারিতভাবে চলে আসবে। এজন্য এ বিষয়গুলো নিয়ে এখনই নীতিনির্ধারকদের ভাবতে হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।