প্রতি বছর ব্যবসায়ীদের মধ্যে ব্যাপক প্রতিযোগিতার কারণে বেড়ে যায় কোরবানির পশুর বাজারের ইজারামূল্য। ইজারার বাড়তি টাকার চাপ পড়ে গরু বিক্রেতাদের ওপর। গরু বিক্রি করতে না পারলেও গরু রাখার ভাড়া দিয়ে যেতে হয় তাদের। চট্টগ্রামে কোরবানির পশুর বাজারগুলোতে স্টল বুকিং চলছে। খামারি ও ব্যাপারীরা বাজারে গরু রাখার জন্য আগেভাগে সুবিধাজনক স্থানে বুকিং দিয়ে রাখছে। তবে স্টল বুকিং নিয়ে বাড়তি টাকা আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। বাজারভেদে প্রতি স্টল বাবদ ২০ হাজার থেকে ৩০ হাজার টাকা ভাড়া আদায় করা হচ্ছে।
করোনা ভাইরাসের কারণে এবার নগরী ও জেলায় কোরবানির পশুর বাজার কমিয়ে আনা হয়েছে। নগরীতে স্থায়ী ও অস্থায়ী নিয়ে ছয়টি পশুর বাজার ইজারা দিয়েছে সিটি করপোরেশন। এবার উপজেলাগুলোতে কোরবানির পশুর বাজার গতবারের চেয়ে কম ইজারা দেওয়া হয়েছে। সংক্রমণ ঠেকাতে প্রশাসনের এই উদ্যোগ। তবে পশুর বাজার কমানোর কারণে জনসমাগম বেশি হওয়ার আশঙ্কাও করছেন কেউ কেউ। নগরী থেকে কর্ণফুলী সেতু পার হয়ে মইজ্জ্যারটেকে গেলেই দেখা যাবে কোরবানির পশুর বিশাল বাজার বসেছে। সেখানে পশুর বাজার ইজারা নিয়ে তীব্র প্রতিযোগিতা চলে। প্রতিযোগিতার কারণে বাজারের ইজারামূল্য বেশি হয়ে যায়। এতে ইজারাদার লাভের টাকা তুলতে বাজারে গরু বিক্রেতাদের ওপর বাড়তি ভাড়া চাপিয়ে দেন। মইজ্জ্যারটেক পশুর বাজারের ইজারাদার জামশেদ খান বলেন, ‘আমাদের বাজারে বিভিন্ন ব্যাপারী ও খামারিরা গরু রাখার জন্য বুকিং দিচ্ছেন। একটি স্টলে বড় গরু ১৫টি ও ছোট ২০/২২টি গরু রাখা যাবে। স্টলপ্রতি শেষ বাজার পর্যন্ত ২২ হাজার টাকা ভাড়া আদায় করা হচ্ছে। ইতিমধ্যে দুই শতাধিক স্টল বুকিং হয়ে গেছে। এখানে আমরা তেরপল, বৈদ্যুতিক বাল্ব, খাবার হোটেল ও টয়লেটের ব্যবস্থা করেছি। গত বছর এই হাটের ইজারামূল্য ছিল ১ কোটি ১৬ লাখ টাকা। আর এবার ইজারা হয়েছে ২ কোটি ৬৫ লাখ টাকায়।’
নগরীতে কোরবানির পশুর সবচেয়ে বড় বাজার সাগরিকা পশুর হাট। এটি স্থায়ী বাজার হওয়ায় ইজারামূল্য বেশি। গত বছরের চেয়ে ৫০ লাখ টাকা বাড়িয়ে এবার ১১ কোটি টাকায় ইজারা হয়েছে। বাজারটির স্থায়ী কোনো জায়গা নেই। সড়কের পাশে ও খোলা জায়গায় গরু রাখা হয়। ফলে জায়গার মালিকরা গরু রাখার জন্য বাঁশ বেঁধে তেরপল দিয়ে ব্যবস্থা করেন। তারাই বিক্রেতাদের কাছ থেকে গরু রাখা বাবদ ভাড়া আদায় করে। এবারও স্ব স্ব জায়গার মালিকরা স্টল তৈরি করে রেখেছে। ইজারাদার আবুল কালাম বাবুল বলেন, প্রতিযোগিতার কারণে ইজারামূল্য বেশি হয়ে যায়। এবার করোনার কারণে বাজারে পর্যাপ্ত গরু আসবে কি না—তা নিয়ে শঙ্কায় আছি। বাজারে গরু রাখার ভাড়া জায়গার মালিক ও স্থানীয় কিছু লোক আদায় করে। আমরা শুধু হাসিল আদায় করি।’
খামারি ইকবাল হোসেন বলেন, আমরা ইতিমধ্যে অনলাইনে বেশ কয়েকটি গরু বিক্রি করেছি। বাকি গরু কোরবানির পশুর বাজারে নেওয়া হবে। তাই আগেভাগে স্টল বুকিং দিতে হচ্ছে। বাজারগুলোতে স্টল ভাড়া বাবদ ইজারাদার অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করছে। এই ভাড়া বাবদ আমাদের প্রচুর টাকা গুনতে হয়।’
